kalerkantho


অবাক পৃথিবী

তারকা প্রাণী

কোনোটি যুদ্ধ দেখেছে, করেছে কোনোটি। কোনোটি আবার বিখ্যাত কারোর সঙ্গী—তারকাখ্যাতি পাওয়া তেমন কয়েকটি প্রাণীর খবর জানাচ্ছেন আহমেদ বায়েজীদ

১৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



তারকা প্রাণী

সার্জেন্ট স্টাবি

মারজান দ্য লায়ন

১৯৭৮ সালে জার্মানির কোলন শহর থেকে আফগানিস্তানের কাবুল চিড়িয়াখানায় আনা হয় দুই বছর বয়সী সিংহ মারজানকে। কাবুল চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ছিল মারজান।

সিংহটি আফগানিস্তানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ঘটনাবলিরও সাক্ষী। কমিউনিস্টদের উত্থান, রাশিয়ার আগ্রাসন ও পরবর্তী গৃহযু্দ্ধসহ বিভিন্ন ঘটনায় কাবুল চিড়িয়াখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বেঁচে যায় মারজান। বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরে ১৯৯৫ সালে এক আফগান লুকিয়ে মারজানের খাঁচায় ঢোকে। কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করলে তাকে হত্যা করে সিংহটি। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে পরদিন নিহত আফগানের ভাই মারজানের খাঁচায় তিনটি হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। গ্রেনেডের আঘাতে গুরুতর আহত হয় মারজান। তার চোখ, মুখসহ বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। বিশ্বব্যাপী প্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর বিভিন্ন দেশের প্রাণী অধিকার সংরক্ষণকর্মীরা মারজানকে দেখতে আসে। রীতিমতো তারকাখ্যাতি পায় অন্ধ মারজান। তবে গুরুতর ওই আঘাতের পর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে তার শরীর। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে মারা যায় মারজান। চিড়িয়াখানা চত্বরে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজির ছিল কয়েক হাজার লোক।

 

জ্যাকসনের বাবলস

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের পোষা শিম্পাঞ্জি বাবলসও খ্যাতিমান। ১৯৮৬ সালে টেক্সাসের একটি ক্যান্সার গবেষণাকেন্দ্র থেকে তিন বছর বয়সী শিম্পাঞ্জিটিকে আনেন জ্যাকসন। সারাক্ষণ এটিকে সঙ্গেই রাখতেন। ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়িতে জ্যাকসনের বেডরুমেই আলাদা একটি বিছানায় ঘুমাতো বাবলস। বাহারি সব পোশাক পরত প্রাণীটি। মুনওয়াকসহ মাইকেল জ্যাকসনের বেশ কিছু নাচ রপ্ত করেছিল বাবলস। ‘ব্যাড’ অ্যালবামের ভিডিওতেও অংশ নিয়েছিল। আশির দশকের শেষ দিকে জ্যাকসনের ব্যাড ওয়ার্ল্ড টুরে সঙ্গী ছিল বাবলস। জাপানে মাইকেল জ্যাকসন ও ওসাকার মেয়রের সঙ্গে পাশাপাশি বসে বাবলসের চা পানের দৃশ্য বিশ্বে  আলোড়ন তুলেছিল। ২০০৩ সালে জ্যাকসন বাবলসকে একজন পশু প্রশিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করেন। ২০০৫ সালে ফ্লোরিডার একটি পশু আশ্রয়কেন্দ্রে মারা যায় বাবলস।

 

শের অ্যামি দ্য পিজিয়ন

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর হয়ে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেছে শের অ্যামি নামের একটি কবুতর। সামরিক বার্তা বহনে কবুতরের প্রচলন প্রাচীনকাল থেকেই। তবে শের অ্যামির বীরত্ব ছিল চমক জাগানিয়া। যুদ্ধের সময় ফ্রান্সে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সিগন্যাল ডিভিশন এই কবুতরটিকে প্রশিক্ষণ দেয়। ১৯১৮ সালের অক্টোবরে মার্কিন বাহিনীর পাঁচ শর বেশি সৈন্য ফ্রান্সের অরকন বনাঞ্চলে জার্মান বাহিনীর ফাঁদে আটকা পড়ে। তাদের গোলাবারুদ ও খাদ্য ফুড়িয়ে আসে। চারদিন ধরে তাদের ওপর গ্রেনেড ও স্নাইপার হামলা চালাতে থাকে জার্মানরা। চিনতে না পেরে আরেক দিক থেকে মিত্রবাহিনীও গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় কয়েকটি কবুতর দিয়ে ঘাঁটিতে বার্তা পাঠান ক্যাপ্টেন হোয়াইটলেসি। অ্যামিও ছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু জার্মান সেনারা বার্তাবাহী কবুতর সম্পর্কে সচেতন ছিল। তারা ওই অঞ্চল থেকে কবুতর উড়তে দেখলেই গুলি করে মেরে ফেলত।  

বার্তা নিয়ে উড়াল দেওয়ার পর অ্যামির দুই সঙ্গী নিহত হয়। অ্যামির গায়েও গুলি লাগে; কিন্তু বুকে গুলি খেয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েও আবার উঠে দাঁড়ায় কবুতরটি। আহত শরীর নিয়ে মাত্র ৬৫ মিনিটে সে ২৫ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পে পৌঁছায়। ততক্ষণে তার শরীর রক্তে লাল হয়ে গেছে। বার্তা পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করা হয় আটকে পড়া সৈন্যদের। যুদ্ধের পর জাতীয় বীরে পরিণত হয় অ্যামি। তবে মারাত্মক আহত হওয়ার সেই ধকল খুব বেশি দিন বাঁচতে দেয়নি তাকে। পরের বছর জুন মাসে মারা যায় অ্যামি। ফরাসি ভাষায় শের অ্যামি মানে প্রিয় বন্ধু।

 

সার্জেন্ট স্টাবি

যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেনাবাহিনীর র্যাংক অর্জন করা প্রথম প্রাণী সার্জেন্ট স্টাবি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর হয়ে দুর্দান্ত সমর নৈপুণ্য দেখিয়েছে কুকুরটি। কানেকটিকাটে প্রশিক্ষণের পর ১৯১৬ সালে স্টাবিকে সেনাবাহিনীর একটি দলের সঙ্গে ফ্রান্সে পাঠানো হয়। অনেক দূর থেকে শব্দ ও গন্ধ টের পাওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তার। মাস্টার্ড গ্যাস ও কামানের গোলার খবর সে আগেভাগেই সৈন্যদের জানিয়ে দিতে পারত। এ ছাড়া দলছুট হয়ে পড়া আহত সৈন্যদের খুঁজে বের করতে তাকে কাজে লাগাত মার্কিন বাহিনী। দুর্ধর্ষ এক জার্মান গুপ্তচরকে ধরিয়ে দিয়েছিল স্টাবি। যুদ্ধে বেশ কয়েকবার আহতও হয়েছে সে। যুদ্ধে স্টাবির কৃতিত্ব নিয়ে ১৯১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সব বড় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে সে। এমনকি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টও সাক্ষাৎ করেছেন তার সঙ্গে। ১৯২৬ সালে মৃত্যু হয় ৯ বছর বয়সী কুকুরটির।

 

শের অ্যামি দ্য পিজিয়ন


মারজান দ্য লায়ন


জ্যাকসনের বাবলস


মন্তব্য