kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

মনসুর সাহেবের দিনরাত্রি

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ছোট্ট একটা বাজারের ব্যাগ হাতে গম্ভীরমুখে বাসায় ফিরছেন মনসুর সাহেব। নিতান্তই ছোট্ট একটা বাজারের ব্যাগ! তা খুললেই পাওয়া যায় দুই কেজি আলু, এক কেজি শিম, আধা কেজি টমেটো, মাঝারি সাইজের একটি রুই মাছ। বাসায় স্ত্রী তাঁর জন্য রাত জেগে অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হলেও কোনো দিন বিরক্ত হন না। রাতে খাবার টেবিলে স্বামী-স্ত্রী গল্প করেন। একজনই গল্প বলেন, অপরজন কেবলই শ্রোতা। রাতে ঘুমানোর আগেও গল্প ফুরায় না। স্ত্রীর আবদারে মনসুর সাহেবকে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প বলতে হয়। তাঁর গল্প সব ফুরিয়ে গেছে বলে পুরনো গল্পগুলো স্ত্রীকে শোনান। স্ত্রী অধীর আগ্রহ নিয়ে সেগুলো শোনেন, যেন এই প্রথম শুনছেন। স্ত্রীর নাম অণু। অণুর তেমন কোনো সমস্যা নেই।

কথা বলতে পারেন না—এটা অবশ্য বড় কোনো সমস্যা নয়। মনসুর সাহেবেরও অনেক সমস্যা আছে, থাকতে হয়। ল্যাম্পপোস্টের নিচে এই মেয়েটির জন্যই তিনি অনেক রাত ব্যয় করেছেন। অণু জানালা খুললেই তিনি তাকে দেখতেন। তাই অণুর জানালা প্রায় সব সময় বন্ধই থাকত। কিন্তু মনসুরের আসা কখনো বন্ধ হয়নি। আচ্ছা, মনসুর সাহেব কি জানে, অণু প্রায়ই অন্য জানালা দিয়ে মনসুর সাহেবের দিকে তাকিয়ে থাকত?

একটা ছাদের নিচে কেটে গেছে অনেক সূর্যাস্ত, জ্যোত্স্না রাত্রি, বৃষ্টিভেজা কষ্ট। নিয়ম করে প্রতিবছর বাবা দিবস আসছে, আসছে মা দিবসও। কিন্তু মনসুর সাহেবদের এখনো কোনো সন্তান আসেনি। নামকরা এক জ্যোতিষীর দরবারেও হাজিরা দিয়ে এসেছিলেন অণু। জ্যোতিষী বাবা গম্ভীরমুখে বলেছিলেন, ‘চিন্তা করিস না! আগামী ফাল্গুনেই দেখবি দেবপুত্র হাজির। ছেলে হবে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। ’ পেছন থেকে এক সাগরেদ বলল, ‘বাবার কথা মিথ্যা হবার নয়। ’ অনেক ফাল্গুন এসে চলে গেল। দেবপুত্রের কোনো খোঁজ নেই। অণুর সারা বেলা একাকী কেটে যায়, কেটে যেতে হয়।

পঞ্চান্ন বছর বয়সী মনসুর সাহেব গম্ভীরমুখে ছোট বাজারের ব্যাগ হাতে বাসায় ফেরেন। তা খুললেই পাওয়া যায় দুই কেজি আলু, এক কেজি শিম, আধা কেজি টমেটো, মাঝারি সাইজের একটি রুই মাছ। রাত জেগে অণুর সঙ্গে গল্প করেন। তাঁদের গল্প কখনো শেষ হয় না। কারণ তাঁদের কষ্টও কখনো শেষ হয় না। গল্পের আরেক নাম কষ্ট।

 

ইমরান হোসাইন ইমু


মন্তব্য