kalerkantho


আনন্দ বাংলা

আছে হিংসা, আছে দ্যাশ

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আছে হিংসা, আছে দ্যাশ

রাশেদ ইমাম

­পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপনটি এর মধ্যে অনেকের দেখা হয়েছে। জেলাস-এর পোশাকি নাম দ্য ডিস্ট্রিক্ট ডিস্ট্রিক্ট শো।

রেডিও ক্যাপিটাল এফএম ৯৪.৮-এ প্রচারিত হয়। এর বিষয় হিউমার বা ফান। তবে শুধু গত্বাঁধা কৌতুক নয়। সৈয়দ আশফাকুল হাসান মুখোমুখি হয়েছিলেন জেলাসের অন্যতম সঞ্চালক রাশেদ ইমামের

 

বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত এফএম রেডিও, যাদের গানের পাশাপাশি মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘হিউমার বা ফান’। শুধু গত্বাঁধা কৌতুক নয়। জীবনের মাঝ থেকে তুলে আনা ঘটনার মাঝ  থেকে মনোরঞ্জন। আর এমনই সব আয়োজনের মাঝে একটি অনুষ্ঠান ‘জেলাস’ ইংরেজিতে শব্দের অর্থগত ধারণা আর বাংলা শব্দের মিশ্রণে এর নাম। বাকিটা শুনি এর অন্যতম সঞ্চালক রাশেদ ইমামের কাছ থেকে।

 

নামটি জেলাস কেন?

ইংরেজিতে জেলাস মানে হিংসা আর বাংলা জেলা মানে ডিস্ট্রিক্ট।

দুটি বিষয় মিলিয়েই নামটি রাখা হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ নিজের জেলাকে সেরা মনে করে এবং অন্য জেলাকে কম সেরা প্রমাণের চেষ্টা করে। তিনটি অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে আমাদের এই শো। তাই এর নাম জেলাস। এটি আসলে ডিস্ট্রিক্ট ডিস্ট্রিক্ট শো। কেউ কেউ অবশ্য মজা করে বলেন ঢিস্টিং ঢিস্টিং শো।

 

কী কী বিষয় থাকে জেলাসে?

রেডিও ক্যাপিটাল মূলত গান আর ফান বেইজড স্টেশন। জেলাসও একটি ফান শো। আর এটি আঞ্চলিক ভাষাভিত্তিক। এখানে আমরা মূলত বরিশাল, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলের ভাষা নিয়ে কাজ করি।

 

ফান করেন ভালো, কিন্তু আঞ্চলিক ভাষা কেন দরকার?

দেখুন, আপনি অনেক পড়াশোনা জেনে কেতাবি ভাষা রপ্ত করেছেন। অফিসটফিসে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলেন। কিন্তু দেশের লোক পেলে যেন দম ফেলার সুযোগ পান। কথার ঝুড়ি খুলে দেন। আঞ্চলিক ভাষা আসলে মানুষের ভেতরের ভাষা। দেশের বাইরে যারা থাকে, তারা বাংলায় কথা বলার জন্য ছটফট করে। ইট-কাঠের করপোরেট এ নগরে আমরা মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মাটির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এ কারণেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জেলাস।

 

শুধু তো তিনটি অঞ্চলের ভাষা, সবাই কী শোনে?

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদেরও আমরা আমন্ত্রণ জানাব। তারা তাদের অঞ্চলকে তুলে ধরবে।

 

এতে করে কি আপনারা আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে তুলছেন না?

না, বিষয়টি ঠিক এমন নয়। যারা শুনেছে তারা জানে, আমরা আসলে নানা অসংগতি তুলে ধরি। হয়তো শুনতে শুনতে সেও ভাবছে, এই ত্রুটি তো আমার মধ্যেও আছে। অথচ আগে বোঝার সময় পায়নি। মাঝেমধ্যে কিছু খোঁচাখুঁচি চলে, তবে সেটা সবাই মজা হিসেবেই নেয়।

 

অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে আরেকটু খুলে বলুন 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মজার ঘটনাগুলো আমরা একটু আলাদাভাবে তুলে ধরি। সমসাময়িক অনেক বিষয়ও তুলে আনা হয়। এতে হিউমার থাকে আবার শেখার থাকে কিছু। যেমন ধরুন, বাসে নারীদের সিটে পুরুষ বসা বা শিশুদের সামনে নেতিবাচক কথা বলা, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু নিজের গুণগান করা ইত্যাদি। বিষয়গুলো আমরা মজা করে তুলে ধরি, অনেকে নিজের ভুল বুঝতে পারেন।

 

সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

প্রচুর। ধরুন বরিশালের মানুষ নোয়াখালীর মানুষ নিয়ে বলছে, সিলেটের মানুষ বরিশালের মানুষ নিয়ে বলছে—মানে পাল্টাপাল্টি কথায় আমাদের এসএমএস বক্স ভরে যায়। আমরা দেড় ঘণ্টায়ও পড়ে শেষ করতে পারি না।  

 

আপনার সঙ্গে আরো দুজন আছেন এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। তাঁদের কথা বলুন

একজন সিলেটেরই মানুষ। নাফিস রেদওয়ান। শান্ত ছেলে। সিলেটেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। সিলেট অঞ্চলের মানুষের ভাষা, জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, রুচি, চিন্তাভাবনার অনেকটাই উঠে আসে তাঁর চরিত্রে। আরেকজন আছেন তারেক মাহমুদ। তিনি একটি কমেডি রিয়ালিটি শোয়ের এক সিজনের চ্যাম্পিয়ন। অসাধারণ কৌতুকজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা নোয়াখালীতেই।

 

নিজের কথা বলুন 

আমি বরিশাইল্লা মনু। বরিশালের কাদামাটিতে বড় হয়েছি। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে তারপর রাজধানীতে এসেছি। বরিশাল বেতারে কাজ করেছি পাঁচ বছর। মাঝে এক বছর বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে গিয়ে বুঝেছি, আমাকে দিয়ে এসব হবে না। এরপর ক্যাপিটালে প্রাথমিক ডাক পাই এবং নানা বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফাইনালি কাজ করার সুযোগ পাই।

 

কিছু হালকা বাণী দিন

খেলার শেষে দাবার রাজা ও সৈনিক সব এক বাক্সেই রাখা হয়। তাই দম্ভ আর অহংকারে অন্যকে ছোট করার সুযোগ নেই।  

 

আপনার জীবনের পাথেয়?

ভূপেন হাজারিকার একটি গান—

বলো কি তোমার ক্ষতি

জীবনের অথৈ নদী

পার হয় তোমাকে ধরে

দুর্বল মানুষ যদি...


মন্তব্য