kalerkantho


শখের তোলা

কৃষিবাড়ি

গাছগাছালিতে ছেয়ে আছে বাড়িটা। বাইরে ভেতরে ছাদে সিঁড়িতে সবখানে গাছ। সাতক্ষীরার ‘প্যাসিফিক প্যালেস’কে সবাই বলে কৃষিবাড়ি। দেখতে গিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কৃষিবাড়ি

পথ থেকেই বাড়িটায় চোখ আটকে গেল। বাড়িতে ঢোকার পথেই সারি সারি ঝাউগাছ।

রয়েছে আম ও আমড়াগাছ। পাতা না থাকলেও গাছে ঝুলছে থোকা থোকা আমড়া। পাশেই কামরাঙাগাছ। বরইগাছে বরই। মাচায় বড় বড় লাউ। এ রকম হরেক গাছে ছেয়ে আছে বাড়িটা।

সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠতেই চোখ কপালে উঠল। মৌসুমি শাকসবজি, ফুল আর ফলে ভরে আছে ছাদের বাগান।

সাতক্ষীরা শহরতলির লাবসা এলাকার এ বাড়ি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার শেখ মনিরুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী শাহিনা আক্তারের।

তিন হাজার দুই শ বর্গফুট বাড়ির ছাদে কয়েক শ গাছগাছালির বাগান করেছেন এই দম্পতি।

তিনতলা বাড়িটির দুটি ছাদ। দোতলায় ও তিনতলায়। দোতলার অর্ধেক ছাদ। ছাদ দুটিতে দেশি-বিদেশি ফুল, ফল, সবজি ও অনেক ঔষধিগাছ। ছয় বছর ধরে বাড়ির ছাদ দুটিতে গাছ লাগানো হচ্ছে। বিষমুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল খেতে এবং ঘরে বসে প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা পেতেই এ বাগান করেছেন। জানালেন, ‘ছাদে বাগান করা কঠিন কাজ নয়। যে কেউ সহজেই করতে পারেন। তবে ইচ্ছা থাকতে হবে। ’

ছাদে চেরি ও শিউলি ফুল দেখে মনে পড়ল ‘ওগো বিদেশিনী, তোমার চেরি ফুল দাও, আমার শিউলি নাও’ গানটি। রয়েছে ২২ রকমের গোলাপ, ডালিয়া, জিনিয়া, পেনজি, পাফায়ার বলসহ দেশি-বিদেশি ফুল। রয়েছে হাসনাহেনা, সাপের বিষ মুক্ত করার ঔষধিগাছও। তুলসী, ঘৃতকুমারী, রক্তকরবী গাছও লাগানো হয়েছে ছাদে। টবের গাছে কমলালেবু, মালটা ও টমেটো। মালটা পেকে হলুদ হতে শুরু করেছে। বাতাবিলেবু, কদবেল, দেশিবেল, পামফলসহ অসংখ্য ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে। লাল বাগানবিলাস ও হলুদ গাঁদা ফুলে মনে হচ্ছে ছাদে যেন ফাগুনের আগুন লেগেছে। ছাদ আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের গেওয়া, সুন্দরীগাছে। অর্কিড কর্নারে বড় বড় ক্যাকটাস দেখলে যে কারো মন ভরে যাবে। ছাদে ছোট আকারের একটি পুকুরও করা হয়েছে। বর্ষায় মাছ চাষ করা হয়।

গাছপ্রেমী দম্পতি জানান, বর্তমান প্রজন্মকে ধারণা দিতে গাব, ঝাউ ও ভূতেরগাছ হিসেবে পরিচিত ‘শ্যাওড়া’ গাছও লাগানো হয়েছে। শুধুই ছাদে বা বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও টবে অনেক গাছ। সিঁড়ির পাশে গাছ।

শেখ মনিরুজ্জামান ও শাহিনা দুজনই ছোটবেলা থেকে বাগান করতেন। এখন দুই ছেলে হাসানাত ও আরাফাতও বাগান পরিচর্যায় মা-বাবাকে সাহায্য করে। মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বছরের অর্ধেক সময় জাহাজে থাকি। বাড়িতে থাকার সময়টা বাগান নিয়েই পড়ে থাকি। বাকি সময়টা আমার স্ত্রী বাগানের দেখভাল করে। এতে ওর সময়টা আনন্দেই কেটে যায়। সমুদ্রে থাকাকালে জাহাজের ওপরও বাগান করেছি। আমার বাবা বাগান করতেন। তা দেখে ছোটবেলা থেকেই বাগানের প্রতি ভালোবাসা। ’ শাহিনা আক্তার বলেন, ‘এলাকার মানুষ ছোটখাটো অসুখে আমাদের বাড়িতে আসেন। সর্দিকাশি হলে শিউলি ফুল, আমাশয় হলে থানকুনিসহ বিভিন্ন ঔষধিগাছ নিয়ে যান। ’ বাগান পরিচর্যা প্রতিদিনের গৃহস্থালি কাজের মতোই হয়ে গেছে। একদিন কাজ না করলে মনে হয় কিছু একটা করা হয়নি। গাছগুলো যেন এই দম্পতির একেকটি সন্তানের মতো হয়ে গেছে।

অনেকেই এখন তাদের বাগান দেখতে আসে, সেলফি তুলতে আসে। এই ছাদে কয়েকটি নাটকের শুটিংও হয়েছে।


মন্তব্য