kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

না-পাঠানো পত্র

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শনিবার থেকেই ভাবছি তোমায় একখানা পত্র লিখব। কেমন আছ তুমি? তোমার চোখ দুটি কেমন আছে? জানো, তোমার চোখ দুটি আমার খাতায় পদ্য নামায় প্রতি মুহূর্তে।

আমাকে গভীর নেশার ঘোরে বন্দি করে রাখে। তোমার সেই ডাগর ডাগর কাজল কালো চোখজোড়া শিল্পীর নিপুণ তুলিতে আঁকা শ্রেষ্ঠ শিল্প। আমার মনে হয় শিল্পী খুব যত্ন করে তোমার চোখ গড়েছেন। তোমার চোখ আমার প্রশান্তির একমাত্র পথ্য।

তোমাকে আমি এত মিস করি, যা ভাষায় বর্ণনাতীত। আমার ইচ্ছা হয় সারাটা সময় তোমার হাত ধরে বেঁচে থাকি। তোমাকে হৃদয়ের মণিকোঠার ফ্রেমে বন্দি রাখি সবকালে।

তোমার সঙ্গে দেখা শেষে আসার পথে আমার যে অস্থিরতা লেগেছে, এমন আমার জন্মেও হয়নি। তখন মনে হয়েছে আর বোধ হয় বাঁচব না।

তোমাকে যে কখন থেকে এত মিস করি তা আমার জানা নেই। তবে এতটুকু জানি তোমায় ভুলব না কখনো।

এখন প্রতিরাতে আকাশের তারার সঙ্গে কথা হয় আমার। কত কথা। আমি এখন প্রতিটি তারার নাম জানি। অবশ্য নামগুলো আমিই রেখেছি। কোন তারা কখন কোনদিক দিয়ে উঠে আমি হরহর করে বলে যেতে পারি। তাদের সঙ্গে আমার ভীষণ সখ্য।

সারাটি দিন অপেক্ষায় থাকি তোমার ফোনের। ফোন কিংবা এসএমএস এলে পাগলের মতো মোবাইলটা হাতে নিই। ভাবি, তোমার ফোন। তারপর  চোখে জল নামাই।

তোমার ভাবনায় আমার দিবস-রজনী কাটে। তুমি কি ভাবো আমায়?

ভালোবাসা যে মানুষকে এতটা অসহায়-উদ্বেল করে তোলে তোমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগ পর্যন্ত আমার জানা ছিল না। তোমার না-বলা ভালোবাসা আমাকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে।

কেনই বা আবার আমায় কষ্ট দিচ্ছ? তোমার সামান্য অভিমানে আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। পৃথিবীটা ভীষণ বিষণ্ন দেখায়। মনে হয়, যেন পুরো জগত্টায় দুঃখ-কষ্টে ঠাসা।

আচ্ছা ভালো কথা, তোমায় পত্র লিখব অথচ তোমার ঠিকানা জানি না। একটা দিন ঠিকানা দেওয়ার প্রয়োজনও মনে করোনি তুমি। এখন বলো তো কী করি! আচ্ছা, প্রথমে আমি চিঠি লিখে শেষ করি, তারপর ভাবা যাবে গন্তব্যে পাঠানোর কথা। নয়তো আমরা যেখানে বসে গল্প করতাম সেখানে রেখে দেব। তুমি এলে পেয়ে যাবে।

নাকি তোমার আসার আর সময় হবে না। আমার ভাবতে অবাক লাগে, মানুষ কিভাবে এত সহজে কাছের মানুষকে ভুলে থাকতে পারে?

কী লিখব তোমায়! প্রেমের কথা! প্রণয়ের কথা! কষ্টের, নাকি বিরহের, নাকি অন্তর পুড়ে যাওয়ার! থাক, তোমার সময় নষ্ট করে লাভ নেই; বরং ভালো থেকো।

রায়হান রাশেদ, শিক্ষার্থী, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ


মন্তব্য