kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

না, আর নয় ছলনা

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



না, আর নয় ছলনা

হীরার শখ ছিল তার একটা দেবদাস থাকবে। দেবদাস এসেছিল তার জীবনে, কিন্তু ঝোড়ো হাওয়ায় হারিয়ে গেছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী হীরা,  চোখে লাগানো নতুন চশমা। বিজ্ঞানের ছাত্রী তাই বলে কি প্রেম আসবে না? হঠাৎ বাসায় একটা ফোন আসে। ও পাশ থেকে ভারী কণ্ঠে কে যেন বলল,

—হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম।

—ওয়ালাইকুম আসসালাম।

—আপনি কি হীরা বলছেন?

—জি। আমি হীরা। আপনি?

—আমি লিমন।

লিমন হীরার আত্মীয় পরিজনেরই একজন। তখন তো আর মোবাইল সহজলভ্য ছিল না, ল্যান্ড ফোন আর চিঠিই ভালোবাসা আদান-প্রদানের অন্যতম উপকরণ।

তারপর গল্প এগিয়ে যায়। হঠাৎ কাহিনিতে চলে আসে তৃতীয়পক্ষ। লিমনের সহপাঠী জুঁই সৃষ্টি করে চরম ভুল বোঝাবুঝির। লিমন বদলে যেতে থাকে। হীরার প্রতি অভিযোগ আর অবহেলা। অভিমানী হীরা সরে আসে লিমনের জীবন থেকে। কখনো আর ফিরে তাকায়নি। তারপর ঠিক ১০ বছর পর তাদের দেখা হয়। খুব অবাক হয় হীরা। লিমনও কিছু কম না। স্মার্ট ফোনে ছবি তুলে নেয় হারানো পার্বতীর। কারণ লিমন তাকে পার্বতী বা পারু বলে ডাকত। হীরা হতচকিত হয়। কাছাকাছি হতে চায় ফের লিমন, আবার সেই মিষ্টি কথা, ফের ছলচাতুরী। বুঝে যায় হীরা। ক্ষোভে ফেটে পড়ে। কারণ হীরা এখন আর তার পারু বা পার্বতী নয়। সেটা বুঝিয়ে দেয় তার অভিমানী চোখ দিয়ে। দুজনেরই এখন বাচ্চা আছে। দুজনের সংসার অন্য দুজনের সঙ্গে, সেটা মনে করিয়ে দেয় হীরা লিমনকে।

কিন্তু আমরা বন্ধু থাকব? তাতে কি আপত্তি? লিমনের অনুরোধ।

আপত্তি আছে। বেশি কিছু বলে না হীরা। কারণ আঘাত ততখানি গভীরে ছিল, যা চাইলেই ভোলা যায় না।

 

হাসিনা সাঈদ মুক্তা, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা


মন্তব্য