kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

গল্প হতে পারতো!

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গল্প হতে পারতো!

খুব ভোরে একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেল। চোখ কচলাতে কচলাতে মাথার কাছ থেকে ফোনটা হাতে নিল অরুণ।

ভোর ছয়টা। বিছানায় উঠে বসল সে। স্বপ্নটাকে মনে করার চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই মনে পড়ছে না। সব স্বপ্ন মনে থাকে না আবার সব স্বপ্ন স্বপ্নই নয়। সে ফ্রয়েড পড়েছে, মানুষ যা কল্পনা করে, যা ভাবে তা-ই সে ঘুমে দেখে! ঘুমানোর আগে কী কাউকে মনে করে ঘুমিয়েছিল? হঠাৎ মনে পড়ল অবন্তিকার কথা।

অবন্তিকা তার প্রিয় মানুষ ছিল। ছিল একারণে যে, এখন সে শুধুই স্মৃতি। এখনো সে ফিরে আসে, শ্রাবণের জলে ভেজা বরষায়। সে এসে বলে, ‘এসো একটু বৃষ্টিতে ভিজি! একটু ভিজলে কিছু হবে না।

জ্বরের ভয় করছ তো, আসবে না। এসো। ’

এখনো মাঝে মাঝে সে ফিরে আসে, চাঁদনী রাতে...। ফোন করে বলে, ‘এই অরুণ, ঘুমিয়ে গেলে নাকি? জলদি জানালা খোলো। দেখো, কি সুন্দর চাঁদ উঁকি দিচ্ছে!’

অবন্তিকার সঙ্গে সম্পর্ক খুব নাটকীয়। একদিন সকালে একটা নাম্বার থেকে কল... অরুণ ফোন ধরতেই মিষ্টি একটা কণ্ঠ বলল, ‘হ্যালো! কেমন আছেন?’

‘ভালো। আপনাকে ঠিক...’

কথা শেষ না হতেই মেয়েটি বলল, ‘আমি অবন্তিকা। ’

‘অবন্তিকা নামে কাউকে তো চিনি না। ’

‘চেনার কথা না... আমি শরীফার কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে আপনাকে কল দিলাম। ’

শরীফা অরুণের দূর-সম্পর্কের ফুফাতো বোন। নিবাস ঢাকা। অঢেল অর্থ-সম্পত্তির মালিক, বনানীতে বাড়ি। বাবা একটা মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির এমডি। একটু চটপটে স্বভাবের মেয়ে। সারাদিন এ-মার্কেট থেকে ও-মার্কেট ঘুরে বেড়ায়। কখনো একা, কখনো বান্ধবীদের সঙ্গে...।

 

অবন্তিকার প্রিয় লেখক মানিক বন্দোপাধ্যায়, আর অরুণের হুমায়ূন আহমেদ। এই একটা জায়গায় অমিল থাকলেও আর সবকিছুতেই অদ্ভুত মিল। মন-মানসিকতা, চিন্তা-চেতনা সবকিছু। কথা বলতে বলতে দুজনের ভাব বিনিময় হয়। সিদ্ধান্ত হয় দেখা করবে। মেয়েটির বাসা মতিঝিলে, অরুণ বৈশাখের ছুটিতে অবন্তিকার সঙ্গে দেখা করবে বলে জানায়। সে ভার্সিটি পাস করে একটা প্রাইভেট কলেজে বাংলা পড়ায়।

সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই এগুচ্ছিল। অরুণ কথা দিয়েছিল ভালো একটা চাকরি পেয়ে অবন্তিকার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব দেবে। ঘর বাঁধবে, তাদের ঘর আলো করে ফুটফুটে সোনামণি আসবে। কিন্তু হঠাৎ আসা কাল-বোশেখি ঝড়ের মতো তার লালিত স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল। এক মাঝরাতে অবন্তিকার কল। কণ্ঠে আগের উচ্ছ্বাস নেই, দুঃখ-ভারাক্রান্ত গলায় বলল, ‘আগামী শুক্রবার আমার বিয়ে! ছেলে আমেরিকা প্রবাসী। তোমাকে আরো আগে বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু ফোনটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বলতে পারিনি। বললেও কোনো লাভ হতো না, আমার বাবা জেদি মানুষ! তার বন্ধুর ছেলে। বাবা কথা দিয়েছিলেন বন্ধুর ছেলের গ্রাজুয়েশন শেষেই আমাদের বিয়ে দিবেন। ’ এক নিশ্বাসে বলে ফেলে অবন্তিকা।

অরুণ কিছু সময়ের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে যায়, খানিকটা নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, ‘তুমি খুশি?’

মেয়েটা বলে, ‘হুমম!’

কিন্তু এই সম্মতি যে মন থেকে নয়, সেটা সে ভালো করেই জানে। মেয়েদের যে স্বপ্ন দেখতে নেই, নিজের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নেই। পরিবারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তই তাদের মুখ বুজে সয়ে নিতে হয়। দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ফেলে অরুণ ঘুমিয়ে পড়ে নক্ষত্রের রাতে।

 

শায়খুল ইসলাম

সবুজবাগ, শিবগঞ্জ, সিলেট


মন্তব্য