kalerkantho


প্রকৃতির সন্তান

বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে পারি সহজেই

হাজেন অডেল আসলে জানতে চান কিভাবে কঠিন পরিবেশে হাজার বছর ধরে মানিয়ে চলছে আদিবাসীরা। একই সঙ্গে জানতে পারছেন বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় আর প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে থাকার নিয়ম। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের নতুন অনুষ্ঠান প্রাইমাল সারভাইভারের হোস্ট অডেল। টিভি ডেইলি ডট কম তাঁর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। খুঁজে পেয়েছেন ওমর শরীফ পল্লব

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে পারি সহজেই

কিভাবে নেচার শোয়ের হোস্ট হলেন?

 

বনের জীবন নিয়ে আমার আগ্রহ আগাগোড়াই ছিল। গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর আমি ইকুয়েডর যাই বইতে পড়া প্রাণী দেখতে। সেখানে আমি কিছু মানুষও দেখতে পাই, যারা আমার কৌতূহল আরো বাড়িয়ে দেয়। ধীরে ধীরে হুয়াওরানি মানুষের আপনজনে পরিণত হই। আমার প্রকৃতিপ্রেমকে তারা অবহেলা করত না; বরং এটি আমাকে তাদের আত্মীয় করে তুলল। আমি তাদের জীবনযাপনে সারল্য ও আন্তরিকতা দেখতে পেলাম। তারা বুঝি কখনোই বড় হয় না, বুড়োও নয়। প্রকৃতির শিশু তাঁরা। আমি ভেবেছিলাম দেড় মাস থাকব। কিন্তু থাকা হয়ে যায় দুই বছর। এরপর প্রতিবছরই আমি সেখানে যাই।

২৫ বছর ধরে যাচ্ছি। আমি বিজ্ঞানের একজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রাণিকুলের ছবি দেখাতাম। পরে আমাকে ইউটিউবে দেখতে পেয়ে তাঁদের উৎসাহ বেড়ে যায়। ওয়াইল্ডলাইফ চলচ্চিত্র উৎসবেও ডাক পাই। এরপর ডাকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। আমি বিশ্বের অসাধারণ সব জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছি। অনেক অন্য রকম মানুষের দেখা পেয়েছি। আমার কাছে সবটাই স্বপ্নের মতো।

 

আপনি নিজে বিশেষ কী শিখেছেন?

যখন ওয়াশিংটন থাকি, তখন খুবই ব্যস্ত থাকি। কারণ আমি একটি বাড়ি বানাচ্ছি। ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে তৈরি হচ্ছে বাড়িটি। মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীও যেন বাড়িটিতে থাকতে পারে, সে রকম বন্দোবস্তও করতে হচ্ছে। আমি সব সময় প্রাণিকুলের সঙ্গে থাকতে চেয়েছি। প্রচুর গাছ লাগাচ্ছি বাড়িতে। একটা পুকুরও খনন করেছি। ইচ্ছা আছে এমন একটি বাগান করতে, যেখান থেকে খাবারের রসদ জোগাড় করা যায়। চেষ্টা করছি যেন বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতে হয়। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নদীতে যে বাঁধ দেওয়া হয় তাতে বহু বন্যপ্রাণীর চলাচল পথ বিঘ্নিত হয়।

 

কোনো ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা মনে করতে পারেন?

সত্যি একটা ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছে। ইকুয়েডরে আমি একবার হারিয়ে গিয়েছিলাম। পাঁচ দিন। তখন আমার বয়স ছিল ১৯। শুধু মাছ ধরে দিন কাটাচ্ছিলাম, আর লোকালয়ে আসার পথ খুঁজছিলাম। তারপর বৃষ্টি শুরু হলো। জলাভূমির পানি বাড়তে লাগল। ক্রমে বন্যা দেখা দিল। আমি কিছুতেই পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ওদিকে আমার ফ্ল্যাশলাইটের ব্যাটারি শেষ হয়ে আসছিল। আমার সম্বল বলতে তখন একটি বর্শা ও একটি অকেজো ফ্লাশলাইট।   শেষে আমি একটি নদী খুঁজে পাই, আর কিছু দূরে দেখা পাই মানুষের। ওই অভিজ্ঞতা আমাকে পরিবার ও দুনিয়ার আর সব কিছু সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

 

খুব পরিশ্রম হয়েছিল কোথায়?

নেপালে। মুসতাং নামের এক আদিবাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে ছিলাম। ওরা ১৪ হাজার ফুট উঁচুতে থাকে। অক্সিজেনের খুব অভাব বোধ করতাম। আমি চামরি গাইয়ের পাল চরাতাম। শারীরিকভাবে ব্যাপারটি অনেক চ্যালেঞ্জিং।  

 

আরামের ঘরবাড়ি ছেড়ে থাকতে কষ্ট লাগে?

বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে পারি সহজেই। জীবনকে আমি এমনভাবে সাজিয়েছি যে সদাইপাতি কিনতে সুপার শপে যাওয়া লাগে না। নিজের খাবার জোগাড়ের উপায় আমি জানি। এ ক্ষেত্রে আমি সত্যিই স্বচ্ছন্দ। একটি বিষয় হলো, গরম পানিতে গোসল করতে খুব পছন্দ করি। যেখানেই থাকি এর একটা ব্যবস্থা করে ফেলি।

 

কোথায় কোথায় বেড়াতে ভালো লাগে?

নতুন নতুন প্রাণী আর গাছপালা দেখতে পছন্দ করি। আমার পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে রেইনফরেস্টের প্রাণীরা। কঙ্গো, দক্ষিণ কিংবা মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আর্দ্র এলাকাগুলো বেড়াতে পছন্দ করি।

 

সামনে কোথায় যাচ্ছেন?

ব্রাজিল আমাকে খুব আকর্ষণ করে। কারণ এর বড়ত্ব। অনেক কিছু দেখার আছে সেখানে। কঙ্গোও আমাকে আকর্ষণ করে। কারণ সেখানে নিরাপদে বেঁচে থাকা কঠিন। ওখানকার বন্য জীবনের কথা ভাবলেও আমি শিহরিত হই। যাব কোনো এক জায়গায়।

 

আদিবাসীদের কোন ঐতিহ্য বা প্রথা দেখে অবাক হয়েছিলেন?

 কেনিয়ার সামবুরুদের সঙ্গে আমি অনেক সময় কাটিয়েছি। পুরুষদের খতনা করার ব্যাপারটি আমাকে বিভিন্ন কারণে ভাবিয়েছিল। ব্যাপারটি গ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্র করে। বালকরা পুরুষ হয়ে ওঠার ব্যাপারটিতে গর্ববোধ করে। তাদের চোখ দিয়ে যখন আপনি ব্যাপারটি দেখতে পারবেন, তখন তা অনেক অর্থবহ মনে হবে।


মন্তব্য