kalerkantho


গয়নারাজ্য

রানির খবর আইল

রয়াল ফ্যামিলি নামের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। বলা হয়, আজ রানির সিংহাসনে আরোহণের ৬৫ বছর হলো। ছবির রানির গলায় আর কানে ছিল নীলকান্তমণি। বলাও হচ্ছে নীলকান্তমণি জয়ন্তী। খোঁজখবর করেছেন আহনাফ সালেহীন

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রানির খবর আইল

নীলকান্তমণি। টুইটারে রয়াল ফ্যামিলি পোস্ট। ৬ ফেব্রুয়ারি।

রানি ভিক্টোরিয়া (১৮১৯-১৯০১) সিংহাসনে ছিলেন ৬৩ বছর। আর রাজা তৃতীয় জর্জ (১৭৩৮-১৮২০) গদিতে ছিলেন ৪১ বছর। সবাইকেই ছাড়িয়ে গেলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। পরলেন নীলকান্তমণি হার। জর্জ ছিলেন আয়ারল্যান্ড আর গ্রেট ব্রিটেনের রাজা। ভিক্টোরিয়াও গোড়াতে তা-ই ছিলেন। তবে ১৮৭৬ সালে তাঁর মুকুটে ভারত নামের পালক গোঁজা হয়। এলিজাবেথ কিন্তু এদিক দিয়েও সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডেরও রানি। নীলকান্তমণির (স্যাফায়ার) ওই গয়নাগুলো এলিজাবেথকে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা রাজা ষষ্ঠ জর্জ। ১৯৪৭ সালে।

ওই বছরই ডিউক অব এডিনবার্গ প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। গয়নাগুলো তৈরি হয় ১৮৫০ সালে। নেকলেসের বড় স্যাফায়ারটি এতই বড় ছিল যে ভারী হয়ে গিয়েছিল খুব। তাই ১৯৫২ সালে ওটি সরিয়ে ফেলে লাগসই একটি সংযোজন করা হয়। স্যাফায়ারগুলোর চার ধারে হীরা বসানো।   ১৯৬৩ সালে কান আর গলার গয়নার সঙ্গে মিল রেখে টায়রা আর ব্রেসলেটও বানানো হয়। ১৯৬৯ সালে রানি সবগুলো গয়না পরে একটি দাতব্য কনসার্টে যোগ দিয়েছিলেন। রানির ভাণ্ডারে এমন অনেক মহামূল্য গয়না আছে। বেশির ভাগই পেয়েছেন পূর্বসূরিদের কাছ থেকে।

 

রানি আলেকজান্দ্রার ড্যাগমার নেকলেস

ডেনমার্কের রাজা সপ্তম ফ্রেডরিখ প্রিন্সেস (পরে রানি) আলেকজান্দ্রাকে হারটি উপহার দিয়েছিলেন বিয়ের সময়। আলেকজান্দ্রার বিয়ে হয় প্রিন্স অব ওয়েলসের (পরে রাজা ষষ্ঠ এডওয়ার্ড) সঙ্গে ১৮৬৩ সালে। হারটি বাইজান্টানীয় নকশায় (ড্যাগমার ক্রুশ সংযুক্ত) তৈরি হয়েছে। ড্যাগমার (১১৮৬-১২১২) ছিলেন ডেনমার্কের রাজা দ্বিতীয় ভালদেমারের প্রথম স্ত্রী। তাঁকে সমাহিত করার সময় বুকের ওপর ক্রুশ রাখা হয়। সেই রকম ক্রুশই সংযুক্ত আছে রানি আলেকজান্দ্রার নেকলেসে। ক্রুশের মাঝখানে যিশুখ্রিস্টের ছবিও আছে।

 

রানি ভিক্টোরিয়ার সুবর্ণ জয়ন্তী হার

১৮৮৭ সাল। রানি ভিক্টোরিয়ার গদিনশিন হওয়ার ৫০তম বছর ছিল সেটি। প্রিন্স অ্যালবার্টের (রানির স্বামী, যিনি ১৮৬১ সালে মারা গেছেন) সম্মানে একটি ভাস্কর্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তহবিল সংগ্রহের জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়। উইন্ডসরে ১৮৯০ সালে ভাস্কর্যটি উন্মুক্ত করা হয়। তহবিলের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে রানির জন্য একটি গলার হার বানানো হয়। এতে ২৬টি বড় মুক্তা ও ৩০০টি হীরা আছে।

 

কেনসিংটন ব্রৌচ

ধনুকাকৃতির এই ব্রৌচটি রানি পেয়েছেন তাঁর নানি কুইন মেরির কাছ থেকে। ১৮৯৩ সালে প্রিন্সেস অব টেক (পরে রানি মেরি) পান বিয়ের উপহার হিসেবে। তাঁর বিয়ে হয় ডিউক অব ইয়র্কের সঙ্গে (পরে রাজা পঞ্চম জর্জ)। মেরি তাঁর শ্বশুর রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড ও স্বামী পঞ্চম জর্জের গদিনশিন হওয়ার অনুষ্ঠানে ব্রৌচটি পরেছিলেন। এটি তৈরি করে কলিংউড অ্যান্ড কম্পানি।

 

কালিনান ব্রৌচ

বিখ্যাত কালিনান হীরা ব্রিটিশরাজের হাতে আসে ১৯১০ সালে। বহু খণ্ডে এটি বিভক্ত হয়। সবচেয়ে বড়টি মুকুটে স্থান পায়। হীরকখণ্ডগুলোর কয়েকটি দিয়ে তৈরি হয়েছে কালিনান ব্রৌচ। কালিনান হীরার আছে বিরাট ইতিহাস। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম রত্ন। অখণ্ড অবস্থায় ওজন ছিল ৬২১ গ্রাম, মানে আধা কেজির বেশি। পাওয়া গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কালিনান খনিতে ১৯০৫ সালে। এর নামকরণ হয়েছে খনির চেয়ারম্যান থমাস কালিনানের নাম থেকে। রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডকে তাঁর ৬৬তম জন্মদিনে কালিনান (১০৬ গ্রাম) উপহার দেওয়া হয়েছিল।


মন্তব্য