kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অপরূপ বাংলাদেশ

ঝরনার পাহাড় পাথারিয়া

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে অনেক ঝরনা। তবে যাওয়া বেশ কঠিন। কয়েকটি দেখে এসেছেন ইসলাম জাভেদ

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঝরনার পাহাড় পাথারিয়া

ঝেরঝেরি ঝরনা ছবি: সুলতান আহমদ

বড়লেখা সদর ইউনিয়ন থেকে প্রথমে ডিমাই বাজার। এদিক দিয়েই সবাই পাথারিয়ায় ঢোকে।

ডিমাই বাজারের পাশেই একটি স্বচ্ছ জলের ছড়া। কলকলিয়ে বয়ে চলা ঠাণ্ডা জলের সেই ছড়ার পথ ধরে হাঁটতে হবে অনেকটা পথ। পিচ্ছিল পথে পা ফেলতে হবে সাবধানে। পায়ের নিচে পড়বে জঙ্গলপথ, পাহাড়ি ঢাল, ঝোপঝাড় আর হরেক গাছগাছালি। চারদিকে চোখে পড়বে সবুজ আর সবুজ। চোখ জুড়িয়ে যাবে। এই পাথারিয়া পাহাড় বড়লেখা উপজেলা হয়ে একেবারে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা। এই অঞ্চলের লোকজনের মুখে চল আছে, পাথারিয়া পাহাড়ের জন্ম প্রায় দুই কোটি বছর আগে। আর এই পাহাড়ের প্রাচীন নাম ‘আদম আইল’। অনেক অনেক বছর আগে নাকি ‘পাথরি’ নামক এক জনগোষ্ঠী বাস ছিল এই অঞ্চলে। সেখান থেকেই এসেছে পাথারিয়া।

ছড়ার পথ ধরে কিছুক্ষণ হেঁটে গেলে ছিপছিপে ঝরনাটা। ছোট হলে কী হবে, ঝরনা তো! এটা খাকড়াছড়ি ঝরনা। এর কাছাকাছি আরো একটি ঝরনা আছে। সেটি আরো সুন্দর। একটা পাহাড় পেরোতেই দূর থেকে দেখা মিলবে ‘ঝেরঝেরি’। চারদিকে সবুজের মাঝখানে কী যে সুন্দর ঝরনাটা! দূর থেকে ঝেরঝের শব্দ শুনতে পায় বলে এলাকার লোকজন নাম দিয়েছে ঝেরঝেরি। এই ঝরনা দেখে মন ভরে যাবে। এর জলে বুঝি গা না ভেজালেই নয়!

পাথারিয়া পাহাড়ের ঝরনা দেখতে এলে দিনের মধ্যেই ফিরতে হবে। তাই থামলে চলবে না। টিলার ভেতরের পথ খুব সরু, পিচ্ছিল পাথরের আঁকাবাঁকা পথ। ঝেরঝেরি ঝরনাটা দেখার পর সম্ভবত ৫-৬ কি.মি. হাঁটতে হবে। তাহলে কানে ভেসে আসবে জলের শব্দ। দুটি টিলার মধ্যে ফুলটানি ঝেরঝেরি ঝরনা। ডান দিকে তাকাতেই চোখে পড়বে আরেকটা। এর নাম ইটাউরি ফুলবাগিছা ঝরনা।

 

এদিকটায় আগে আরো ঘন জঙ্গল ছিল। মানুষ আসার সাহস করত না। এখন কিছু মানুষ আসা শুরু করেছে। ঝরনাগুলোর সন্ধান পাওয়ার পর এলাকার লোকজনই নাম দিয়েছে খাকড়াছড়ি, ঝেরঝেরি, ফুলটানি ঝেরঝেরি, ইটাউরি ফুলবাগিছা, পুছুম, পাইতুম এসব।

পাথারিয়া পাহাড়ে অনেক উঁচু টিলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য দুরবিন টিলা, গগন টিলা, রাজবাড়ী টিলা। সবচেয়ে উঁচু দুরবিন টিলা। এটাতে উঠে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাবে দূরে ভারতের লোকালয়। আরো চোখে পড়বে দুটি ঝরনা। কিন্তু জঙ্গল পেরিয়ে সেখানে যাওয়া অতটা সহজ নয়। পাথারিয়ার আরেকটি অংশে রয়েছে ত্রিপল ঝরনা, জামিনীকুণ্ড, রাজনীকুণ্ড, বন্ধডুবা, রামাকুণ্ড প্রভৃতি। এগুলো আরো গভীরের দিকে। তবে এগুলোর বেশির ভাগ মৌসুমি ঝরনা। বর্ষাকালে সজীব ও প্রাণবন্ত থাকে, আর শুষ্ক মৌসুমে কয়েকটা শুকিয়ে যায়। তখন যেন পাহাড়ের গাত্র বেয়ে তিরতির পানি বয়।

পাথারিয়া ঝরনা দেখতে মৌলভীবাজার বড়লেখা হয়ে যেতে হবে। দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে হবে। কারণ ওই দিকটায় মানুষজন নেই। তাই যেতে হবে দলবেঁধে। সবার হাতে লাঠি নিয়ে যাওয়া ভালো। এগুলো যে শুধু চলতে সাহায্য করবে এমন নয়, সাপসহ অন্য বন্যপ্রাণী থেকে রক্ষা করবে।


মন্তব্য