kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফেসবুক থেকে পাওয়া

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফেসবুক থেকে পাওয়া

হ্যাপি বার্থডে

\ এক \

ঘড়ির কাঁটায় ৬টা। সন্ধ্যা ৬টা।

৭টার মধ্যে আমাকে র‍্যাডিসন ব্লুতে পৌঁছতে হবে। ড্রেসআপ করে গিফট বক্সটি হাতে নিয়ে বের হতে ২০ মিনিট কেটে গেল। অবশ্য চকবাজার থেকে র‍্যাডিসনে পৌঁছতে ৪০ মিনিট লাগবে না। হেঁটে গেলেও ২০ থেকে ২৫ মিনিটের পথ। তবে গাড়ির শহরে হেঁটে যাওয়ার মানে হয় না। মোটরচালিত এক রিকশায় চেপে বসলাম। লক্ষ্য র‍্যাডিসন ব্লু। কলেজ গেট, রিকশা আর সামনে এগোচ্ছে না। তবে আমার হাতে এখনো আধা ঘণ্টা সময় আছে। আজ থেকে প্রায় আট মাস আগের কথা মনে পড়ছে। আমি বাসার ছাদে গেলে প্রায়ই একটি মেয়েকে দেখতে পেতাম। পাশের ভবনের ছাদে। এককথায়—সুন্দরী বলতে যা বোঝায়, মেয়েটির মধ্যে তার সব বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। বয়স সতেরো কিংবা আটারো হবে। দিন দিন বুঝতে পারি, মেয়েটি আমাকে ফলো করছে এবং ইম্প্রেস করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি অন্য গ্রহের বাসিন্দা!

\ দুই \

আমার রুমের জানালা থেকে অনতিদূরে সামনের ফ্ল্যাটের বেলকনিতে প্রায় প্রতিদিন গান করে একটি মেয়ে। রাত ১১টাই তার গানের সময়। সঙ্গে কেউ থাকে অথবা থাকে না। তবে নিশ্চিত, লাইট থাকে না। তাই মেয়েটিকে কোনো দিন দেখলাম না। দুই বছর ধরে এ বাসায় আছি। দিনের কিংবা লাইটের আলোতে মেয়েটিকে একবারও দেখিনি। রাত ১১টার পর রাতের আলোতে উপস্থিতি অনুভব করা যায় মাত্র। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে খালি গলায় ইচ্ছামতো গান করে। তার গলার সুরটি এতই মধুর যে আমাকে মায়ায় বেঁধে রাখে। তাই আমার দৈনিক রুটিনেও পরিবর্তন এসেছে। সময়টি শুধুই তার গান শোনার জন্য বরাদ্দ করে নিয়েছি। শুনতে শুনতে তার গাওয়া একটি গান আমার মুখস্থ হয়ে গেছে—‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে জোনাকির আলো নিভে আর জ্বলে শাল মহুয়ার বনে...। ’ গানটি হয়তো তার খুব পছন্দের। অবশ্য এখন আমারও। আমি যে প্রতি রাতে তার গান শোনার প্রতীক্ষায় থাকি, গান শুনতে শুনতে হারিয়ে যাই, কল্পনায় তার ছবি আঁকি; সে কি জানে? হয়তো জানে কিংবা জানে না। কোনো দিন সে বেলকনিতে গান শোনাতে না এলে মন ভীষণ খারাপ হয়! কোনো কোনো রাতে চোখের পাতায় ঘুমও আসে না।

\ তিন \

 ২৮ আগস্ট অনিকের বড় ভাইয়ের বিয়ে। অনিক আমার বেস্টফ্রেন্ড। তার নিমন্ত্রণে সাগর, রিয়ান, আবিদ ও আমি গেছি মেহেদি রাতে। অনিকদের বাসা আগ্রাবাদ। আমরা তার রুমে আড্ডা দিচ্ছি। সে আমাদের জন্য কফির ব্যবস্থা করেছে। কফির কাপে এক-দুই-তিন চুমুক দিয়ে চতুর্থ চুমুকের আগেই ভেসে এলো খুব পরিচিত একটি কণ্ঠ, পরিচিত একটি সুর, পরিচিত একটি গান, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে...!’ এই কোলাহলপূর্ণ উৎসবে রাতের নির্জনতা এসেছে কি না জানি না। তবে আমার মনে এসেছে রাতের নির্জনতা। কফি আর শেষ করিনি। সুরের উৎস সন্ধানে উঠে পড়লাম। অনিক বলে, ‘কোথায় যাচ্ছিস?’ আমি বলি, ‘এসে জানাব। ’ রিয়ান বলে, ‘অন্তত কফিটুকু শেষ করে যা!’ আমি বলি, ‘তোরা খেয়ে নে। ’ তাড়াহুড়ো করলে কফি কি খাওয়া হয়, নাকি পান করা হয় তা-ও ভুলে যাই। একটি মেয়ে। স্টেজে আপন মনে গান ধরেছে। তার সুরে সুরে আমি বিলীন হয়ে যাচ্ছি। আর থ হয়ে তাকিয়ে আছি। মন বলছে, নিঃসন্দেহে এই মেয়েটি সেই বেলকনির মেয়েটিই। শুধু তা-ই নয়, সেই ছাদে দেখা, আমাকে ফলো করা মেয়েটিই এই শিল্পী। একটি গান করেই নেমে যায় অরিন। সে ব্যান্ডের কেউ নয়, অনিকদের আত্মীয়। ও হ্যাঁ, অরিনের পরিচয় তো দেওয়া হলো না। সে-ই আমার স্বপ্নকন্যা।

\ চার \

আজ অরিনের জন্মদিন। তার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর এটাই প্রথম জন্মদিন তার।   র‍্যাডিসনে দেখা হবে অরিনের সঙ্গে এবং একান্তই আপন কিছু সময় কাটাব। আমি এখনো পথে। গিফট বক্সটি হাতে দিয়ে তার হাত দুটি আমার হাতে ধরে রেখে, চোখে চোখ রেখে বলব, ‘হ্যাপি বার্থডে...। ’

 

            আলমগীর ইমন সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম

 

একা হয়ে যাব ধীরে ধীরে

 

খুব একা একা লাগছে। বর্ষা চলে গেছে। শরৎও চলে যাবে। পরিবর্তিত হবে আকাশের নীল বর্ণ, তোমার মতো। ভালোবাসা ভুল নাকি ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিলাম—এ রহস্য উদ্ধার করতে করতেই অনেকটা সময় চলে যাবে আমার জীবন থেকে। আমি এক মহাসমুদ্র পাড়ি দেব তোমাকে ছাড়া। একা হয়ে যাব ধীরে ধীরে। আগের চেয়ে আরো বেশি একা। শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভিজব মাঝেমধ্যে। তুমি হবে একপশলা বৃষ্টি আমার চোখে। সারা দিন ঝরে ঝরে পড়বে। কত ইচ্ছা আর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমি প্রতিবারের মতো তোমার দ্বারে যাব। তুমি আমায় বারবার ফিরিয়ে দিয়ো। তুমি আমার জীবনের চির বর্ষা হয়ে যেয়ো। আজ আমার নীলবর্ণের নদীটায় জোয়ার এসেছে। ভাটায় কখন ফিরবে জানি না। জানি না অনেক কিছুই। জানতেও চাই না। অর্থহীন ভালোবাসার নীল সমুদ্রের ঢেউ হয়ে কিংবা ছোট্ট অ্যাকুয়ারিয়ামের ছোট্ট ভাবনার সীমিত জগতে আমার বিশাল অস্তিত্বকে বন্দি করব আমি। ভুবন ভোলানো হাসিটা আর পিছু ফিরে চেয়ে দেখব না। চেয়ে দেখব না জোছনার ফুলের দিকে, যা তুমি আর আমি একসঙ্গে একই সময়ে পূর্ণিমায় দেখেছিলাম। আর কখনো অগোছালো চিঠিও লিখব না। কেননা যাওয়ার আগে গুছিয়ে কথা বলতে শিখিয়ে দিয়ে গেছ। আর তার সঙ্গে শিখিয়ে দিয়ে গেছ কিভাবে কান্নাকে ভালোবাসতে হয়।

            সোলায়মান শিপন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ


মন্তব্য