kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ছবি-কাহিনী

পিয়ার দলবল

এত দিনে অনেকের দেখা হয়ে গেছে ছবিটি। ভোগ ইন্ডিয়ার এ মাসের প্রচ্ছদ। ছবির ছয়জনের মধ্যে আছেন আমাদের জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়াও। সৌন্দর্যের বৈচিত্র্য নামের ছবির ছয় কন্যার কথা ভোগ ইন্ডিয়ার বয়ান থেকে বাংলা করেছেন বুশরা নাজরীন

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পিয়ার দলবল

বাঁ থেকে রুদা আথিফ, বর্ষা থাপা, ডেকি ওয়াংমো, পূজা মর, শেনেলে রড্রিগো এবং জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া

পূজা মর, ২৪, ভারত

অনিমা ক্রিয়েটিভ ম্যানেজমেন্ট পূজাকে খুঁজে বের করেছে গুজরাট থেকে। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশোনা করেন।

লুই ভুইটন, গিভেনচি, আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের মতো নামি ব্র্যান্ডের হয়ে তিনি র‍্যাম্পে হেঁটেছেন অথবা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। আমেরিকার পোশাক নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান টরি বার্চের হয়ে বারবাডোস যাওয়াকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা মনে করেন পূজা। বলেন, ‘আমার আরো সামনে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, আশা করি হাঁটতে পারব। ’

 

ডেকি ওয়াংমো, ২২, ভুটান

প্রজেক্ট ভুটান দুই বছর আগে তাঁকে খুঁজে বের করেছে। থিম্পুর পরিচিত মডেলিং এজেন্সি প্রজেক্ট ভুটান। ডেকি সম্ভবত আগে থেকেই জানত র‍্যাম্পে হাঁটাই তাঁর ভবিষ্যৎ। তিনি বলছিলেন, ‘আমি আগে থেকেই স্টাইলড ফটো পোস্ট দিতাম। মডেলিং করতে চাইতাম, কিন্তু জায়গা পাচ্ছিলাম না। ’ তারপর একদিন সত্যি সত্যি চিম্মি চডেনের মতো ডিজাইনারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে গেলেন। তাঁর ছবি ছাপা হলো ভারত ও ভুটানের ফ্যাশন সাময়িকীগুলোতে। গত বছর মিস এশিয়া প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়ে সবার মনোযোগ কেড়ে নেন। পরিবেশ সচেতনতাবিষয়ক প্রজেক্ট ভুটানের ফ্যাশন শোতে অংশ নেওয়া জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বলে মনে করেন। বলেন, ‘ভালো উদ্দেশ্য সামনে রেখে যা-ই হোক, সঙ্গী হতে ভালো লাগে। ’  

 

রুদা আথিফ, ২০, মালদ্বীপ

রুদা এমনই সুন্দর যে তাঁকে খুঁজে বের করতে হয়নি।   সোশ্যাল মিডিয়ায় যে একবার দেখেছে সে মনে রেখেছে। দুই বছর আগে থেকে নিজের ছবি পোস্ট দিত রুদা। তারপর আলোকচিত্রী সটির ক্যামেরা তাঁকে ‘মালডিভিয়ান গার্ল উইদ আকুয়া ব্লু আইস’ নামে বিশেষভাবে পরিচিতি দেয়। তিনি বলেন, ‘মডেলিংয়ে আমি ক্যারিয়ার গড়তে চাই না, এটি আমার শখ বলাই ভালো। আমি ডাক্তারি পড়ছি এবং চিকিৎসকই হতে চাই। ’ তাঁর ভালো লেগেছে মালদ্বীপে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার বর্জন করা নিয়ে একটি প্রচারণায় অংশ নিয়ে। এমবিবিএস শেষ করে মানুষের সেবা করাই তাঁর জীবনের লক্ষ্য।

 

শেনেলে রড্রিগো, ২১, শ্রীলঙ্কা

নিজেকে আমার একদমই সুন্দরী মনে হতো না, তাই ছবি তুলতে চাইতাম না। জানি, কথাটা বেখাপ্পা শোনাচ্ছে, আসলে কিন্তু সত্যি। বলছিলেন শেনেল। তাঁর একজন বন্ধু শখে ছবি তোলেন। সেই বন্ধুই চাপাচাপি করে তাঁকে একটি ফটোশুটে রাজি করায়। তখন শেনেলের বয়স ১৫। ছবিগুলো অনেক সুন্দর হয়েছিল আর এক বছরের মাথায় আভা গার্দ নামের এক ফ্যাশন সাময়িকীতে তাঁর ছবি ছাপা হয়ে গিয়েছিল। তারপর রিয়ালিটি শো মেকিং অব আ মডেলে  অংশ নিতেও বেশি দেরি হয়নি। বলছিলেন, ‘টায়রা ব্যাংকের আমেরিকার নেক্সট টপ মডেল শোটি আমি অনেকবার দেখেছি। টায়রা ব্যাংক আমার অনুপ্রেরণা। ’ সুপার মডেল অব এশিয়া প্যাসিফিকে শ্রীলঙ্কার হয়ে অংশ নেওয়াটা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। মার্কেটিংয়ে ডিগ্রি অর্জন ও ভারতে মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া তাঁর ভবিষ্যতের লক্ষ্য।

 

জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, ২৪, বাংলাদেশ

খুলনায় তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। মডেলিংয়ে আসা খুব সহজ ছিল না তাঁর জন্য। তবে ফ্যাশন ভালোবাসতেন, আর তাঁকে দেখে ফেলেছিলেন আলোকচিত্রী অপূর্ব আবদুল লতিফ। অপূর্বের প্রেরণায় তিনি মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, আর জিতেও গিয়েছিলেন। তখন তিনি সবে স্কুল শেষ করেছেন। তারপর ২০১০ সালে তিনি আড়ংয়ের বিজ্ঞাপনে মডেল হন। বলিউডের দীপিকা পাড়ুকোনকে তাঁর খুব পছন্দ। তিনি আইনবিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ড. কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে তিনি এখন ইন্টার্ন। জার্মান ফ্যাশন ডিজাইনার কার্ল লেগারফিল্ডের সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি। বলেন, ‘আমি সীমানা ছাড়িয়ে যেতে চাই। ’ চোরাবালি ছবিতে অভিনয় করে তিনি বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন। সামনে চলচ্চিত্রে আরো বেশি করে কাজ করতে চান এবং যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষায় আগ্রহী তিনি।

 

বর্ষা থাপা, ২২, নেপাল

পাঁচ বছর আগের কথা। বর্ষা তখন হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ছিলেন। প্রবাল গুরুং তাঁর বন্ধু ও পরামর্শদাতা। নিউ ইয়র্ক যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল প্রবালের সুবাদে। সেখানে তিনি নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে অংশ নেন। নজর কাড়েন চীনা বংশোদ্ভূত আমেরিকান ফ্যাশন ডিজাইনার ফিলিপ লিম আর এল রেন স্কটের (২০১৪ সালে প্রয়াত)। তার পরই ইতালীয় ফ্যাশন হাউস মিসনির হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যান। বর্ষা গত বছর নেপালে ভূমিকম্পদুর্গতদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। বর্ষা বলেন, ‘বিশ্ব নেপালকে যে সহায়তা দিয়েছে, আমি আশা করি, একদিন তা ফিরিয়ে দিতে পারব। অর্থ দিয়ে না হোক, সৌন্দর্য বা সংস্কৃতি দিয়ে। ’ তিনি শানেল ও এমিলিও পুচ্চির পোশাক-আশাকের মডেল হতে চান। তিনি রক অ্যান্ড রোলের ভক্ত। মিসনির হয়ে মিয়ামির দক্ষিণ সৈকতে ফটোশুটে অংশ নেওয়া তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।


মন্তব্য