kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমেরিকা আলীদের ঝাপসা গল্প

বিবেক বান্ড

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আমেরিকা আলীদের ঝাপসা গল্প

হাবিব উল্লাহ।১৯৩০-এর দশকে

আলাউদ্দিন উল্লাহ দাঁড়িয়ে আছেন একটি ১৫ তলা ভবনের ছাদে। ভবনটি পূর্ব হারলেমে। তাঁর বাবা হাবিব উল্লাহ সত্তরের দশকে তাঁর ভাই করিম ও মা মহিমাকে ভবনটিতে নিয়ে আসেন। হাবিব উল্লাহর প্রথম স্ত্রী ভিক্টোরিয়া মারা যান ষাটের দশকে। তারপর হাবিব প্রথমবারের মতো নোয়াখালী ফেরত গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে আসেন আমেরিকায়। মহিমা অনেক কম বয়সী ছিলেন, কিন্তু তিনি আগের স্বামীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। তাই তাঁর জন্য হাবিব উল্লাহর প্রস্তাবটি আশীর্বাদস্বরূপ ছিল। ১৯৬৭ সালে মহিমা আমেরিকায় আসেন। হাবিব উল্লাহ এর ১০ বছর পরই মারা যান। তবে তিনি যাওয়ার আগে আলাউদ্দিনদের থাকার জায়গা নিশ্চিত করে গিয়েছিলেন।

আলাউদ্দিন দাঁড়িয়ে ছিলেন এক শীতের সকালে। ভাবছিলেন ৫০ বছর আগের এক দিনের কথা। তাঁদের হারলেমের বাসায় ভিড় করেছিল দেশের আরো কিছু লোক। তারা দেশি খাবার রান্না করছিল এবং ফেলে আসা দিনগুলোর গল্প বলছিল। আলাউদ্দিন অঙ্গুলি নির্দেশ করে দেখাচ্ছিলেন, ‘ওইখানে স্প্যানিশ হারলেম শেষ হয়েছে আর তার পর থেকেই আপার ইস্ট সাইড শুরু। আমার বেড়ে ওঠার দিনগুলোয় একটা পরিষ্কার রেখা ছিল, নাম ম্যাসন-ডিক্সন লাইন। একদিকে সাদা মানুষরা থাকত, অন্যদিকে আমরা। ’

হাবিব উল্লাহ-ভিক্টোরিয়া এখেভারিয়া, সৈয়দ আলী-ব্রেনারডিনা কোলোন, ইব্রাহিম চৌধুরী, মাসুদ চৌধুরী, জো ম্যাংগোরা ওখানে থাকতে শুরু করেছিল সেসব দিনে, যখন তারা জাহাজ থেকে লাফিয়ে নেমেছিল নতুন জীবনের আশায়।

নিউ অরলিয়েন্সেও একই গল্প আছে। মোকসেদ-এলা ব্ল্যাকম্যান আলী দম্পতির গল্পও একই রকম প্রায়। শুনতে পারেন সফুর-আমেরিকা আলীর গল্পও। তবে সব গল্পই ঝাপসা। অনেকবার সাফ করে নিয়ে তারপর তাকাতে হয়। ১৮৮০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে যারা এসেছিল মার্কিন মুলুকে, তারা কোনো রেকর্ড রাখার সময় পায়নি। জীবন তাদের এমন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে যে শেষ শয্যায়ই কেবল মিলেছিল অবসর। অনেকে অবশ্য লিখতে-পড়তেই জানত না। দু-চারটি ছবি ইতিহাস হয়ে আছে শুধু। ইব্রাহিম চৌধুরী আর ম্যালকম এক্সের ছবি যেমন একটি। মানুষগুলো উদয়াস্ত পরিশ্রম করেছে। শহর গড়েছে, ফসল ফলিয়েছে। আজকের আকাশছোঁয়া ভবনবাসী তাদের উত্তরসূরীরা কি ইতিহাসের পদধ্বনি শুনতে পায়?

[বেঙ্গলি হারলেম থেকে]


মন্তব্য