kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভুল সবই ভুল

ফটোগ্রাফিক মেমরি বলে একটি ব্যাপার আছে

সবাই সত্যি জানে, এমন অনেক কথা পরে যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলো মিথ্যা। লিখছেন আসমা নুসরাত

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফটোগ্রাফিক মেমরি বলে একটি ব্যাপার আছে

অনেককে বলতে শোনা যায়, কারো কারো সম্পর্কে—উরিব্বাস মানুষটা মনেও রাখতে পারে! একেবারে ফটোগ্রাফিক মেমরি, যার স্মরণশক্তি ছবির মতো, তার প্রসঙ্গে যুক্ত করা হয় শব্দবন্ধ—ফটোগ্রাফিক মেমরি। সহজ করে বললে, মানুষটি মনের ক্যামেরায় ছবি তুলতে পারে।

একটি ক্যামেরা যেমন, যা দেখল তার সবটুকু তুলে নিল। একজন মানুষের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি এমন, তাকে কিছু একটা দেখালে, সে তার সবটুকু পরে হুবহু বলে দিতে পারে। যেমন বাড়িটার বারান্দায় গাঁদা ফুলের একটা টব ছিল, গাছটাকে শুকনা দেখাচ্ছিল, টবের পাশে একটা চেয়ার ছিল, কাঠের চেয়ারটার একটা পা ভাঙা ছিল, টবের ওপরে একটা লুঙ্গি ঝুলছিল, লুঙ্গিটা থেকে পানি ঝরছিল না কোনো, লুঙ্গিটার রং সাদা ছিল, যে তারে লুঙ্গিটা ঝুলছিল সেটি নাইলনের ছিল ইত্যাদি। শ্রোতার কাছে এমন বর্ণনা ছবির মতোই মনে হবে। কিন্তু গবেষকরা এমন মেমরির অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। এমন মেমরি যাদের আছে বলে দাবি করা হয়, তাদের গবেষকরা পরীক্ষা করেন এই উপায়ে—কোনো একটি বই থেকে তাদের দুটি বাক্য পড়ানো হয়। তারপর বাক্য দুটিকে উল্টো দিক থেকে বলতে বলা হয়। দুঃখের বিষয়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই পরীক্ষাটি সফলতার মুখ দেখতে পায়নি।

বরং গবেষকরা বলছেন, মানুষের স্মৃতিশক্তির ধরন আসলে জিগশ পাজলের মতো। নির্দিষ্ট ঘটনার খণ্ড খণ্ড চিত্র তার মনে পড়ে। একপর্যায়ে জোড়া দিয়ে সে প্রধান ব্যাপারটি বলতে সক্ষম হয়। কিন্তু বক্তা ঠিক কী কী শব্দ ওই ঘটনার সময় প্রয়োগ করেছিল, তা বলতে সমর্থ হয় না; তবে বক্তব্যটি বলতে পারে।

গবেষকরা আরো বলছেন, মানুষ আসলে সেটুকুই ভালো বলতে পারে, যেটুকু তার মনোযোগ আকর্ষণ করে। আর সব মানুষ সব বিষয়ে সমান মনোযোগ দেয় না। স্মরণশক্তি ভালো হওয়ায় কেউ একটু বেশি বলতে পারে। তবে সেটাকে আর যাই হোক ফটোগ্রাফিক মেমরি বলা যায় না।


মন্তব্য