kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাঙালির বিশ্বজয়

মিশুর ত্রিমাত্রিক দুনিয়া

জনপ্রিয় থ্রিডি গেমস ব্যাটম্যান, ইভলভ, ডিজঅনার টুর শিল্পী প্রবাসী বাংলাদেশি মাশরু আকন্দ মিশু। এ পর্যন্ত ত্রিশটি গেমসের চরিত্র এঁকেছেন। জানাচ্ছেন নাদিম মজিদ

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মিশুর ত্রিমাত্রিক দুনিয়া

বাংলাদেশের প্রথম দিকের অ্যানিমেশন শিল্পী মাহবুব আকন্দ পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৯৬ সালে দেশে ফেরার সময় নিয়ে আসেন কম্পিউটার।

লেগে পড়েন টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন বানানোর কাজে। কোনো স্থাপনা তৈরির আগে থ্রিডি আর্টের সাহায্যে সেটি দেখিয়ে দিতেন। কাজটি ভালো লেগেছিল ছেলে মিশুর। তখন তাঁর ১৬ বছর। বাবার কাজ দেখতেন। মাঝেমধ্যে কম্পিউটার চালাতেন। পাশাপাশি শিখছিলেন গ্রাফিকসের কাজ। একদিন বাবার কাছে বায়না ধরেন টেলিভিশনে থ্রিডির কাজ করবেন। ছেলের আগ্রহ দেখে নিজের সহকারী করে নেন। বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সসহ কিছু বিজ্ঞাপনে থ্রিডি আর্টের কাজে বাবার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মিশু।

২০০১ সালে মিশু যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০০২ সালে নিউ ইয়র্কের স্কুল অব ভিজ্যুয়াল আর্টসে ফাইন আর্টসে স্নাতকে ভর্তি হন। থ্রিডি আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা দেশে-ই ছিল। ফাইন আর্টসে পড়াশোনা করে তা আরো পোক্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফিল্ম এবং গেমস, এ দুটো সেক্টরে থ্রিডি আর্টিস্টের চাহিদা বেশি। নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করে বেছে নেন গেমসে থ্রিডি আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত। ২০০৬ সালে স্নাতক পরীক্ষার মাসখানেক আগে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই তার সিভি পাঠায় বেশকিছু গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে। পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগেই ডাক আসে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে। দুটো প্রতিষ্ঠান ছিল নিউ ইয়র্কের বাইরে। নিউ ইয়র্কের প্রতিষ্ঠান টিএইচকিউতে যোগ দেন ক্যারেক্টার আর্টিস্ট হিসেবে। কাজ করেন ২০১০ সাল পর্যন্ত। সেখানে ফ্রন্টলাইনস: ফুয়েল অব ওয়্যার এবং হোমফ্রন্ট নামে সিরিজ দুটির সব ক্যারেক্টার ডিজাইন করেন।

২০১০ সালে স্বাধীনভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ হিসেবে মিশু জানান, ‘এতে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ হয়। অভিজ্ঞতা বাড়ে। ’ তিনি থ্রিডি গেমসে হাই রেজল্যুশন ক্যারেক্টার মডেলিং করেন এবং আঁকেন, হাতে পেইন্ট করেন এবং ছবির বাস্তবতার সঙ্গে টেকশ্চার পেইন্ট করে বাস্তবসম্মত মানবদেহ বানান, কাপড় বানান, স্টাইল করে মডেলিং করান, গেমের ফিনিশিং করেন। ডিজঅনার টু, রাইজ অব দ্য টুম রাইডার, ব্যাটম্যান, ইভলভ, সোমা, ডেভিল’স থার্ড, ডিজঅনারড: নাইফ অব ডানওয়াল ডিএলসি, ডিজঅনারড, হাউকেন, গ্যাংস্টার ফোর, গ্যাংস্টার থ্রি, মডার্ন কম্ব্যাট ফোর, এএমডি রুবি টেক ডেমো, স্টার ট্রেক, ট্রায়ালস ফিউশন, ট্রায়ালস ইভল্যুশন, ট্রায়ালস ইভল্যুশন: গোল্ড এডিশন, ট্রায়ালস ইভল্যুশন: অরিজিন অব পেইন, বেন টেন: অমনিভারসাস, কাউন্টার স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেনসিভ, ডুম ফোর, ফায়ারফল, ইনফেমাস টু, ফিয়ার থ্রি, ন্যাচারাল সিলেকশন টু, দ্য ডার্কনেস টু, ফ্রন্টলাইনস: ফুয়েল অব ওয়্যার, হোম ফ্রন্ট, ডিপ ব্ল্যাক ইত্যাদি গেমসে কাজ করেছেন।

গেমসগুলো আরকান স্টুডিওজ, আর্টবুলি প্রডাকশন, লিকুইড ডেভেলপমেন্ট, শেইপফার্ম, অ্যাডেসিভ গেমস, গেমলফ্ট মন্ট্রিল, রেডলিংক্স, আইডি সফটওয়্যার, লিকুইড ডেভেলপমেন্ট, ভ্যালকিরি, ফোর এমএম গেমস, এক্সিস এবং টিএইচকিউ স্টুডিও থেকে বিশ্ববাজারে প্রকাশিত হয়েছে।

থ্রিডি গেমস মানে বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি। মিশুর থ্রিডি আর্টের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় ব্যাটম্যান, ইভলভ এবং ডিজঅনার টু। ব্যাটম্যান গেমসে প্যারাডক্স, ডার্ক নাইট এবং নিউ ফিফটি টু চরিত্রের ডিজাইন করেছেন তিনি।

মাশরু আকন্দ মিশু ঢাকার ছেলে। জন্ম মালিবাগের চৌধুরী পাড়ায়। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে ও-লেভেল এবং এ-লেভেল করেছেন। পরিবার থেকেই পেয়েছেন থ্রিডি গেমসের অনুপ্রেরণা, ‘বাবার থেকে আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি। তিনি গত বছর গত হয়েছেন। মা মাহমুদা বেগম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ফ্যাশন ডিজাইনার। আমার কাজে তাঁরও সহযোগিতা ছিল। ’ বাংলাদেশে থ্রিডি গেমসের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তিনি বলেন, ‘থ্রিডি গেমস ইন্ডাস্ট্রি এখনো বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। গেমসের জন্য দরকার উচ্চগতির ইন্টারনেট, যা এখনো বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে থ্রিডি গেমসের রিসোর্স এখনো তৈরি হয়নি। এ সেক্টর আরো গুরুত্ব পাওয়া উচিত। ’


মন্তব্য