kalerkantho


ভুল সবই ভুল

বাঁশ হলো গাছ

সবাই সত্যি জানে, এমন অনেক কথা পরে যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলো মিথ্যা। লিখছেন আসমা নুসরাত

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাঁশ হলো গাছ

গাছের মতো বা গাছের চেয়েও লম্বা হয় বলে মানুষ আপনা থেকেই ধারণা করে নিয়েছে বাঁশ হলো গাছ। আসলে কিন্তু বাঁশ ঘাস।

খালি চোখেই দেখা হয়, সদ্য গজানো গাছ দুটি পাতা নিয়ে মাটির ওপর উঠে আসে। ঘাস মাটি ফুঁড়ে উঠে একটি পাতা নিয়ে। তাই বাঁশ গাছ না ঘাস—এ নিয়ে বেশি বিতর্ক করার সময় নেননি বিজ্ঞানীরা। একবার শুধু একটি আইনি ঘটনা ঘটেছিল। সেটি এই ভারতবর্ষেই। সময়কাল ১৯২৭। রচিত হয়েছিল দি ইন্ডিয়ান ফরেস্ট অ্যাক্ট। এর বিধান অনুযায়ী বাঁশ যদি গাছ হয়, তবে তা রাষ্ট্রের অধিকারে। সে ক্ষেত্রে বনবাসীরা এর অধিকার পাবে না। তো বনের আদিবাসীদের জন্য ব্যাপারটি অভিশাপ। বাঁশকে গাছ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করলে অন্য গাছের কাঠের মতোই তা নিলামে ওঠানো হবে। ক্রেতারা কিনে চালান করে দেবে বাজারে। আর যদি ঘাস হয় বাঁশ, তবে এটি গণ্য হবে ‘মাইনর ফরেস্ট প্রোডিউস’ বলে। সে ক্ষেত্রে বনের আদিবাসীরা ঘর ছাইতে বাঁশ নিতে পারবে নামমাত্র মূল্যে, কখনো কখনো বিনা মূল্যে। রেঁধে খাওয়ারও চল আছে কচি বাঁশ।

কিন্তু বন বিভাগের কর্মীরাও নাছোড়বান্দা। তাঁরা এর কাষ্ঠগুণের কথা তুলে ধরে একে গাছের মধ্যে ফেলে রাখল বছর বছর। বিডি শর্মা নামের একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আদিবাসীদের পক্ষ নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই করেন বাঁশ বিষয়ে। অবশেষে ১৯৭৪ সালে একটা রফা হলো। বলা হলো, সংগ্রাহক বাঁশের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। তবে আরেকটি আইন সংগ্রাহককে বিক্রির অধিকার দিল শুধু সরকারের কাছেই। এর ফলে অবশ্য একটি ফল মিলল যে বাঁশ ঘাসের মর্যাদা পেল।


মন্তব্য