kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তামিম রানওয়ালা

তিন ধরনের ক্রিকেটের সব কটিতেই বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান। নিজেরই গড়া পাহাড়ের চূড়ায় আসীন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। তামিমের হয়ে ওঠার গান গেয়েছেন রাহেনুর ইসলাম

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তামিম রানওয়ালা

 

এক নজরে

 

পুরো নাম          : তামিম ইকবাল খান

জন্ম        : ২০ মার্চ ১৯৮৯

জন্মস্থান           : চট্টগ্রাম

উচ্চতা       : ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি

ব্যাটিং স্টাইল        : বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান

যে দলে খেলেছেন     : বাংলাদেশ, এশিয়া একাদশ, বাংলাদেশ ‘এ’, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯, চট্টগ্রাম বিভাগ, দুরন্ত রাজশাহী, নটিংহামশায়ার, পেশোয়ার জালমি, পুনে ওয়ারিয়র্স, সেন্ট লুসিয়া জুকস, ওয়েলিংটন

আন্তর্জাতিক অভিষেক   : বিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৭

বিয়ে        : জুন ২০১৩

 

অর্জন

♦    তিন ফরম্যাটেই যেকোনো দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান ও ইনিংসের কীর্তি

♦    ৯ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলকে পা রাখা বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান

♦    বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৫টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি

♦    দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ২০১০ সালে ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইজডেন ক্রিকেটার অ্যালমানাকের বর্ষসেরা ক্রিকেটার

 

 

তামিম ইকবালের বনানীর ডিওএইচএসের বাসায় ঢুকলে প্রথমেই চোখ টানবে স্মারকগুলো। কীর্তিমানের নিশানা সব।

২০১২ সালের এশিয়া কাপে পরপর চারটি ফিফটি করে চার আঙুল দেখানোর বিখ্যাত ছবিটাও চোখে পড়বে। এরপর পাবেন স্মরণীয় ম্যাচের ব্যাট, স্টাম্প, পুরস্কার আর বিরল সব ছবি। যেন ছোটখাটো জাদুঘর!

ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে নিয়েছেন বাঁ হাতি এই ওপেনার। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান। এমনকি তিন ফরম্যাটের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও তাঁর।

 

প্রশ্নটা ঠিক নয়

শচীন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিংয়ের সমর্থকরা প্রশ্ন তুলতে পারেন টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পেলে তাঁরাও হতে পারতেন তিন ফরম্যাটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যান। কিন্তু প্রশ্নটাই অবান্তর। যেমন অবান্তর, ডন ব্র্যাডম্যান এই সময়ে খেললে টেস্ট গড়টা কি ৯৯.৯৪ হতো? কেমন করতেন, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে? তামিম ইকবালই সত্যিকারের রানওয়ালা। তিনিই বিশ্ব ক্রিকেটের প্রথম ব্যাটসম্যান, যিনি তিন ফরম্যাটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোরার।

 

বাবার নাম ইকবাল খান

তামিমের ক্রিকেটার হওয়াটা যেন নিয়তিই ছিল। তাঁর বাবা ইকবাল খান চট্টগ্রামের বিখ্যাত খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক। বাবা-চাচাদের সাত ভাইয়ের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মুখ। তামিমের ছয় চাচা—মরহুম কামাল খান, আজম খান, আকরাম খান, আসলাম খান, আফজল খান ও আকবর খান। তামিমের বাবা ইকবাল খানের ব্যাট থেকে আসে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি। স্টার ক্লাবের হয়ে এলিট পেইন্টের বিপক্ষে ১ ছক্কা ও ১৩ বাউন্ডারিতে ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিটি করেছিলেন তিনি। ফুটবলেও ছিল ইকবাল খানের গোল করার দারুণ ক্ষমতা। চট্টগ্রাম মোহামেডান আর ঢাকায় ওয়াপদা ক্লাবে ফুটবল খেলেছেন দাপটে। ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে ১৬ গোল করে হয়েছিলেন এক আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা। চট্টগ্রাম আবাহনী গঠনের পেছনেও ইকবাল খানের ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাঁর হাতে গড়া কেকেআরসিই (কাজীর দেউড়ি খাজা রিক্রিয়েশন ক্লাব) পরে আবাহনী হয়ে ওঠে। কোচ হিসেবেও সফল ইকবাল খান। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আশীষ ভদ্র, সত্যজিত দাশ রুপুরা বেড়ে উঠেছিলেন তাঁর হাত ধরেই। অসুস্থতার জন্য ইকবাল খানের একটা পা কেটে বাদ দিতে হয়েছিল অস্ত্রোপচার করে। তার পরও তীব্র রোদে ক্রাচে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আম্পায়ারিং করতেন মাঠে। দেখতেন ছেলেদের খেলা, আর শুধরে দিতেন ভুল-ত্রুটি।

 

চাচাও ইতিহাস গড়েছেন

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চট্টগ্রামের খান পরিবার। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফির কথাই ধরুন। সেমিফাইনালে উঠতে নেদারল্যান্ডসকে হারাতেই হতো বাংলাদেশের। সেই ম্যাচেই কিনা ৩৩ ওভারে ১৪১ রানের লক্ষ্যে ১৫ রানে হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। অসাধারণ ৬৮ রানের ইনিংসে অধিনায়ক আকরাম খানই ম্যাচটা জিতিয়ে বাঁক বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের। তখন তামিমের বয়স আট বছর। বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিন কাজীর দেউড়ির পাঁচতলা বাড়িতে চট্টগ্রামের শহরের মানুষ ভেঙে পড়েছিল যেন। সারা দেশে রঙের বন্যা বয়ে গিয়েছিল।

ভাইও খেলেছেন

চাচার পাশাপাশি বড় ভাই নাফিস ইকবালও অনুপ্রেরণা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৫ সালে টেস্ট সিরিজ জয়ের অন্যতম নায়ক নাফিস। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়ে ফিফটি করা নাফিসের সেঞ্চুরির কল্যাণে ঢাকা টেস্ট ড্র করেছিল বাংলাদেশ। এমন পরিবারের ছেলে হয়ে তামিম নতুন ইতিহাস গড়বেন—তাই তো স্বাভাবিক!

 

সংগ্রামের দিনগুলো

২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন তামিম। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ওরিয়েন্টের হয়ে অভিষেক এরও বেশ আগে। আর জাতীয় দলে এসেছেন ঢাকা লিগে নিজেকে প্রমাণ করেই। একবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্য একটি ক্লাবের সঙ্গে কথাবার্তা চূড়ান্ত হওয়ার পরও শেষ দিনে বেঁকে বসেছিল সেই দল। কথা দিয়েও তামিমের সঙ্গে চুক্তি করেননি কর্তারা। সেদিন কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি না করলে খেলা হতো না প্রিমিয়ার লিগে। নিজের হতাশার কথা বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে ফোনে জানিয়েছিলেন চাচা আকরাম খানকে। চাচা আশ্বস্ত করে চুক্তির ব্যবস্থা করে দেন তাঁরই ক্লাব ওল্ড ডিওএইচএসের সঙ্গে। ক্লাবের অনুশীলন শুরু হতো সকাল ৯টায়। বাড়তি যত্ন নিয়ে আকরাম খান সকাল ৭টা থেকেই অনুশীলন করাতেন তামিমকে। চাচার এই ভালোবাসার মর্যাদা রাখেন তামিম। ব্যাট ফুঁড়ে ছুটেছিল রানের ফোয়ারা। একটা ম্যাচে ১০২ বলে ১৮৮ করে নজর কাড়েন নির্বাচকদের। তাতে ২০০৭ সালে খুলে যায় জাতীয় দলের দরজা।  

 

রানের বিরাট খাতা

২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়ানডের আঙ্গিনায় পা রাখেন হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ফিরেছিলেন মাত্র ৫ রান করে। এক মাস পরই নিজেকে চেনান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপে। পোর্ট অব স্পেনে ৫৩ বলে ৭ বাউন্ডারি ২ ছক্কায় তাঁর ৫১ রানের ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে স্মরণীয় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। জহির খানকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বাউন্ডারির বাইরে পাঠানোর মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকেও দিয়েছিলেন ভারতকে। এমন দাপট আর অতি আক্রমণই হয়তো বেশি ক্ষতিটা করেছে। নইলে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৭ সেঞ্চুরি করতে ২০১৬ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না। ৩৩টা ফিফটির অন্তত এক চতুর্থাংশকে রূপ দিতে পারতেন তিন অঙ্কে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের কথাই ধরুন। ৮০ রানে অপরাজিত থাকার সময় ওভার বাকি ছিল প্রায় ১৫টা। কিন্তু ‘উত্তেজক’ একটা শটে মাঠেই ফেলে গেলেন সেঞ্চুরিটা। এমন ক্ষণিকের উত্তেজনায় প্রায়ই হয়ে পড়েন আবেগী। তবে তাঁর ভালো দিকটি হচ্ছে দ্রুত ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে শুধরে নেওয়া। এবারের প্রিমিয়ার লিগ বিকেএসপিএতে আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বরের ম্যাচটিই ধরুন। একটি সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টি জানিয়ে উত্তেজনায় গালি দিয়ে বসেন আম্পায়ারকে। দুই আম্পায়ার গাজী সোহেল ও তানভীর আহমেদ ছেড়ে যান মাঠ। পরে ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে মাঠেই নামেননি দুজন। এ রকম বিতর্কে জড়ানোটা নতুন নয় তামিমের। নিজের ফিটনেসের সঙ্গে ক্ষণিকের এমন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও তাই নিরন্তর করে চলেন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলকে পা রাখা তামিম।

 

রেকর্ড বাজাই

৪২ টেস্টে তামিমের রান ৩১১৮, দ্বিতীয় স্থানে থাকা হাবিবুল বাশার সুমনের রান ৩০২৬। ২৮২৩ রান নিয়ে তিন নম্বরে সাকিব আল হাসান। অর্থাৎ তামিমকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এখনো আছে সাকিবের। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতেও তামিমের পেছন পেছন হাঁটছেন সাকিব। টেস্টে তামিমের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ২০৬, ওয়ানডেতে ১৫৪ আর টি-টোয়েন্টিতে নট আউট ১০৩। এই তিনটি ইনিংস বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটের সর্বোচ্চ স্কোরও। সে সঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টির সেঞ্চুরির কীর্তিটাও তাঁর। ১৫৬ ওয়ানডেতে তাঁর রান ৪৯৩১। ফিল্ডিংয়েও তিনি অন্যতম সেরা। পাখির মতো উড়ে স্মরণীয় ক্যাচ নিয়েছেন একাধিকবার।

 

উইজডেনের বর্ষসেরা

তাঁর আরো একটি অর্জন—২০১০ সালে ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইজডেন ক্রিকেটার অ্যালমানাকের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হওয়া। তাঁর আগে কেবল সাকিব আল হাসানই পেয়েছিলেন এমন সম্মান। এই সাকিবের সঙ্গে রানের লড়াই থাকলেও হরিহর আত্মা বলতে যা বোঝায়, দুজন তা-ই।

 

তবু কিছু বাকি থেকে যায়

তামিমেরও বাকি আছে কিছু। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২০৬ করলেও সবার জানা ট্রিপল সেঞ্চুরির সামর্থ্য আছে তামিমের। তেমনি ওপেনার আর মারকুটে ব্যাটসম্যান হওয়ায় ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি ওয়ানডেতে। পারবেন তো তামিম? বয়স সবে ২৭ বছর। এই বয়সে অভিষেক হয় অনেকের। সেখানে তামিম দেখে ফেলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন রাস্তার ভয়ংকর সব বাঁক। চেনা রাস্তায় ফেরারির মতো ছুটে চলা কঠিন হওয়ার কথা নয় রানওয়ালা তামিমের।

 

বন্ধু তুমি বন্ধু আমার

তামিম-সাকিবের বন্ধুত্বের শুরু বিকেএসপি থেকে। সেখানে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের ক্যাম্পে প্রথম পরিচয়। এরপর অনূর্ধ্ব-১৭ ও ১৯ দলেও খেলেছেন একসঙ্গে। বন্ধুত্বটা আরো গাঢ় হয়েছে জাতীয় দলে দুজন ডাক পাওয়ার পর। খেতে গেলে দুজন এক টেবিলে। বিমানের সিটে পাশাপাশি। অনুশীলনও একসঙ্গে। এমনকি  থাকেনও কাছাকাছি। তামিম কখনো সাকিবের সঙ্গে মজা করেন টেস্ট সেঞ্চুরিতে পিছিয়ে থাকায়। আবার সাকিব পাল্টা দিতেন ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে তামিম পিছিয়ে থাকায়। আফগানিস্তান সিরিজের পর অবশ্য ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন তাঁর প্রিয় বন্ধু। তাতে সাকিব বন্ধুকে নিয়ে গর্বিতই হয়েছেন। একবার সাকিব বলেছিলেন, ‘তামিম সতীর্থদের পাশে থাকে সব সময়। কেউ গাড়ি কিনলে বা কোনো অনুষ্ঠানে রেস্টুরেন্ট ভাড়া করলে সবার আগে পরামর্শ চায় তামিমেরই। ’ এ জন্যই তামিমের সেঞ্চুরি বা কোনো সাফল্য ভক্তদের মতো আবেগ

নিয়েই উদ্‌যাপন করেন সতীর্থরাও।

 

ভাসিয়ে নিয়ে যাও গো আমায়

সারা দেশকে যে রানের বন্যায় ভাসায় সেই তামিমকে প্রেমে ভাসিয়ে নিয়েছেন একজন। তাঁর নাম আয়েশা সিদ্দিকা। ক্রিকেট বোঝেন না তিনি; কিন্তু মায়ায় বাঁধতে জানেন। আয়েশা ছিলেন চট্টগ্রাম সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী। সেই স্কুলে এ-লেভেলে পড়ছিলেন তামিম ইকবাল। এক অনুষ্ঠানে প্রথম আয়েশাকে দেখেন তামিম। প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসেন। আয়েশার প্রেমে সম্মতি ছিল না। তামিম বলেছিলেন—ঠিক আছে, বন্ধু হও। বন্ধু হয়েছিল আয়েশা। তারপর বন্ধুত্ব দিনে দিনে প্রণয়ে পরিণত হয়। আর আট বছরের মাথায় তামিমের ঘরনী হন আয়েশা।

 

প্রিয় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স

২০০১ সালে বাবাকে হারান তামিম। তখন থেকে মা নুসরাত ইকবাল খানকে পান অভিভাবক ও বন্ধু হিসেবে। ছেলের পছন্দে অমত ছিল না মায়ের। তামিম তাই টাকা জমিয়ে চড়ে বসতেন মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানে। কারণ কুয়ালালামপুর সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে যে তখন মার্কেটিং পড়ছিলেন আয়েশা। ক্যারিয়ারের শুরুতে যখন সামর্থ্য ছিল না, তখন আয়েশাকে উপহার দিতেন পারফিউম। এর প্রায় সবই ছোট বোন উরুসার আলমারি থেকে চুরি করা!


মন্তব্য