kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভুল সবই ভুল

স্লিপওয়াকারকে জাগালে ক্ষতি হয়

সবাই সত্যি জানে—এমন অনেক কথা পরে যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলো মিথ্যা। লিখছেন আসমা নুসরাত

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



স্লিপওয়াকারকে জাগালে ক্ষতি হয়

লোকে বিশ্বাস করে, স্লিপওয়াকিংয়ে (ঘুমের মধ্যে হাঁটা) জাগালে ওয়াকারের হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছে এমন ঘটনার নজির নেই বললেই চলে।

তবে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে যে জাগায় তাঁর, ওয়াকারের নয়। ব্যাপারটা খোলাসা করা যাক। ঘুমের চারটি ধাপের কথা বলেন বিজ্ঞানীরা। একটি হালকা, তারপর গভীর আবার একটু হালকা হয়ে শেষে আসে র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম পর্ব। এই চক্র বারবার আবর্তিত হয় এবং আরইএম পর্ব প্রতিবারেই দীর্ঘায়িত হয়। তবে স্লিপওয়াকিং ঘটে কিন্তু ঘুমের গভীর পর্যায়ে নন আরইএম পর্বে। বিষয়টিতে বিজ্ঞানীরা বেশ কৌতূহলী। কারণ ওই সময় মানুষের মগজ হাঁটা-চলার মতো সক্রিয় থাকে, কিন্তু সে জাগ্রত থাকে না। অনেক বাচ্চা স্লিপওয়াকিংয়ে দোতলা থেকে নিচতলায় নামে এবং মা-বাবার সঙ্গে বসে টিভি দেখতে থাকে যতক্ষণ না মা-বাবা তাকে আবার বিছানায় শুইয়ে দেন। মিলানের নিগুয়ার্ডা হাসপাতাল সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখতে পেয়েছে, ওই সময় মগজের কিছু কোষ সক্রিয় থাকে, আবার কিছু কোষ গভীরভাবে নিদ্রিত থাকে। স্লিপওয়াকিং এই দুইয়ের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতার কারণেই ঘটে থাকে।

অনেক স্লিপওয়াকারকে দেখে মনে হয়, তাঁরা কোনো ভয় থেকে পালাচ্ছেন। অন্যরা আবার শান্ত থাকেন। তাঁরা ড্রয়ার খুলে কিছু একটা হাতড়ে বেড়ান। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হাসপাতালের স্লিপ ক্লিনিকের অধ্যাপক ম্যাথিউ ওয়াকারের কাছে একবার এক রোগী এসেছিলেন। তিনি নাকি স্লিপওয়াকিংয়ের সময় গাড়ির দরজা খুলেছেন, গাড়ির ভেতরে বসে গাড়িও চালিয়েছেন! ২০০৫ সালে ১৫ বছরের এক মেয়ের কথা জানা গিয়েছিল। সে ১৩০ ফুট উুঁচ ক্রেনের মাথায় চড়ে বসেছিল স্লিপওয়াকিংকালে। এখন ওই সময় যদি আপনি তাকে জাগাতে যান তবে গোলমাল বাধতে পারে। সে তখন আপনাকে আক্রমণ করেও বসতে পারে। বিজ্ঞানীরা ঘুমের এই পর্বটিকে বলেন স্টেজ থ্রি। এটি গভীর ঘুমের পর্ব। এখান থেকে তাকে হঠাৎ জাগিয়ে তুললে সে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্লিপ ডিজঅর্ডার সেন্টার বরং পরামর্শ দিয়েছে, ওই সময় তাকে না জাগিয়ে আবার বিছানায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার।


মন্তব্য