kalerkantho


মিয়া দ্য মিক্সার

দুই দশক ধরে আমেরিকার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন এলিস মিয়া। তিনি একই সঙ্গে ডিস্ক জকি, রিমিক্সার, সংগীত প্রযোজক আর গীতিকার। গেয়েও থাকেন। তিনি বাংলাদেশি-ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত। তাঁকে খুঁজে বের করেছেন বুশরা নাজরীন

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মিয়া দ্য মিক্সার

সামার গট মি লাইট গানে সহশিল্পীদের সঙ্গে এলিস মিয়া (সামনে)

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জন্মেছেন। বেড়ে উঠেছেন লোয়ার ইস্ট সাইডে।

স্ট্যাটান আইল্যান্ডেও (স্ট্যাচু অব লিবার্টি আছে এই দ্বীপে) কেটেছে ছোটবেলার অনেকটা। বেশির ভাগ সময় কাটত গান শুনে আর গেয়ে। গান লেখার শুরুও ছোটবেলায়। মা-বাবা মিয়ামিতে চলে যেতে চাইলে তিনি কেঁদেকেটে পাড়ার লোক জড়ো করে ফেলেছিলেন। কিন্তু যাওয়া ঠেকাতে পারেননি। মিয়ামিতে গিয়ে তাঁর মনে হয়েছিল নিঃশব্দ এক দুনিয়ায় চলে এসেছেন (নিউ ইয়র্কের তুলনায়)। তবে স্বস্তি পেয়েছিলেন, যখন শুনেছিলেন তাঁর এক সহপাঠীর বোন আটলান্টিক রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। দ্রুতই সেই সহপাঠীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন তিনি, যেন বোনটির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হয়। ২০০৩-০৪-এর দিকে তিনি শেয়ার মাই জয় নামের একটি গান লিখেছিলেন ললিটা হলোওয়ের জন্য। সেটি সাফল্য পেলে লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাক পেয়েছিলেন। রিক নোয়েলসের মতো প্রযোজকের দেখা পেয়ে তাঁর খুশি বাঁধ মানছিল না। তিনি এলিসকে এলএতে চলে আসতে বলেন। এলিস দেরি করেননি। তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে গিয়েছিলেন এলএতে।

সব ঘরানার মিউজিক তৈরি করেন এলিস। তবে বেশি করেন ডান্সফ্লোর। বাফটার (ব্রিটিশ একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক আর্টস) ইভেন্টেও ডিজেগিরি করেছেন এলিস। বিভিন্ন সময় তাঁর ১৭টি গান বিলবোর্ড চার্টে জায়গা পেয়েছে। তিনি কাজ করেছেন মাইলি সাইরাস, ক্রিস্টিনা আগুইলেরা, জেনিফার লোপেজ, ব্যাকস্ট্রিট বয়েজ, অ্যানি লেনক্স, রুপল, বিগ ফ্রিদিয়া, সেইদা গ্যারেটের গান নিয়ে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বোডেগা সুপারেত্তে নামের একটি রেকর্ডিং প্রতিষ্ঠান। এর প্রথম শিল্পী ছিলেন জরিনা নারেস। বিখ্যাত শিল্পী জেমস নারেসের মেয়ে। জরিনা এলিসের প্রযোজনায় গেয়েছিলেন আই অ্যাম টু ব্লেম। ২০১৪ সালের শেষ দিকে এটি প্রকাশ পায়।

এলিসের গান সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি টিভি সিরিজেও বাজানো হয়েছে। তাঁর তৈরি করা শুগার ড্যাডিজ লিটিল গার্ল গানটি বাজানো হয়েছে বিখ্যাত আইসক্রিম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্লনডিকের বিজ্ঞাপনে। মাইলি সাইরাসের হানা মন্টানা শোয়ের জন্য তিনি যে সংগীত তৈরি করেছেন, তা বিলবোর্ড হট হান্ড্রেডে ছয় নম্বর জায়গা দখল করেছিল। আর ইলেকট্রনিক অ্যালবাম চার্টে টানা ছয় সপ্তাহ এক নম্বর জায়গায় ছিল।

 

রুপলের বাচ কুইন

২০১৬ সালে এলিস মিয়া প্রযোজনা করেছেন ড্র্যাগ কুইন রুপলের বাচ কুইন অ্যালবাম। রুপল আসলে পুরুষ; কিন্তু মেয়ে সেজে গান করেন। এমন শিল্পীদের বলা হয় ড্র্যাগ কুইন। এলিস মিয়া বাচ কুইন অ্যালবামের জন্য পপ, আর অ্যান্ড বি এবং ডান্স মিউজিকের মিশ্রণ ঘটিয়েছেন।

 

 

সংগীতশিল্পী মাইক এন্ডারসের ইউটিউব চ্যানেলে এলিস মিয়ার একটি সাক্ষাত্কার পাওয়া যায়। প্রচার তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫। সাক্ষাত্কারটির নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো

 

 

আমি খুব ভাগ্যবান

তোমার চেহারাটা শিশু শিশু...

সেটি তো ভালো কথা। দেখো, এটি ধরে রাখতে খুব কষ্ট করতে হচ্ছে কিন্তু (হাসি)

 

জেনিফার লোপেজ, ক্রিস্টিনা আগুইলেরার মতো শিল্পীদের গানে কাজ করেছ, কেমন অনুভূতি?

২০০০ সালের শুরুর দিকের ঘটনা। অরেঞ্জ ফ্যাক্টরি নামের একটি মিউজিক মিক্সিং প্রতিষ্ঠানের হয়ে ওই সব কাজ করেছিলাম। নিজেকে সত্যি ভাগ্যবান মনে হয়।  

 

রুপলের সঙ্গে কাজ করছ কত দিন?

অনেক দিন। ২০০৮ সালে প্রথম। সে তখন একটি চলচ্চিত্রের জন্য সংগীত রচনা করছিল। তারপর তাকে একটি ক্রিসমাস অ্যালবামের আইডিয়া বলি। কিন্তু সে তখন খুব ব্যস্ত ছিল বলে করা হয়নি। আর তার নতুন অ্যালবাম বাচ কুইন নিয়ে কাজ করছিলাম দেড় বছর ধরে। ও কিভাবে ড্র্যাগ কুইন হলো শোনো...একবার কে যেন একটা অ্যালবামের প্রচ্ছদের জন্য একটি মেয়ে মুখ খুঁজছিল। রুপল কোত্থেকে একটি উইগ নিয়ে এসে মাথায় জড়াল। বলল, দেখো, এমন চেহারা হলে চলে কি না। হ্যাঁ চলে—উত্তর পেয়ে রুপলও মজা পেয়ে গেল। সেই থেকে নাকি অমন চেহারা নিয়ে মঞ্চে হাজির হয়! ওর সংগে কাজ করতে বেশ মজা লাগে। ওর ভাবনা-চিন্তা সব পরিষ্কার। মজারও। ১২-১৩ বছর বয়সে আমি খুব এরিক ক্ল্যাপটন শুনতাম। একবার রুপলের সুযোগ হয়েছিল ক্ল্যাপটনের সঙ্গে মঞ্চে ওঠার। সেই কনসার্টে আমি ছিলাম আর রুপলের জন্য খুব গর্ব বোধ করেছিলাম।

 

তুমি শুরুটা করেছিলে ক্রিসমাস অ্যালবাম দিয়ে...ঠিক?

হ্যাঁ, সত্যি তাই। অনেকে এটাকে হলিডে মিউজিক বলতে পছন্দ করে। এ রকম গানগুলো আনন্দমুখর হয়। ছুটির দিনগুলোয় শুনবে, এই ভেবে একটু বেশি ধুমধাম থাকে। ভালো লাগে শুনতে। করতেও ভালো লাগে।

 

কেউ প্রশংসা করলে কেমন লাগে?

প্রশংসা তো ভালো লাগে। বেশি খুশি হই, যখন দেখি শ্রোতারা আমার করা কোনো গান শুনে আনন্দিত হচ্ছে। আসলে কাজ তো ওদের জন্যই করি।  

 

তাহলে ভালোই আছ বলছ?

হ্যাঁ, প্রচুর চকোলেট, আইসক্রিম খাচ্ছি। ঘুমাচ্ছি আর গভীর রাতে জেগে উঠে গান তৈরি করছি। এর চেয়ে সুখের জীবন আর কার আছে বলো?

 


মন্তব্য