kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ঈদের দিন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদের দিন

মাওলা বকস সরদারের ছেলে আজিম বকস

১৯৫২-৫৩ সালের কথা। ঈদের দিন সকালেই গরু কাটা হয়ে যেত।

আশপাশের বাড়ির লোকজন এসে হাত লাগাত। আমরা ছোটরা বসে দেখতাম। তখন বেশি বাড়িতে কোরবানি দেওয়া হতো না। অন্য বাড়ি থেকে মাংস আসত আমাদের বাড়িতে। আমরাও পাঠাতাম বিভিন্ন বাড়িতে। রান্না হতো ভেতর বাড়িতে। মসলাপাতি সকাল সকালই প্রস্তুত করে রাখা হতো। ভেতর বাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় মাংসই আগে কাটা হতো। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ পাতিল নামানো হতো। পাতিল ধুয়ে-মুছে রান্না চড়ানো হতো। আশপাশের বাড়ির মেয়েরা মাকে রান্নায় সাহায্য করত। আমরা ছোটরা ভেতর বাড়ি থেকে বাইরের বাড়িতে দৌড়াদৌড়ি করতাম। মাংসের গন্ধ সারা বাড়ি ছড়িয়ে পড়ত। আশায় থাকতাম, কখন মাংস খেতে পারব। মাংসের সঙ্গে রান্না হতো খিচুড়িও। অবশ্য তারও আগে সকালে সেমাই খাওয়া হতো। এর ফাঁকে আমরা ঘুরে যেতাম পাশের বাড়ি, পাশের বাড়ির ছেলেমেয়েরা ঘুরতে আসত আমাদের বাড়ি।              

দুপুরে পোলাও রান্না হতো। বড় পাত্রে রান্না করা মাংশ কিন্তু শেষ হতে দু-এক দিন লাগত। দুপুরে পোলাও মাংস খেয়ে ঈদের মেলায় যেতাম। গাড়ি ছিল, তবু হেঁটে যেতেই ভালো লাগত। সুই থেকে শুরু করে হাতি-ঘোড়া সব পাওয়া যেত মেলায়।   হাতি-ঘোড়া হতো মাটি আর কাঠের। গেরস্থালি জিনিস কিনতে এই মেলার জন্য অপেক্ষায় থাকত ঢাকার গৃহিণীরা।


মন্তব্য