kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তিনটি দ্রষ্টব্য

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তিনটি দ্রষ্টব্য

তীর্থযাত্রীর জলপাত্র

 

 

কাচ আর সোনায় তৈরি জলপাত্রটি ১২৫০ সালের দিকে তৈরি; সিরিয়ায় পাওয়া গেছে। তীর্থযাত্রার সময় চামড়ার ব্যাগে বহন করা হতো।

সম্ভবত এটি উপহার হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। গায়ে এনামেলের নকশা আছে। লাল, সাদা, নীল, সবুজ, হলুদ. গোলাপি রঙে লতাপাতা ও ফুলের নকশা করা হয়েছে। পাত্রের এক জায়গায় একজন ঘোড়সওয়ারিকে দেখা যাচ্ছে বর্শা দিয়ে একটি জন্তুকে ঘায়েল করছে। সেটির নিচে একজন মুখ ঢাকা নারীকে হার্প বাজাতে দেখা যাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, এখানে ইসলামিক ও খ্রিস্টীয় শিল্পকলার মিশ্রণ ঘটেছে। উপহারটি যিনি দিয়েছেন তিনি সম্ভবত খ্রিস্টান ছিলেন। দিয়েছিলেন কোনো অভিজাত মুসলমানকে।

 

হজযাত্রীর সঙ্গী (আনিস উল হুজ্জাজ)

১৬৭৬-১৬৭৭

এটিকে গাইড বই বলা যায়। হজ্ব পালনের রীতি-নীতির সচিত্র বর্ণনা আছে এতে। এর রচয়িতা আওরঙ্গজেবের কন্যা জেবুন্নিসার শিক্ষক সাফি বিন ওয়ালি। ব্যক্তিগত জাহাজে করে মুঘলরাজের নৌবহরের সঙ্গেই হজ্বযাত্রা করেছিলেন সাফি সাহেব। ইরানের আর্দাবেলে ছিল তাঁর বাড়ি। জাহাজগুলো লোহিত সাগরের কয়েকটি বন্দরে খালাস করার নিমিত্তে কিছু মালপত্রও বহন করছিল। সাফি সাহেবের যাত্রা শুরু হয়েছিল দিল্লি থেকে, ১৬৭৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। আহমেদাবাদ পৌঁছান ২১ অক্টোবর। ৯ দিন যাত্রাবিরতির পর আবার ৩০ অক্টোবর যাত্রা করে সুরাট আসেন ৩ নভেম্বর ১৬৭৬ সালে। পাঁচ দিন সুরাটে থাকার পর অন্য জাহাজগুলোর সঙ্গে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন সাফি সাহেব। মাঝপথে ঝড়ের কবলে পড়েছিলেন। তিন দিন তিন রাত ঝড়ের সঙ্গে লড়ে তাঁরা ইয়েমেনের মোকহা বন্দরে জাহাজ ভেড়াতে সক্ষম হন। তারপর থেকে অবশ্য আবহাওয়া অনুকূলই ছিল। ১৬৭৭ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁরা পৌঁছান বাব আল মানদেবে। বাব আল মানদেব বা মানদেব প্রণালী এডেন উপসাগরের সঙ্গে লোহিত সাগরকে যুক্ত করে। উল্লেখ্য, ওই যাত্রায় ৪৭২ জন যাত্রী নাম লিখিয়েছিলেন।

 

সুলতান সুলেমানের তুঘরা

 

তুঘরা হলো সিলমোহর। সাধারণত কোনো ফরমানের ওপরে এটি বসানো হতো। সুলতান সুলেমানের তুঘরা দেখতে ঘোড়ার চুলের মতো। অনেকে এতে বাজপাখির ছায়াও খুঁজে পান। সুলতান তাঁর দরবারের বেশ কয়েকজন ক্যালিগ্রাফারের তৈরি করা তুঘরা থেকে এটি বেছে নিয়েছিলেন। তুঘরায় লেখা আছে—যিনি সব সময় জয় করেন। সুলেমানের সামরিক শক্তির প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর তুঘরায়। তিনি নিজে সেনাদলকে নেতৃত্ব দিতেন। তাঁর নেতৃত্বে অটোমানরা বেলগ্রেড ও ইরানের অনেকটাই জিতে নিয়েছিল। তুঘরাটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সংগ্রহে আছে।


মন্তব্য