kalerkantho


বৈঠকখানা

ফিরে তাকাও মুসাফির

মালয়েশিয়ার আল বুখারি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ইসলামিক ওয়ার্ল্ড গ্যালারি সাজাচ্ছে ব্রিটিশ মিউজিয়াম। ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রদর্শন কক্ষগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে। আগেভাগে কিছু খবর জানাচ্ছেন বুশরা নাজরীন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ফিরে তাকাও মুসাফির

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের ইসলামিক আর্টকক্ষ

২০১২ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের একটি প্রদর্শনী সবার নজর কেড়েছিল। নাম ছিল হজ : জার্নি টু দ্য হার্ট অব ইসলাম। এটি দেখে এগিয়ে আসে মালয়েশিয়ার আল বুখারি ফাউন্ডেশন। তারা ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ইসলামিক আর্ট নিয়ে প্রদর্শনকক্ষ করার যাবতীয় খরচ বহন করতে আগ্রহী হয়। মিউজিয়ামের ৩৪ নম্বর ঘরে আগে থেকেই কিছু দ্রষ্টব্য ছিল। আল বুখারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪২-৪৫ মোট চারটি কক্ষকে ইসলামিক আর্ট দিয়ে সাজানো হচ্ছে। কক্ষগুলো ২০১৮ সালের অক্টোবরে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

ইসলামিক ওয়ার্ল্ড গ্যালারিতে মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক, সেন্ট্রাল এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পকর্ম থাকবে। ইসলামের শুরুর সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ক্রমে সাজানো হবে দ্রষ্টব্যগুলো। প্রত্নরত্ন, আলংকারিক নকশা, পুস্তক, জাতিতাত্ত্বিক নিদর্শন যেমন থাকবে, থাকবে পোশাকশিল্পও।   দুটি গ্যালারির প্রথমটির নিদর্শনগুলো হবে আরব বিশ্বের, ১৫ শতক পর্যন্ত।

দর্শকরা ভাইকিংদের সঙ্গে তখনকার আরব বিশ্বের সম্পর্কও বুঝতে পারবে। আবার ক্রুসেডের সময়কেও ধরতে পারবে। মামলুক সুলতানদের আমলের প্রদীপ ও ধাতুশিল্প কিভাবে উনিশ শতকের ইউরোপীয় শিল্পীদের প্রভাবিত করেছে, তাও জানা যাবে। দ্বিতীয় গ্যালারিতে তিনটি প্রধান মুসলিম রাজবংশের শিল্প নিদর্শন থাকবে। অটোমান (তুরস্ক), সাফাভিদ (পারস্য) ও মুঘল (ভারতবর্ষ) রাজবংশের আনুকূল্যে ১৬ শতক থেকে সিরামিকস, বস্ত্র, গহনা ও চিত্রকলার মহামূল্যবান সব নিদর্শন তৈরি হয়েছে। অমুসলিম জনগোষ্ঠীর শিল্পকর্মও প্রদর্শিত হবে। খ্রিস্টান, হিন্দু, ইহুদি ও জরথুস্ট্ররা ওই সব দেশে সে সময় ভূমিকা রেখেছিল। গ্যালারিগুলোয় সে সময়ের কলাকৌশল নিয়ে ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হবে।

ইনডিপেনডেন্ট লিখেছিল (২৯ জানুয়ারি ২০১২) : আপনি যদি বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের আগের সময় জন্ম নিতেন মুসলিম ভারত বা চীনে, তবে আপনাকে মক্কায় আসতে জাহাজে চড়তে হতো। দেশে ফেরার চিন্তা হয়তো আর করতেন না। আর যদি উত্তর আফ্রিকা হতো আপনার দেশ, তবে অনেক বেশি লটবহর নিয়ে দীর্ঘ উটযাত্রার জন্য প্রস্তুত হতে হতো। ব্যাপারটির কিছুটা হয়তো আপনি আন্দাজ করতে পারছেন, তবে সত্যিকারের অভিজ্ঞতা নিতে চান যদি তো যান ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। কিউরেটরকে কী পরিমাণ খাটতে হয়েছে ভেবে অবাক হতে হয়। তাঁকে জানতে হয়েছে মালির রাজা মানসা মুসা সম্পর্কে। তিনি ১৩২৪ সালে বিরাট দল নিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে হজ করেছিলেন। আবার স্যার রিচার্ড ফ্রান্সিস বার্টনের খোঁজও করতে হয়েছে। তিনি ১৮৫৩ সালে আফগান ডাক্তারের ছদ্মবেশে মক্কা গিয়েছিলেন। প্রথমে সাউদাম্পটন থেকে জাহাজে করে গিয়েছিলেন মিসর, তারপর মিশে গিয়েছিলেন হজযাত্রীদের দলে। না ধরা পড়ে দেশে ফেরার

পর তিনি নায়ক বনে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, তখন বিধর্মীদের জন্য হজযাত্রা নিষিদ্ধ ছিল।


মন্তব্য