kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এগিয়ে যাও বাংলাদেশ

গরিবের অ্যাম্বুলেন্স

বছরের শুরুতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় শুরু হয় ইজিবাইক অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এরপর নওগাঁর আরো দুই উপজেলাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে এটি চালু হয়েছে। নওগাঁর বাকি আটটি উপজেলায়ও এই সেবা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। জানালেন ফরিদুল করিম

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গরিবের অ্যাম্বুলেন্স

স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য হবু ও নব্য মায়ের কয়েকবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয়। সাধারণ পরিবহনে গেলে মা ও শিশুর ক্ষতি হতে পারে।

বিষয়টি এ কে এম তাজকির-উজ-জামানকে ভাবিত করে তোলে। তখন তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সেটা গত বছরের কথা। এ নিয়ে তিনি ভীমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্রের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি ওয়ার্ড মেম্বার আর গ্রামবাসীর সঙ্গেও আলোচনা করেন। এভাবেই বেরিয়ে আসে ‘মাতৃসেবা’র আইডিয়া। এলজিএসপি (লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট)-এর টাকা থেকে এর ব্যয় বহন করা হয়। এই ভ্যান-অ্যাম্বুলেন্স তৈরিতে খরচ হয়েছে এক লাখ ৫২ হাজার টাকা। ১১ জানুয়ারি এর উদ্বোধন করেন  রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ। দেশে প্রথমবারের মতো কমিউনিটি ক্লিনিক অ্যাম্বুল্যান্সের যাত্রা শুরু হয়। শুরুর পর মাতৃসেবার ব্যাপক সাড়া পড়ে। মহাদেবপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে এই সেবা পাচ্ছে প্রসূতি ও শিশু।

এখন অ্যাম্বুলেন্স পেতে প্রত্যন্ত পল্লীর মানুষের ঝামেলা হচ্ছে না। শুধু চাই চালকের বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মোবাইল নম্বর। নওগাঁর পর এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেশের অন্যান্য জেলায়ও ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে মহাদেবপুর, আত্রাই ও ধামইরহাটে চলছে অ্যাম্বুলেন্স। অপর আটটি উপজেলায়ও এই সেবা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় হাসপাতালে যাওয়া যায়। অ্যাম্বুল্যান্সে রয়েছে রোগীর শোবার ব্যবস্থা ও তাকে সাহায্যকারীর বসার স্থান। এই অ্যাম্বুল্যান্সের সেবা নেওয়া ধামইরহাট উপজেলার প্রসূতি আমিনা বলেন, ‘মাত্র ১০০ টাকায় জেলা সদরের হাসপাতালে যেতে পেরেছি। ’

আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের দফাদার শামসুল আলম জানান, তিনি এখন সব সময় মোবাইল ফোনের দিকে খেয়াল রাখেন।

চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র বলেছেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। গরিবদের পক্ষে বেশি টাকা খরচ করে অ্যাম্বুল্যান্সে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া সম্ভব হয় না। কম খরচে সব সময় সেবা দেওয়া যায়, এ জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি তৈরি করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সটি সরকারি বলে অনেক রোগী ভাড়া দেন না। চালকের মাসিক বেতন না থাকায় অন্য সময় যাত্রী বহনের ভাড়া থেকে কিছু টাকা আয় হয়। ’

এই ভাড়া থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে কমিউনিটি ক্লিনিক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হয়। চার্জ বাবদ ৫০ টাকা খরচ গ্যারেজে দিতে হয়, যাতে অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য ওই অ্যাকাউন্ট থেকে খরচ করা যায়।

ধামইরহাট উপজেলার আট ইউনিয়নে রয়েছে আটটি অ্যাম্বুলেন্স। আড়ানগর ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যান জানান, এ পর্যন্ত তাঁর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩০০ রোগী সেবা নিয়েছে। নওগাঁর জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, অ্যাম্বুলেন্সগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।


মন্তব্য