kalerkantho


ছোট-বড় সবার সঙ্গেই সহজভাবে মিশতে পারি

কাজী সাজিদুর রহমান স্বত্বাধিকারী, কেপিসি ইন্ডাস্ট্রি

২০ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০



ছোট-বড় সবার সঙ্গেই সহজভাবে মিশতে পারি

সাফল্যের রহস্য?

 

আমি সব সময় ছোট ছোট লক্ষ্য সেট করে শুরু করি। একটা অর্জিত হলে পরেরটা ঠিক করি। পরিশ্রম করতে পারি। ছোট-বড় সবার সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পারি।

 

চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল?

ব্যবসা মানেই চ্যালেঞ্জ। এখানে এ ধরনের উদ্যোগ অনেকেই নিয়েছেন। অন্তত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কথা আমি জানি। চারটি এর মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি দুইটি কোনোমতে চলছে। আসলে ব্যবসাটা সম্পর্কে বেশি মানুষের ধারণা নেই। জানেও না কতটা পরিশ্রম করতে হয়।

 

গুণগতমান কতটা রক্ষা হয় বলে মনে করেন?

আমি ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফএসএমএস) কোর্স করেছি। আমার কারখানায় এইচএসিসিপি (হ্যাজারড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কন্ট্রোল পয়েন্টস) প্র্যাকটিস করা হয়। আমাদের নিজস্ব ল্যাব রয়েছে। এখানে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা করা হয়। কোয়ালিটির ক্ষেত্রে কখনো আপস করিনি। কাঁচামাল হিসেবে পিই পেপার বোর্ড ব্যবহার করি। এটা শতভাগ পরিবেশবান্ধব। বিদেশি যেকোনো পেপার কাপের সঙ্গে মানের পরীক্ষায় পাস মার্কের চেয়েও বেশি নম্বর পাবে কেপিসির কাপ।

 

একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার অসুবিধা কী কী?

আমরা যে ধরনের পণ্য উৎপাদন করি, তা পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্বের সব দেশে এ পণ্যের কোনো ডিউটি (শুল্ক) দিতে হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে ২৫ শতাংশ আয়করসহ কাঁচামাল আমদানি করতে মোট ৬১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এটিই মূল বাধা।  আমার একটি কাপের দাম পড়ে দেড় টাকা। অথচ প্লাস্টিকের গ্লাস পাওয়া যায়  ৯০ পয়সায়। ডিউটি বাদ দিলে আমার কাপের দামও ৯০ পয়সা ছাড়াবে না। ডিউটিটাই এখন এ ব্যবসার মূল বাধা। একই দামে প্লাস্টিক ও কাগজের কাপ পাওয়া গেলে যে কেউ কাগজেরটাই পছন্দ করবে। এর চাহিদা বাড়বে। পরিবেশ রক্ষা পাবে। আরেকটা সমস্যা হলো, আমাদের জন্য কোনো শিল্প প্লট নেই। অথচ বিসিকের অনেক প্লট দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। তেজগাঁওয়ের মতো ব্যয়বহুল জায়গায় বেশি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে লাভ করা বা ব্যবসা চালানো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন। 

 

তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ?

সবার আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—‘আমি কী করব।’ যদি উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে সৎ সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। টাকার চেয়েও বড় মূলধন কিন্তু উদ্যোগ। তাই তরুণদের ভালো উদ্যোগ নিতে হবে। আর পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 

 

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

কেবল ব্যবসা নয়, এটি একটি সেবাও। এ কারণে এ শিল্পকে দেশের মধ্যে একটি বড় শিল্প খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। পাশাপাশি এই পণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে চাই। ইতিমধ্যে আমাদের তৈরি কাগজের কাপ ও প্লেট নেপালে রপ্তানি শুরু হয়েছে। আরো কয়েকটি দেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে।



মন্তব্য