kalerkantho


ঢাকার অতিথি

বিরিয়ানি ইলিশ ও ম্যাট প্রেস্টন

ম্যাট প্রেস্টনকে বেশি লোক চেনে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার বিচারক হিসেবে। তবে তাঁর প্রথম পরিচয় খাবার-সাংবাদিক। তিনি ঢাকা ঘুরে গেলেন সদ্য। সাড়ে পাঁচ দিনে ঢাকা চষে বেড়িয়েছেন মোটা-তাজা, ভোজনরসিক, হাসিখুশি মানুষটি। কিছু সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শফিকুল হক

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



বিরিয়ানি ইলিশ ও ম্যাট প্রেস্টন

রাস্তার চাও চেখে দেখতে ছাড়েননি ম্যাট প্রেস্টন

ইংল্যান্ডে অনেক বাংলাদেশি শেফ দেখেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায়ও দেখেছেন কয়েকজনকে। দেশটাকে কয়েকবারই দেখেছেন মানচিত্রে। দাওয়াতটা পেলেন হঠাৎ, হাতছাড়া করলেন না। রিভোলি কুকিজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে চলে এলেন বাংলাদেশে। তারপর ঘোরাঘুরি, আড্ডাবাজি, খাওয়া-দাওয়া সবই হলো, বিশেষ করে খাওয়া-দাওয়া। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের মানুষটির পেটে আঁটেও অনেক। কথাও বলেন রসিয়ে রসিয়ে।

ঢাকা যেমন লেগেছে

বড্ড বেশি মানুষ। ট্রাফিক জ্যাম তো টেরিফিক। তবে ফাঁকে ফাঁকে আকাশ, সবুজ মাঠ আর রেললাইন দেখা যায়। তখন ভালোই লাগে। পুরান ঢাকায় অনেক রেস্তোরাঁ। বনানী, গুলশানেও কম নেই। ঢাকাবাসী মনে হলো ভোজনরসিক।

ঢাকার খাবার যেমন

এককথায় বৈচিত্র্যময়। রাস্তার খাবার অনেক খেয়েছি। ঢাকার ম্যাপ খুলে বসেছিলাম। বাজার, রেস্তোরাঁগুলো দাগিয়ে নিয়েছিলাম। নাভিদ (কমেডিয়ান নাভিদ মাহবুব) খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। এখানকার মানুষ রেস্তোরাঁয় যত যায় তার চেয়ে অনেক বেশি বাজারে যায়। তাই বাজারে বাজারে গিয়ে ঢাকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস বোঝার চেষ্টা করছি। এমনিতে যে শহরেই যাই স্ট্রিট ফুড খুঁজে খুঁজে খাই। রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে চাকরিজীবী—সবাইকে পাওয়া যায় স্ট্রিট ফুডের দোকানে। পুরনো ঢাকার বাকরখানি খেয়েছি। বেগুনি, পেঁয়াজু খেয়েছি। বিউটির লেমনেড মানে লেবুর শরবত আর লাচ্ছি খেয়েছি। চটপটি আর ফুচকাও খেয়েছি। তবে অল্প ঝাল দিয়ে। অসাধারণ অতিথিপরায়ণ এই ঢাকার মানুষরা। আমি মনে করি, কী খাচ্ছ সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, কত দরদ দিয়ে খাবারটা হচ্ছে এবং তোমাকে খাওয়ানো হচ্ছে সেটি ততধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকার বাজার

বাজারগুলোতে অনেক শাকসবজি। একজন শেফের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সস্তাও বেশ। আশ্চর্য হওয়ার ব্যাপার, এগুলোর সবই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। দেশি খাবারের একটা ফাইন ডাইন রেস্তোরাঁ তৈরির জন্য এগুলো পারফেক্ট। বাজারে কত রকমের আলু পাওয়া যায়—ছোট ছোট লাল রঙা আলু, বড় বাদামি রঙের আলু, মিষ্টি আলু। কাঁচা খাওয়ার আলুও আছে দেখেছি।

ঢাকার রেস্তোরাঁ

ঢাকার রেস্তোরাঁগুলোর রিভিউ সহজেই পাই ফেসবুক বা অন্য কোথাও। কিন্তু বাংলা খাবারের রেস্তোরাঁগুলোর কথা কমই জানতে পাই। আর রেস্তোরাঁগুলোয় দেখলাম, অনেক মাংস। অথচ বিশ্বের নামকরা শেফদের আদরের জিনিস হলো সবজি। এ ছাড়া এখানকার নদীর মাছগুলোকেও তোমাদের কদর করা উচিত। সি-ফুডের জায়গা নিতে পারে এরা। অসাধারণ স্বাদের ছোট-বড় অনেক মাছ আছে তোমাদের। রেস্তোরাঁ দেখে একটা শহরের মান বোঝা যায়। কিভাবে যেন এখানে দামি খাবারের রেস্তোরাঁকেই ফাইন ডাইন বলার চল হয়ে গেছে। অথচ তোমাদের নিজেদের গর্ব করার মতো অনেক খাবার আছে।

ঢাকাই বিরিয়ানি

ঢাকায় আসার আগেই বিরিয়ানির কথা জেনে ফেলেছিলাম। অনেক গবেষণা করেছিলাম, কোন রেস্তোরাঁ বিরিয়ানিতে সেরা। পরে গবেষণা শিকেয় তুলে একটাতে ঢুকে পড়েছিলাম এবং খেয়ে খুশি হয়েছি। ঢাকার বিরিয়ানির তারকা হলো আলু। বিরিয়ানির মসলাও ভালো বলতে হয়। আমার কাছে ঢাকা আর ভারতীয় বিরিয়ানির পার্থক্যের জায়গা মনে হয়েছে আলু আর মসলা।

মাছের রাজা ইলিশ

জীবনে প্রথমবারের মতো খেলাম ইলিশ ভাজা আর সরষে ইলিশ। এমন স্বাদ ও গন্ধের মাছ খুব কমই আছে পৃথিবীতে। তবে ইলিশ কোনোভাবেই কাঁটা চামচ আর ছুরি দিয়ে খাওয়া যায় না। অবশ্য হাত দিয়ে খেলেই বেশি মজা টের পাওয়া যায়।

আবার আসব কিন্তু

কক্সবাজার, সুন্দরবন, শ্রীমঙ্গল আর বাংলাদেশের গ্রাম দেখার ইচ্ছে আছে। পিঠা খাওয়ারও লোভ হয়। একটা রান্না শিখতে চাই—শুঁটকি। গাঁয়ের কোনো বধূ যদি একটু সময় দেন তো বর্তে যাই।


মন্তব্য