kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ভুল সবই ভুল

লাল দেখে খেপে যায় ষাঁড়

সবাই সত্যি জানে, এমন অনেক কথা পরে যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলো মিথ্যা। অবসরে সেগুলো আনতে যাচ্ছে পাঠকের গোচরে। লিখেছেন গাউস রহমান পিয়াস

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



লাল দেখে খেপে যায় ষাঁড়

ছোঁ মেরে লালপেড়ে পুঁটিমাছটা ঠোঁটে তুলে নিয়ে সাবাড় করার আগে সুদর্শন মাছরাঙা কি একবার ভেবেছিল মাছের গায়েও এত রং ধরে! সুন্দরী পুঁটিরও কি মনে হয়েছিল, এত এত সুন্দর রং যার, সে কী করে খুনি হয়?

পরমার হাতে একটি লাল বল, প্রকৃতির হাতে সাদা। কুকুর টমি লাল বলটার দিকেই তো ছুটবে, তাই না? কিংবা কটকটে লাল শাড়ি পরে খেপা ষাঁড়টার গা ঘেঁষে যাওয়ার কথা ভাবতেই মন খানিক সাবধানী হয়ে উঠতে চায় না কি!

পশুপাখির রং নিয়ে আমাদের এসব ভাবনাই ভুলে ভরা। ম্যাটাডরের হাতে লাল কাপড় বা টুপি দেখে দেখেই ষাঁড় ক্ষিপ্রগতিতে তেড়ে আসে; আমরা অনেকেই এমন জেনে এসেছি। ভাবি, লাল রং ষাঁড়ের রক্তেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এখানেও আমরা নিজেদের মতো করে অর্থ আরোপ করেছি। পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, আসলে রং না, বস্তুর নড়াচড়া ষাঁড়কে এমন উন্মত্ত করে, ক্ষিপ্রতা দেয়।

আসলে আমরা এসব দেখে দেখে এমনভাবেই মস্তিষ্কের ছাঁচ তৈরি করেছি, অবচেতন মন বলে মানুষের মতো আর সবাইও সাত রঙেই রামধনু দেখে। আমাদের প্রবণতাই হচ্ছে নিজের মতো করে বোঝা। অন্যের চোখে দেখার মতো এমপ্যাথি তথা সমানুভূতি কয়জনের থাকে! মানবকুলে কেউ কেউ বর্ণচোরা হয়, তবে এ অসুখ দুর্লভ। উল্টোটা চলে প্রাণিজগতে। তাদের জগত্টা বরং অনেকটাই ধূসর। আমরা পৃথিবীটাকে যতটা রঙিন দেখি, সেটা অতটা রঙিন নয়ও। কোনো বস্তুতে আলো পড়ে তা প্রতিফলিত হয় নানা তরঙ্গে। সেই তরঙ্গ আমাদের চোখে ‘কোন’ নামক সেল বা কোষে এসে পড়ে।

পশুপাখির বর্ণশক্তি নিয়ে কৌতূহলী মানুষও কম নেই। তবে তাঁরা গবেষক বা বিজ্ঞানী শ্রেণির। যেমন বিড়ালের সামনে দিনের পর দিন দুই রঙের কৌটা রেখে ও শুধু একটায় দুধ রেখে একজন গবেষণা চালিয়েছেন। রং পার্থক্য করতে পারলে বিড়ালটি অল্প দিনেই বুঝে যেত দুধের কৌটা কোনটি। দুই কৌটাতেই ধূসর রং দেখে সে বারবার বোকা বনেছে। কারণ গবেষক প্রতিবারই কৌটার জায়গা বদল করে দিতেন।

বাইরে কিছু দেশে ষাঁড়ে-মানুষে লড়াই উৎসব হয়। ২০০৭ সালে ডিসকভারি চ্যানেলের মিথবাসটারস অনুষ্ঠান থেকে এমনই এক লড়াইয়ে গবেষণা চালানো হয়। ষাঁড়ের রেগে ছোটার কারণ কি যোদ্ধার লাল কাপড়, নাকি রং—তা তিনভাবে নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয়।

প্রথম নিরীক্ষায় বসানো হয় তিনটি পতাকা—লাল, নীল, সাদা। কিন্তু ষাঁড় তিনটি রঙের দিকেই ছুটে যায়। দ্বিতীয় নিরীক্ষায় রিংয়ে তিনটি নকল প্রতিপক্ষ দাঁড় করানো হয় লাল, নীল ও সাদা পোশাকে। এবারও ষাঁড় তিনটিকেই আক্রমণ করে রং নির্বিশেষে। শুধু তা-ই নয়, লাল আক্রান্ত হয়েছিল সবার শেষে।

সবশেষে একজন জীবন্ত ব্যক্তিকে লাল জামা পরিয়ে রিংয়ে পাঠানো হয়। তাঁকে বলা হয়, স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে। একই সময় দুজন কাউবয়, যাদের কারোরই লাল জামা ছিল না, বলা হয় রিং ঘিরে ঘুরতে। ষাঁড় আপাদমস্তক লাল জামার অনড় লোকটিকে এড়িয়ে চলমান দুই কাউবয়কে আঘাত করতে ছুটে যায়।

ষাঁড় যদি লাল রং না-ই চেনে, তবে কেন তার প্রতিপক্ষ লাল কাপড় হাতে উস্কানি দেয়? আসলে ষাঁড়ের লড়াইয়ের শেষভাগে এই পর্বটি থাকে। ষাঁড়ের রক্ত ফিনকি দিয়ে বেরোবে। লাল কাপড়ে এই নৃশংস দৃশ্য আড়াল করারই চেষ্টা থাকে।


মন্তব্য