জাকারবার্গের মতো-334842 | অবসরে | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


বড় হয়ে বড় হব

জাকারবার্গের মতো

ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস ২৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাট হাবেরের একটি লেখা প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম ফর সাম মেন, মার্ক জাকারবার্গ ইজ অ্যা লাইফস্টাইল গুরু। খুঁজে পেয়ে সালেহ শফিক বাংলা করেছেন

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জাকারবার্গের মতো

 

সূত্র

►    ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গের বয়স এখন ৩১।

►    ২০০৯ সালে জাকারবার্গ সিদ্ধান্ত নিলেন প্রতিদিন টাই পরবেন।

►    ২০১০ সালে তিনি প্রতিদিন বসেছিলেন ম্যান্ডারিন শিখতে।

►    ২০১১ সালে ঠিক করলেন শুধু সেই প্রাণীর গোশত খাবেন, যেটি নিজে জবাই করবেন। একবার এমন একটি মুরগির ছবিও প্রকাশ পেয়েছিল।

►    ২০১৩ সালে ঠিক করলেন, প্রতিদিন নতুন একজনের সঙ্গে পরিচিত হবেন।

►    ২০১৪ সালে প্রতিজ্ঞা করলেন, প্রতিদিন নিজে একটি থ্যাংক ইউ নোট লিখবেন।

►    ২০১৫ সালে তিনি নিজের গ্রন্থাগারে অনেক নতুন বই ওঠালেন এবং সপ্তাহে দুটি নতুন বই পড়া শুরু করলেন।

►    চলতি বছরে জাকারবার্গ নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। সম্ভবত এ বছর তিনি সন্তানকে অনেক সময় দেওয়ার কথা ভেবে থাকবেন। অবশ্য আগেই একবার ঘোষণা করেছিলেন, দৌড়াবেন ৩৬৫ মাইল এবং ভাঁড়ার ঘরের জন্য একটি ‘বাটলার’ (যে খাবার পরিবেশন করে) রোবট তৈরি করবেন।

 

ফলাফল

সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভেন পিংকার বলছেন, একা কোনো মানুষ সমাজের রীতিনীতি বদলাতে পারেন না। কিন্তু সফল মানুষ প্রভাব তৈরি করতে পারেন। জাগারবার্গও পারছেন। এটাকে আমি ভালোভাবে দেখছি।’ উল্লেখ্য, পিংকারের বই ‘দ্য বেটার অ্যাঞ্জেলস অব আওয়ার নেচার : হোয়াই ভায়োলেন্স হ্যাজ ডিক্লাইন্ড’ আছে জাকারবার্গে বইয়ের তাকে। পিংকার আরো বলছেন, ‘তিনি এখন উদাহরণ স্থাপনের দোরগোড়ায় উপস্থিত। মানুষের উপকারে আসার এটা ভালো সময়।’

প্রয়োগ

জাকারবার্গ একজন টেক-অবতার, যাঁর সাফল্য আর সমৃদ্ধি সবাইকে চমকিত করেছে। তিনি হয়ে উঠেছেন রোল মডেল। সান ফ্রান্সিসকোর একজন বাসিন্দা, নাম ডেভ ফন্টেনট (২২) বলছেন, সেই ২০০৯ সাল থেকে জাকারবার্গ যা যা করেন, তার মধ্যে কমপক্ষে তিনটি কাজ আমিও করে আসছি। এখন যেমন তিনি নিজের প্রতি অনেক যত্নবান হচ্ছেন, আমিও মনোযোগ দিচ্ছি নিজের প্রতি।’

জাকারবার্গের মতো ডেভ থ্যাংক ইউ নোট লিখেছেন। ‘অনেক দিন আমি থ্যাংক ইউ নোট লিখিনি, কিন্তু যখন জাকারাবার্গ শুরু করলেন, আমিও লিখতে থাকলাম। একজন বড় মানুষ যা করেন, তা নিজে করতে পারার আনন্দ আলাদা।’

২০১২ সালে ডেভ মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে জিতেছিলেন হ্যাকাথন (প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা)। দাওয়াত পেয়েছিলেন মেনলো পার্কের ফেসবুক হেডকোয়ার্টারে। কাছ থেকে দেখেছিলেন জাকারবার্গকে।

আরেকজন যেমন লুকাস বিওয়াল্ড, ক্রাউড সোর্সিং কম্পানির সিইও, জাকারবার্গের জাগলিং (একটি কাজের ছুতায় আরেকটি কাজ শেষ করা) মেথডের একনিষ্ঠ অনুসারী, তিনি বলছিলেন, ‘জাকারবার্গ যখন দৌড়ান তখনো প্রযুক্তি এগিয়ে যায়। জাকারবার্গও বাজার-সদাই করেন। কারণ সেখানেও অঙ্ক আছে।’         

এবার যাই জন মিলের কাছে। জনের বয়স ৩৩। মোবাইল ট্রেকার প্রতিষ্ঠান জেনপুটের সহপ্রতিষ্ঠাতা। ‘জাকারবার্গের মতো নিজের প্রতি যত্ন নিতে গিয়ে আমি এখন ইয়োগা শুরু করেছি, স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশ নিচ্ছি।’ সময় আর অর্থও লাগাচ্ছেন দাতব্য কাজে, যেমনটি জাগারবার্গ সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন। বলছিলেন, আমি আশ্চর্য হয়েছি তাঁর (জাকারবার্গের) সাম্প্রতিক ঘোষণা শুনে। কোনো মানুষ কি এভাবে পারেন তাঁর সব কিছু বিলিয়ে দিতে? তিনি নিজেকে বারবার বদলাচ্ছেন, হতে চাইছেন একজন ভালো মানুষ।

মন্ট্রিয়লের ডিজাইনার এরিক জুরিং। বয়স ২৬। তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যক্তি জাকারবার্গ ফেসবুকের চেয়েও বড় হয়ে উঠছেন। একজন মার্ক চাইছেন কোটি মানুষ হয়ে উঠতে। তিনি বুঝি বলছেন, সব সময় কম্পিউটার খুঁড়ে চলার দরকার নেই তোমার। সবচেয়ে বড় কম্পিউটার তো প্রকৃতি নিজে। ছড়িয়ে যাও সেখানে!

‘আমি নিরামিষভোজী হয়ে উঠেছি এবং শরীরচর্চা করছি, এক ঘণ্টা সময় নিয়ে বই পড়ছি অথবা বাজাচ্ছি গিটার। আমার মনে হয়, জাকারবার্গ চাইছেন, আমি এটিই হই। অনেকের মনে হতে পারে আমি বুঝি উদ্ভট! কিন্তু আমি ভালো বোধ করছি।

অন্যদিকে টবার নামের একজন বলছেন, আমি পড়ছি মন দিয়ে জাকারবার্গ ২৪ বছর বয়সে কী করেছেন এবং কী করেছেন ২৬ বছর বয়সে। আমি যে সবই তাঁর মতো করব তা নয়, তবে যতটা পারি করব। একটা সময় আমাদের গেছে, যখন শুধু কম্পিউটারই বুঝেছি। ভাবিনি আরো কিছু আছে দুনিয়ায়।

২০০৯ সালের আগের কিছু সাক্ষাত্কারে জাকারবার্গ বলেছেন, আমি যতটা মানুষ, তার চেয়েও বেশি মেশিন। যাঁরা ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ছবিটি দেখেছেন, তাঁরা এর সত্যতা টের পাবেন। এস্কয়ার সাময়িকীর লেখক টম জুনড প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন যে জাকারবার্গ বদলাচ্ছেন। তিনি লিখেছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বোরিং লোকটা এবার বুঝি সবচেয়ে মজার হয়ে উঠবেন!

তবে অনেকে ব্যাপারটি নিয়ে রসিকতাও করছেন। একজন ম্যাক্স নেনিস। ২৫ বছর বয়সী এ কম্পিউটার বায়োলজিস্ট বলছেন, বুঝতে পারছি না জাকারবার্গের মাথায় হঠাৎ কার্দাশিয়ান হওয়ার ভূত কেন চাপল? তিনি যেভাবে এখন নতুন নতুন ফর্মুলা হাজির করছেন, তা আমাকে ২০ বছর বয়সী মডেলদের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।’

মন্তব্য