kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লাইগো যেভাবে কাজ করে

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



লাইগো যেভাবে কাজ করে

একটি বিশেষ লেজারের মাধ্যমে লাইগোর ভেতর ২০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি তরঙ্গ তৈরি করা হয়। পরে সেটা বিম স্প্লিটারের মাধ্যমে দুই ভাগে ভাগ করে দুটি নলের ভেতর দুই দিকে ছোড়া হয়।

দুটি তরঙ্গ দুটি আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে উৎসমুখে। বাইরে উত্পন্ন হওয়া যেকোনো তরঙ্গ লাইগোর ভেতরকার ওই তরঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে। দূরবর্তী মহাজাগতিক ঘটনায় (যেমন দুটি ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষ) সৃষ্ট গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ এসে তালগোল পাকিয়েছে লাইগোর ভেতরে। যার প্রভাবে খানিকটা হলেও ওঠানামা করেছে লাইগোর ভেতরের স্পেস টাইম, তথা শূন্যস্থানের অদৃশ্য চাদরটা। ব্যাপারটা অনেকটা এমন, আপনি যদি শ্রবণশক্তিহীন হয়ে থাকেন, তাহলে সামনের মানুষ যত চিত্কারই করুক, আপনি তা শুনতে পাবেন না। কিন্তু লোকটা যদি আপনার গায়ে থাকা চাদরের কোনা ধরে খানিকটা টান দেয়, আপনি সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হয়ে যাবেন। গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভটাও লাইগোর ভেতর তেমন একটা টানাহেঁচড়ার পরিবেশ তৈরি করে। আর এতে নলের ভেতরে থাকা আয়নার দূরত্ব কমবেশি হয়। তৈরি হয় ‘অস্বাভাবিকতা’।

এখন প্রশ্ন হলো, বাইরের আরো অনেক কিছুই তো ওই তরঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু বাইরের স্থানীয় কোনো তরঙ্গের প্রভাব তো আর তিন হাজার কিলোমিটার দূরত্বে একই সঙ্গে পড়ার কথা নয়।

গ্র্যাভিটেশনাল তরঙ্গ যখন কোনো কিছুর ভেতর দিয়ে যায়, তখন ওই এলাকার স্থান ও কাল অতিক্ষুদ্র পরিমাণে চওড়া হয় আবার সংকুচিত হয়। এতে নলের ভেতরে থাকা তরঙ্গের যে পরিবর্তন ঘটে, সেটাই ধরা পড়ে লাইগোর ডিটেক্টরে। আর যখন ওয়াশিংটন ও লুইজিয়ানায় থাকা দুটি আলাদা লাইগোতে একই ধরনের পরিবর্তন একসঙ্গে ধরা পড়ে, তখন আর বোঝার বাকি থাকে না যে ওটা স্থান-কাল পরিবর্তনেরই বুজরুকি।


মন্তব্য