kalerkantho

রং রসিয়া

এফডিসিতে আইটেম গানের চল বলতে গেলে নতুন। আসলে আইটেম   

৩০ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



রং রসিয়া

একনজরে

প্রিয় বই

সমরেশ মজুমদারের

সাতকাহন

 

প্রিয় লেখক

হুমায়ূন আহমেদ

 

প্রিয় রং

সাদা ও গোলাপি

 

প্রিয় চলচ্চিত্র

বলিউডের বরফি

হলিউডের মি. অ্যান্ড মিসেস স্মিথ।

 

যে ধরনের ছবি বেশি পছন্দ

অ্যাকশন

 

প্রিয় তারকা

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

 

অবসরের কাজ

ঘুমানো, ফেসবুকিং

এবং টিভি দেখা

 

প্রিয় পোশাক

সালোয়ার-কামিজ

 

জীবনদর্শন

যখন যে পরিবেশে থাকি তার

সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া

 

স্বপ্ন

দেশসেরা অভিনেত্রী হওয়া

 

৩০টি বাংলা ছবির আইটেম গানে নেচেছেন বিপাশা। খেতাব পেয়েছেন 'আইটেম কুইন'। ২৪ মে সকাল ১১টা। এফডিসির ফ্লোর নম্বর ২। মদের দোকান ফ্লোরের একপাশে। হরেক ডিজাইনের বাহারি সব বোতল সাজানো। জ্বলছে লাল-নীল-সবুজ বাতি। বিপাশা সিলভার রঙের শর্টস আর টপস পরে মদ মাঙছেন। সহশিল্পী বাপ্পী এসে পেছন থেকে তাঁর চোখে হাত দিলেন। কিছুক্ষণ পর ভুল বুঝতে পেরে বললেন, 'স্যরি, আমি আপনাকে ভেবেছিলাম আমার বান্ধবী জুলি। ওরও এ রকম একটা ড্রেস আছে?' এদিকে বাপ্পিকে মনে ধরে গেছে বিপাশার। প্রত্যুত্তর, 'স্যরি বলার কী আছে। আমি কিছু মনে করিনি। আসল বান্ধবী না হলেও, হতে কতক্ষণ। চলেন ড্রিংক করি।' পরিচালক কাট বললেন। এগিয়ে গিয়ে পরিচয় দিতে বিপাশা চেয়ারের ব্যবস্থা করলেন। বললেন, 'নায়িকা হিসেবে এটা আমার চার নম্বর ছবি। নাম বাজে ছেলে-দ্য লোফার। এখানে আমি একটি বখে যাওয়া মেয়ে।'

জানতে চাইলাম, আইটেম কুইন তকমা পেয়েছেন, ভালো লাগে?

বিপাশা নিঃসংকোচে বলতে লাগলেন, 'আমি এটাকে ভীষণ এনজয় করি। আমাদের চলচ্চিত্রের ইতিহাস এক দিনের নয়। সেই পঞ্চাশের দশক থেকে অনেক ছবি হয়েছে। অসংখ্য গুণী শিল্পী ও ড্যান্সার এসেছেন। কিন্তু এত দিন পরে এসেও আইটেম কুইন তকমা আমি পেয়েছি, এটা অনেক গৌরবের। আজ যে পাঁচ-ছয়টি ছবিতে নায়িকা হওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তা এই আইটেম গানের জন্যই। একসময় যারা নাক সিঁটকাত তারাও আজ আইটেম গানে নাচছে। আমি খুশি, পথটা আমিই তৈরি করেছি।

২০১০ সালে বিপাশা যখন আইটেম গান শুরু করেন, তখন কেউ ব্যাপারটিকে ভালোভাবে নেয়নি। বিশেষ করে তাঁর নিজের পরিবার। এমনকি ভালোবাসার মানুষটিও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছে। অনেক দিন নীরবে কেঁদেছেন বিপাশা। লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় তিনি ১৪ জনের মধ্য থেকে ছিটকে পড়লেন। মিডিয়ায় কাজ পাচ্ছিলেন না। এর-ওর কাছে ধরনা দিচ্ছিলেন। তখনই জাজের আবদুল আজিজ তাঁকে বিশাল বাজেটের একটি আইটেম গানে কাজ করতে বলেন। গানটি ছিল মিলার গাওয়া 'প্রেম রসিয়া'। এ গানেই তিনি বাজিমাত করেছিলেন। এরপর একে একে ৩০টি ছবির গানে নেচেছেন।

তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য আইটেম কুইনের মতো ঢালিউড কুইন হওয়া। এ ব্যাপারে তাঁর পরিকল্পনা-কখনোই নতুন নায়ক-নায়িকার ছবিতে আইটেম গান করব না। কারণ এমন অনেক দেখেছি, শুধু আমার আইটেম গান দেখার জন্যই দর্শক হলে যাচ্ছে। আর আমারই সঙ্গে সেই নায়ক-নায়িকা যখন ভাব নেয়, তা আসলে মেনে নেওয়া যায় না।'

বিপাশার আরো কিছু পরিকল্পনা-এর পর থেকে ভিলেনদের সামনে শুধু ফুর্তি করার দৃশ্যে নাচব না। যদি কাহিনীর প্রয়োজনে নায়ক কোনো আইটেম গানের দৃশ্যে আসেন, তবেই নাচব। এ ছাড়া ভালো মানের সেট, কস্টিউম বা ভালো কথার গান না হলে কাজই করব না।

যোগ করলেন, আইটেম গান মানেই একটু চটুল বা সস্তা কথা, এটা পৃথিবীর সব জায়গায়ই প্রচলিত। কিন্তু অতিরিক্ত বাজে কথা, যা শিল্প বলে কিছুতেই মানতে পারি না, তেমন কাজ কেন করব। একবার এমনও হয়েছে, একটি ছবির পুরো গান, আইটেমের শুটিংয়ের সব ঠিক। কিন্তু গানের কথা অতিরিক্ত অশ্লীল। তখন আমি ওই গানের কথা পাল্টে ফেলে কাজ করেছি।' অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে বলছিলেন বিপাশা।

এত এত বিপত্তির কথা জেনেও কেন আইটেম গানে রাজি হলেন বা এই সাহস পেলেন কিভাবে-জানতে চাইলে বিপাশা বলেন, 'আসলে নিজের প্রতি শত ভাগ কনফিডেন্স ছিল যে যদি নিজেকে ভালোভাবে প্রেজেন্ট করতে পারি, তবে তা দর্শকও ফিল করবে। কিছু মানুষকে দেখেও সাহস পেয়েছি। বিশেষ করে চিত্রনায়িকা নূতন। তিনিও আশির দশকে একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। পরে ডাকসাইটে নায়িকা হয়েছিলেন।'

দেশের বাইরের তারকাদের উদাহরণও দিলেন বিপাশা। 'দেখুন, একটা সময় আইটেম গান শুধু নয়, সিনেমায় নায়ক-নায়িকার জড়িয়ে ধরার দৃশ্য দেখেও মানুষ কানাঘুষা করত। কিন্তু এখন যুগ বদলেছে। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে প্রথম সারির নায়িকা হয়েও হেলেন, জিনাত আমান, বৈজয়ন্তীমালা, স্মিতা পাতিল আইটেম গানে নেচেছেন। অথচ আশি-নব্বইয়ের দশকেই এটিকে আবার খারাপভাবে দেখা হয়েছে। বলিউডে আইটেম গানের নতুন যুগ শুরু হয় বছর দশেক আগে। রাখি সাওয়ান্ত, সোফি চৌধুরী, মালাইকা অরোরা প্রথমদিককার সফল আইটেম গার্ল। ২০১০ সালে যখন আমি আইটেম করছি, কারিনা, প্রিয়াঙ্কা, ক্যাটরিনাও তখন আইটেমে নাচছেন।' মডার্ন, হিপহপ গানে নাচতে জানেন বিপাশা। আবার ক্লাসিক্যাল বেইজড ফিউশনও নাচতে পারেন।

'আমি কোনো দিন কোনো নাচের শিক্ষকের কাছে গিয়ে নাচ শিখিনি।' তাহলে কিভাবে সম্ভব করলেন? 'ছোটবেলা থেকেই স্টার হওয়ার ইচ্ছা ছিল। আমি ছিলাম বলিউডের পোকা। সারা দিন ছবি দেখতাম। আয়নার সামনে কম নাচিনি। এভাবেই নাচটা ভেতরে ঢুকে গেছে। তা ছাড়া বলিউডের নাচের তো নির্দিষ্ট ফর্ম নেই। এখানে সব নাচের মিশেল রয়েছে। তাই আমারও কোনো ধরনের নাচে সমস্যা হয় না।' বললেন বিপাশা।

আরো বলেন, 'আমার এক্সপ্রেশন কিন্তু ফেলতে পারবেন না। আমার ভঙ্গিতে দর্শক মাৎ হয়ে যায়। ভঙ্গিগুলো একই সঙ্গে হট অ্যান্ড ক্লাসিক। তাই ভালগারিটি পাবেন না। এ ছাড়া আমি কখনোই এমন পোশাক পরি না, যা আমার শরীরের গড়ন ও গানের মেজাজের সঙ্গে যায় না। তার মানে এই নয় যে আমি পুরো শরীর ঢেকে নাচি। আবশ্যই আমি কমার্শিয়ালের বিষয়টি মাথায় রাখি। এই যেমন গত সপ্তাহে আমার মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবি 'গুণ্ডামি'তে একটি সিবিচে গান করেছি। আমাদের দেশে তো আর বিকিনি পরার চল নেই, তাই এমন পোশাক পরেছি, যাতে বিকিনির ফ্লেভারও পাওয়া যায় আবার ভালগারও না লাগে।'

বিপাশা বলেন, 'আমার প্রথম ছবি ভালোবাসার রঙের প্রেম রসিয়া, হানিমুন ছবির ভালোবাসার কোনো নেই সিজন, তুই শুধু আমার ছবির নটি নটি গার্ল, নিষ্পাপ মুন্না ছবিতে শাকিব খানের সঙ্গে করা গানটি আমার বেশি পছন্দ।

সব শেষে বলেন, 'যুগের চাহিদা মাথায় রেখেই আইটেম গান করছি। সফলতাও পেয়েছি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা হলেও আইটেম গান করে যাব। আর আমি চাই আমাদের আইটেম গানও যেন বলিউডের পর্যায়ে পৌঁছে।'

 

মন্তব্য