kalerkantho

সেঞ্চুরিয়ান

আলাউদ্দিন সুইটমিট

সোয়া শ বছর, মনকাড়া স্লোগান, সুস্বাদু হালুয়া আর বিচ   

৩০ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আলাউদ্দিন সুইটমিট

উত্তর আমেরিকায় আলাউদ্দিন

১৮৯৪ সালে ঢাকার চকবাজারে শুরু করেন আলাউদ্দিন। তিনি ছিলেন হালুইকর। বাড়ি ছিল ভারতের লক্ষ্মৌ। সেমাইতেও যশস্বী আলাউদ্দিন। তাঁর চতুর্থ প্রজন্ম এখন আলাউদ্দিন সুইটস দেখভাল করছে। আলাউদ্দিনের ছেলের নাম আফসারউদ্দিন। আফসারউদ্দিনের চার ছেলের মধ্যে দুজন জীবিত। হাজি মাহবুবউদ্দিন এখন পরিচালক। আলাউদ্দিনের দেশ-বিদেশে ১৬টি শাখা। এর মধ্যে চকবাজার-১, চকবাজার-২, নিউ মার্কেট, গ্রিন রোড, মৌচাক, সিদ্ধেশ্বরী, এয়ারপোর্ট, নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, লন্ডনের ব্রিকলেন অন্যতম। নিউ মার্কেট ও গ্রিন রোড শাখা বাদে বেশির ভাগ দোকানের পজেশন কম্পানির নিজস্ব। আলাউদ্দিন সুইটমিটের উল্লেখযোগ্য মিষ্টির মধ্যে আছে রসগোল্লা, স্পঞ্জ রসগোল্লা, লালমোহন, চমচম, গুড়ের সন্দেশ, কালোজাম, মালাইকারি, রাজভোগ, দই, হাফসি হালুয়া, দুদিয়া সন্দেশ, কাঁচা সন্দেশ, রসমালাই ইত্যাদি। ঢাকা কলেজের উল্টোদিকে মাহমুদ ম্যানসনের নিচতলার দোকানে গিয়েছিলাম এক বিকেলে। কাচের বাক্সে ভেতর মিষ্টি সাজানো থরে থরে। অনেক রকম মিষ্টির সমাহারে সেট প্যাকেটও দেখলাম কিছু। সেট প্যাকেটে গোলাপ ফুলের মতো একটি মিষ্টি দেখে মজা পেলাম। এখানে মিষ্টির দাম ১. রসগোল্লা ১৭০ টাকা ২. দই ১৭০ টাকা ৩. স্পঞ্জ রসগোল্লা ২৮০ টাকা ৩. হাফসি হালুয়া ৩২০ টাকা ৪. লালমোহন ১৭০ টাকা ৫. দুদিয়া সন্দেশ ৩১০ টাকা ৬. চমচম ২২০ টাকা ৭. কাঁচা সন্দেশ ৩২০ টাকা। উল্লেখ্য, এখানে সকালে নাশতার ব্যবস্থা নেই। হোম ডেলিভারি সুবিধাও নেই। তবে জন্মদিনের কেক পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট দিনের দুই দিন আগে অর্ডার করতে হয়। কেকের মূল্যও দিয়ে আসতে হয় আগেই। পার্টির মিষ্টি সরবরাহ করা হয়। তবে ডিসকাউন্ট পাওয়া যাবে না। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী গিফট বক্স তৈরি করে দেওয়া হয়। ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধের সুবিধা নেই।

১৯৮৮ কী ১৯৮৯ সাল হবে। পত্রিকা বলতে বিচিত্রাই চিনতাম। পুরো পাতাজুড়ে একটা ভীষণ মজার কার্টুন থাকত। শিল্পী রফিকুন্নবী আঁকতেন। তবে এই কার্টুনের চরিত্রগুলো টোকাইয়ের মতো ভারি ভারি কথা বলত না। বরং মিষ্টি মিষ্টি কথা বলত। হ্যাঁ আলাউদ্দিন সুইটমিটের বিজ্ঞাপন ছিল সেগুলো। আর কোনো মিষ্টির এমন রসাল বিজ্ঞাপনের কথা আমার মনে পড়ে না। শিল্পী রনবী বলেন, 'তখন সাপ্তাহিক বিচিত্রায় টোকাই করি। মনে আছে একবার বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনে এক হাজার টাকা দিয়েছিল আলাউদ্দিন সুইটস।' ঢাকার সেমাই ব্যবসায়ও সুদিন এনেছিল আলাউদ্দিন সুইটমিট। তবে শুধু মিষ্টি নয়, ঝাল খাবারেও আলাউদ্দিনের জুড়ি নেই। রমজানে ইফতারের আয়োজনে আলাউদ্দিনের থাকে কিমা পরোটা, টানা পরোটা, জালি কাবাব, বিফ স্টিক, চিজ লরেন্স, চিকেন স্টিক, চিকেন নাগেট আর পনির সমুচা। এর মধ্যে কিমা পরোটা আর চিস লরেন্সের চাহিদা ব্যাপক। আলাউদ্দিন সুইটমিট তাদের একটি শাখা নারিন্দায় খুলেছে। মূল শাখাটি চকবাজারে অবস্থিত।

সত্তরের দশকে, বিশেষ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে মিষ্টি ব্যবসার পট দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। অগ্রণী ভূমিকা নেয় আলাউদ্দিন সুইটমিট। গ্রিন রোডে তারা নতুন দোকান নেয়। ডিসপ্লে শেলফগুলোয় স্লাইডিং কাচের পার্টিশন দেয়। ফলে মাছি-মৌমাছির উৎপাত ছিল কম। এ দোকানে রেস্টুরেন্টের মতো বেশ কিছু চেয়ার-টেবিল ছিল। সেখানে কাস্টমাররা সকাল-দুপুরে মিষ্টি দিয়ে ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ সারত। মোটা খাকি কাগজের প্যাকেট অথবা ঠোঙার বদলে আলাউদ্দিন নিজেদের নাম সংবলিত নকশাবহুল পিচ বোর্ড বাক্স তৈরি করে। কেজি অথবা পিস দরে মিষ্টি বিক্রি শুরু হয়। আধুনিক পরিমাপ যন্ত্রও লাগানো হয় দোকানে। মিলাদ, কুলখানি, গায়ে হলুদ ও বিয়েতে আলাউদ্দিনের গাঢ় নীল ও ম্যাজেন্টা রঙের বিভিন্ন সাইজের মিষ্টির বাক্স দ্রুত জনপ্রিয় হয়।

 

 

মন্তব্য