kalerkantho

ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণহত্যা দিবস পালিত

আনিসুল হক, ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া) থেকে   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ১০:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণহত্যা দিবস পালিত

গণহত্যা ও জাতীয় দিবসে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার হউফসাইলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ২৫ মার্চ সোমবার বিকেল ৬টায় প্রদীপ প্রজ্বলন ও আলোচনা সভার অয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাউন্সেলর ও চ্যান্সারী প্রধান রাহাত বিন জামান।

শুরুতে ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে গণহত্যার শিকার সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপর প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ ও গণহত্যায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর গণহত্যা ও জাতীয় দিবসে উপলক্ষে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং অস্ট্রিয়া প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী, লেখক সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অষ্ট্রিয়া ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা বায়েজিদ মীর, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম, অস্ট্রিয়া আওয়ামী  লীগ নেতা মোশারফ হোসেন আজাদ, বখতিয়ার রানা প্রমুখ।

রাস্ট্রদূত মো. আবু জাফর বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের মধ্যরাত্রি থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতম গণহত্যাযজ্ঞ। মানবজাতির স্মরণকালের ইতিহাসে যার নজির নেই। তিনি ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত মুক্তিযুদ্ধের চতেনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একযোগে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

এম. নজরুল ইসলাম বলেন, একাত্তরের পঁচিশে মার্চের ভয়াল নিষ্ঠুরতার স্মৃতি বাঙালিদের এখনো কাঁদায়। পাকিস্তানিদের ওই বর্বরতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে নতুন করে জানানো প্রয়োজন। আজকের বিশ্বমানবতার অগ্রযাত্রার স্বার্থে গণহত্যার মতো নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা বায়েজিদ মীর বলেন, আজ জাতিসংঘের প্রতি আমাদের আহ্বান ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিন।

মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম বলেন, ‘একাত্তর সালের পঁচিশে মার্চ পাকিস্তানিদের সেই পৈশাচিক বর্বতা গণহত্যার ইতিহাসে এক ভয়াবহতম ঘটনা।

অনুষ্ঠনে জাতির পিতা ও  মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের  বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির অব্যাহত সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন দূতাবাসের সহকারী কনস্যুলার জুবায়দুল হক চৌধুরী। ভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মন্তব্য