kalerkantho

মালয়েশিয়ায় অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি ড. আসলাম

মালয়েশিয়া থেকে সংবাদদাতা   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মালয়েশিয়ায় অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি ড. আসলাম

ড. আসলাম মিয়া

মালয়েশিয়ার সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি মালায়া (ইউএম) থেকে 'ডেভেলপমেন্ট ট্র্যাকে' গবেষণা ও প্রকাশনায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ৫৮০ জন পিএইচডি প্রার্থীদের থেকে 'পিএইচডি ক্যান্ডিডেট উইথ হাইয়েস্ট ইমপ্যাক্ট পাবলিকেশন্স' অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি মো. আসলাম মিয়া। এটি প্রতিবছর ইউএম প্রদত্ত সবচেয়ে সম্মানিত পুরস্কারগুলোর মধ্যে একটি। 

মো. আসলাম মিয়া বগুড়া জেলার সদর উপজেলাধীন গোবর্ধনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ আলী এবং মা মোসাম্মাৎ ঝর্ণা বেগম।

জানা যায় পিএইচডি স্নাতকদেরকে মধ্য থেকে যারা অত্যন্ত পরিচিত আন্তর্জাতিক সমীক্ষা-পর্যালোচনা জার্নালগুলিতে গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করে থাকেন তাদেরকে মালায়া বিশ্ববিদ্যালয় এই সম্মানে ভূষিত করে থাকেন। উল্লেখ্য, মালায়া বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মহলে সুপরিচিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়, কিউএস ২০১৯ র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টি এশিয়ায় ১৯ এবং বিশ্বে ৮৭তম অবস্থানে রয়েছে।

এ ছাড়াও তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনটি ক্যাটাগরিতে “বেস্ট স্টুডেন্ট এওয়ার্ড” লাভ করেন। ব্যাচেলরে উল্লেখযোগ্য অর্জনের জন্য মালায়া বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ফুল স্কলারশিপসহ সরাসরি পিএইচডিতে যোগদানের অফার করেন। এভাবেই তিনি তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে খুব অল্প বয়সেই একজন সুপরিচিত অর্থনীতিবিদ হয়ে ওঠেন। উল্লেখ্য, ড. আসলাম মানিকছাক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে মাধ্যমিক এবং ২০০৮ সালে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ রেজাল্ট জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

ড. আসলাম তার এই সাফল্যর পেছনে বাবা, মা স্ত্রী (জান্নাতুন নূর কণা) ভাই বোন, বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনদের অনুপ্রেরণা ও সাহসকে অন্যতম অবদান বলে মনে করেন।

অসামান্য একাডেমিক সফলতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ড. আসলাম বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় সফলতার চাবিকাঠি। আপনি যদি কিছু অর্জন করতে চান তবে আপনাকে প্রথম শুরুতে একটি লক্ষ্য স্থাপন করতে হবে এবং এটি অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে। এবং অবশ্যই, যদি আপনি সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করেন তবে আপনি অবশ্যই পুরস্কৃত হবেন, আজ অথবা কাল।’ ড. আসলাম আরো উল্লেখ করেন, সাধারণভাবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিভাবান এবং মালয়েশিয়াসহ বহু দেশে অসাধারণ একাডেমিক কর্মক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে, গবেষণা সুযোগের অভাব, সম্পদ এবং দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সফলতার পেছনে প্রধান বাধা বলে উল্লেখ করেন।
 
মালয়েশিয়া বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুর ওপর তাঁর ২৫টির উপরে গবেষণা প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। এ সময়ে তিনি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং ফিলিপাইন ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তার গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।

বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়া অবস্থান করছেন এবং ইউনিভার্সিটি সাইন্স মালয়েশিয়া (ইউএসএম) এর স্কুল অফ ম্যানেজমেন্টে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। 

একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি স্বপ্ন দেখেন শুধু অর্থনৈতিক সূচকগুলির ক্ষেত্রেই নয় বরং সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উন্নত জাতি হিসেবে এগিয়ে যাবে।

মন্তব্য