kalerkantho

প্রশংসায় ভাসছেন ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত মুনা তাসনিম

জুয়েল রাজ, লন্ডন থেকে    

৩ মার্চ, ২০১৯ ১১:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশংসায় ভাসছেন ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত মুনা তাসনিম

আল-জাজিরার 'হেড টু হেড' শো'তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সাক্ষাৎকারের ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো বক্তব্যের জন্য ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের নির্বাচন, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে দমন-নিপীড়ন, শহীদুল ইসলামের গ্রেপ্তারসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মেহেদী হাসান।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশ্নের সম্মুখীন হন ড. রিজভী। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ব্যাপক প্রশংসার কথা তুলে ধরলে উপস্থাপক মেহেদী হাসান প্যানেল আলোচক অ্যামনেস্টির আব্বাস ফয়েজের কাছে জানতে চান রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যা করছে তা যথেষ্ট কি-না। উত্তরে আব্বাস ফয়েজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বাংলাদেশের এই মানবিক উদ্যোগও যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন। 

আব্বাস ফয়েজের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে উপস্থাপক হাইকমিশনার মুনা তাসনিমকে ফ্লোর দিলে তিনি প্রাঞ্জল ভাষায় এর বিরোধিতা করেন। একটি ঘনবসতিপূর্ণ ছোট্ট দেশের হাজারও সমস্যার পরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থসেবা দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক মিডিয়া কর্তৃক 'মাদার অব হিউম্যানিটি' হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন, এমন মন্তব্য করে তিনি দৃঢ়তার সাথে আব্বাস ফয়েজ ও উপস্থাপকের কাছে জানতে চান এত কিছুর পরও যদি এটি যথেষ্ট নয় বলা হয়, তাহলে আমার প্রশ্ন শরণার্থীবিষয়ক এমন আন্তর্জাতিক সমস্যায় এখন পর্যন্ত বিশ্বসম্প্রদায় কি করেছে? তিনি জানতে চান ব্রিটেনের মতো দেশ কি কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে এনে আশ্রয় দেবে? রোহিঙ্গা ইস্যুতে? বিশ্বসম্প্রদায় কি করছে ব্রিটেন কি নিয়ে আসবে কিছু সংখ্যক শরনার্থী?- হাইকমিশনারের এই পাল্টা প্রশ্ন রাখেন। বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সমালোচনার জবাবে মুনা তাসনিম সরকারের বিগত দুই টার্মের শাসনামলে দারিদ্র বিমোচন, উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের সাফল্যও তুলে ধরেন তাঁর মন্তব্যে।

অনুষ্ঠানে গওহর রিজভী ছাড়াও তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল অংশ নিয়েছিলেন। তারা হলেন রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনিম, এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ-এশিয়া বিশ্লেষক আব্বাস ফায়েজ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুইডিশ সাংবাদিক তাসনিম খলিল। যিনি ১/১১ সরকারের সময় বাংলাদেশ থেকে এসে সুইডেনে আশ্রয় নিয়েছেন। 

অক্সফোর্ড ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত 'হেড টু হেড' শো'তে অর্ধশতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

যাদের মধ্যে যুদ্ধপরাধ মামলায় জামায়াত লবিস্ট টবি ক্যাডম্যান, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আব্বাস ফয়েজ, সরকারের কঠোর সমালোচক ডেভিড বার্গম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মহিদুর রহমানসহ বিএনপি-জামায়াত সমর্থক একটি দল উপস্থিত ছিল। উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একটি দল। 

দীর্ঘ দেড় ঘণ্টারও বেশী সময়ের এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টাকে তীব্র প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন উপস্থাপক মেহেদী হাসান ও প্যানেল প্রশ্নকর্তারা। উপস্থিত দর্শকদেরও অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় ড. রিজভীকে। 

মন্তব্য