kalerkantho


বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে নিয়ে প্রবাসীদের কথা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৩:১৭



বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে নিয়ে প্রবাসীদের কথা

ছবি অনলাইন

বিশ্বে প্রবাসী আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। বাংলাদেশ পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম দেশ, যে দেশের এত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় ৮৮ লাখ বাংলাদেশি বাস করেন। প্রবাসী আয়ে প্রথম স্থানে থাকা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের জন্য দিবস আছে।

বাংলাদেশ জন্মের ৪৭বছরেও এ বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের জন্য আলাদা কোনো দিবস ছিলনা। নিউ ইয়র্ক স্টেট সেনেটর হোজে পেরাল্টার প্রস্তাবে নিউইয়র্ক স্টেট গভর্ণর এন্ড্র ক্যুমো ‘বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে’ নামের একটি রেজুলিশন পাশ করেন।  মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিৎ সাহার উদ্যোগের এই 'প্রক্লেমেশন'-এ  ২৫ সেপ্টেম্বরকে ‘বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ২০১৮ সালে।

দিবসটি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা পেশাজীবী প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। সবাই দিবসটিতে স্বাগত জানিয়েছেন। সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন দিবসটিকে সংসদে আইন আকারে পাশ করা হয়। সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের নিকট দিবসটি সংসদে উত্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি-পত্র পৌঁছে দেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ।

লস এঞ্জেলসের অ্যাকটিভিস্ট মুমিনুল হক বাচ্চু বলেন, লিটল বাংলাদেশ নামে খ্যাত লস এঞ্জেলেসে পঞ্চাশ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন। আমাদের সাবার পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্ক স্টেটকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন ঘোষণা করে গর্বিত করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই প্রবাসী বান্ধব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন তো আমাদেরই লোক। আমি তাদেও কাছে জোর দাবি জানাই যেন এটি সংসদে পাশ কওে সকল প্রবাসীদের সম্মানিত করেন।

যুক্তরাজ্য উদীচীর সভাপতি গোলাম মোস্তফা এই দিবসকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিউ ইয়র্ক স্টেট বাংলাদেশ ইমিগ্রান্ট ডে ঘোষণা করে আমাদেরকে সম্মানিত করেছে। এটা আমাদের জন্য গৌরবের। দলমত নির্বিশেষে আমারে প্রত্যেক প্রবাসীর  প্রধান দায়িত্ব দিনটিকে মর্যাদার সঙ্গে পালন করা। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে হবে।

সৌদী প্রবাসী আব্দুল আহাদ বলেন, আমরা দেশের জন্য বিদেশে থেকে যে পরিশ্রম করি আমি চাই প্রবাসীদের জন্য একটি আলাদা দিবস থাকুক। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান যে দিন জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন সেই দিনটিকে কেন বেছে নেওয়া হলো? আমি এই দিন ছাড়া যে কেনো দিন মেনে নিতে রাজি।

ইউরোপিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন এর সহ-সাধারণ সম্পাদক পোল্যান্ড প্রবাসী শাহরিয়ার সাকু বলেন, বাংলাদেশে বাহিরে প্রবাসী প্রত্যেকেই বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। আমেরিকা সরকার বাংলাদেশকে যে সম্মান দিয়েছে তা যদি সরকার গ্রহণ করে আইন পাশ করে তাহলে আমাদেরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করব।

কানাডা-বাংলাদেশ সলিডারিটির সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া বলেন, যে দিবসটি আমরা পেয়েছি সরকার যদি চায় তাহলে তা সহজে বাস্তবায়ন হতে পারে।

দিবসটির স্বপ্নদ্রষ্টা বিশ্বজিৎ সাহা বলেন,  আগামী ২০২১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শত জন্মবার্ষিকী। তার আগে ২৫ সেপ্টেম্বরকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বাংলাদেশ ইমিগ্র্যান্ট ডে’ ঘোষণা করে জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানাবার গৌরবতম অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমি মনে করি।  বহির্বিশ্বে বসবাসরত হাজার হাজার বাঙালি ‘বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট ডে’ পালনের মধ্য দিয়ে  জাতির জনক কর্তৃক বিশ্বপরিমন্ডলে বাংলাদেশকে তুলে ধরার ঐতিহাসিক দিনটির গুরুত্বও বহন করবে বলে  ‘বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্ট ডে’-এর প্রস্তাবক বিশ্বজিত সাহা জানান।

-- তোফাজ্জল লিটন, নিউ ইয়র্ক থেকে



মন্তব্য