kalerkantho


হজ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মিডিয়াকর্মীদের অভিযোগ

সৌদি আরব প্রতিনিধি   

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:২০



হজ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মিডিয়াকর্মীদের অভিযোগ

ইসলাম ধর্মের অন্যতম ফরজ ইবাদত পবিত্র হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় সোয়া লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে পাড়ি জমান। বিশ্বের বৃহত্তম এই সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রতিবছরই সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়োজিত থাকেন।
 
নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ হজ মিশন এ কাজে মিডিয়াকে হজের সংবাদ সংগ্রহে সর্বাত্মক সহায়তা করার কথা থাকলেও বাস্তবে গত দুই বছর ধরে উল্টোটা ঘটছে। সংবাদকর্মীদের অভিযোগ, এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন হজ কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান। হজ্বের সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ মিশনে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী স্ব স্ব মিডিয়ার পরিচয়পত্র ও আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র সময়মতো হজ কাউন্সিলরের কাছে জমা দেয়া হলেও নিয়ম না মেনে তিনি খেয়াল খুশিমতো নিজস্ব ব্যক্তিবর্গের হাতে তুলে দিয়েছেন হজের সংবাদ সংগ্রহের কার্ড। এতে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিকতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি বিভিন্ন মিডিয়ার কর্মীরা।
 
হজ সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ সংবাদ পেতে হাজীদের স্বজনরা বিভিন্ন মিডিয়ার ওপর সার্বক্ষনিক নির্ভর করেন। শুধুমাত্র হজ কাউন্সিলরের অসহযোগিতার কারণে মিডিয়া কর্তৃক হজ সংশ্লিষ্ট সঠিক সংবাদ সময়মতো প্রচার করতে না পারায় বঞ্চিত হয়েছেন দেশ-বিদেশের কোটি দর্শক ও হাজীদের স্বজনরা। যা অবাধ তথ্য প্রবাহে বাধাস্বরুপ ও তথ্য অধিকার আইনেরও পরিপন্থি বটে।   
 
হজের সংবাদ সংগ্রহের অনুমতিপত্র পেতে হজ কাউন্সিলর নির্দেশিত চাহিদা অনুযায়ী সকল কাগজপত্র জমা দেয়ার পর সবাইকে অনুমতিপত্র দেয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। কিন্তু হজের কার্যক্রম শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মিডিয়া কর্মীদের পক্ষ থেকে হজ কাউন্সিলরের অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে কল, ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ, ইমেইল প্রেরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শতবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অজ্ঞাত ও রহস্যজনক কারণে হজ কাউন্সিলরের পক্ষে থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। 

অপরদিকে নিজস্ব লোকদের সংবাদকর্মী বানিয়ে হজ পালনের সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অনুমতিপত্র না পেয়ে হজের সংবাদ সংগ্রহ করতে না পারা সংবাদকর্মীরা বলছেন, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই মিডিয়ার নামে অজ্ঞাত লোকদের কার্ড দিয়েছেন হজ কাউন্সিলর। এমনকি কোনো কোনো মিডিয়ার প্রতিনিধিকে অনুমতিপত্র দিয়েছেন তাও বলতেও নারাজ তিনি। যা অনৈতিক ও সম্পুর্ণ আইন বিরোধী। হজ কাউন্সিলরের মতো অতি গুরুত্বপুর্ণ পদের ব্যক্তিবর্গের এমন রহস্যজনক আচরণ অনেকের মনে প্রশ্ন তুলেছে।
 
হজ্বের সংবাদ সংগ্রহের জন্য আবেদিত ডিবিসি নিউজের মক্কা এবং জেদ্দা প্রতিনিধি রঞ্জু আহমেদ, বৈশাখী টিভির সৌদি আরব প্রতিনিধি এম এইচ প্রিন্স আহমেদ, যমুনা টিভির মক্কা ও জেদ্দা প্রতিনিধি মুরশিদ হাসান মুরাদসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী বলেন, হজ্ব কাউন্সিলরের নির্দেশিত সকল নিয়ম মেনে আবেদন করলেও রহস্যজনক কারণে গত দুই বছর ধরে হজের সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। অথচ সংবাদকর্মী নন এমন লোকদেরকে হজ মিশন সংবাদ সংগ্রহের অনুমতিপত্র প্রদান করতে দেখা গেছে। বিষয়টি দেখার যেনো কেউ নেই। রাষ্ট্রের সম্মানের সাথে জড়িত হজ মিশনের মতো গুরুত্বপুর্ণ স্থানে এমন স্বেচ্ছাচারিতা, অনৈতিকতা ও খেয়াল খুশিমতো কর্মকাণ্ড তথা সংবাদ সংগ্রহে বাধার অপচেষ্টা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।     
 
এদিকে, এ বছর হজের সংবাদ সংগ্রহের জন্য কোন কোন মিডিয়াকে অনুমতিপত্র দেয়া হয়েছে তার তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুদ্ধ সংবাদ কর্মীরা। একই সাথে হজ কাউন্সিলর কর্তৃক বর্তমান সরকার ঘোষিত সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা হরণের ও মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশের পবিত্র হজের মতো অতি গুরুত্বপুর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি ইভেন্টের সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার গভীর চক্রান্ত কিনা তা খতিয়ে দেখতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তারা।
 
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হজ্বকাউন্সিলর মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান আবেদিত সকল মিডিয়াকে অনুমতিপত্র দিয়েছেন বলে দাবি করেন। 
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, সাংবাদিকদের রহস্যজনক অসহযোগিতার বিষয়টি আমার জানা নেই। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হজের সংবাদ সংগ্রহের জন্য আবেদিত সকল মিডিয়াকর্মীকে অনুমতিপত্র দেয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটে থাকলে লিখিত অভিযোগ পেলে অতি দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।    



মন্তব্য