kalerkantho


অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

আনিসুল হক, ভিয়েনা (অষ্ট্রিয়া) থেকে   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:০৭



অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আজ মঙ্গলবার যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র ঈদুল-আজহা উদযাপিত হয়েছে। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে এই ঈদ উদযাপন করেন অষ্ট্রিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলমানরা। 

অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায় কর্তৃক পরিচালিত পাঁচটি মসজিদ রয়েছে । এই মসজিদগুলোতে প্রতিবারের মতো এবারও তিনটি করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল আটটা, সাড়ে নয়টা ও এগারোটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আর এসব জামাতে ছিল উপচে পড়া ভীড়। এর মধ্যেবেশ কিছু মুসল্লি ছিলেন অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির।

ভিয়েনার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার বাইতুল মোকাররম মসজিদে স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা সাইদুর রহমান। এ ছাড়াও ঈদের দ্বিতীয় জামাতে মাওলানা গোলামুর রহমান আল আজাহারী ও তৃতীয় জামাতে মাওলানা হাফেজ আবু জাফর ইমামতি করেন।

দ্বিতীয় জামাতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থায়ী মিশন ভিয়েনার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফর, কাউন্সেলর ও চ্যান্সারী প্রধান রাহাত বিন জামান, সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, অস্ট্রিয়া প্রবাসী লেখক, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অষ্ট্রিয়া ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা বায়েজিদ মীর, বিএনপি নেতা শান্ত খান রুবেল, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার বাইতুল মোকাররম ভিয়েনার কর্মকর্তা আবিদ হোসেন খান, জাহাঙ্গীর আলম, আহমেদ ফিরোজ, বাউল শিল্পী আবুল কালাম, শফিকুল ইসলাম, শাহ কামাল, নয়ন হোসেন, মাহাবুব খান শামীম, ইমরুল কায়েস, অবদুর রব খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। 

তিনটি জামাতেই অংশগ্রহণকারী বিপুল সংখ্যক মুসল্লিকে মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করে মসজিদ পরিচালনা কমিটি। এ ছাড়াও সবগুলো জামাতেই মানব কল্যাণ ও বিশ্বময় শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। 

বাংলাদেশিদের মসজিদগুলোতে প্রতিটি জামাতে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের এবং মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ঈদের জামাতের পর একে-অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভিয়েনায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অনেকেই কোরবানি দিয়েছেন। ভিয়েনা শহরের মধ্যে পশু জবাই করা নিষিদ্ধ থাকায় শহরের বাহিরে কসাইখানায় কোরবানি দিতে হয়। আর এইসব কসাইখানাগুলো ভিয়েনা থেকে বেশ দূরে। অনেকে ১০০ কিলোমিটার, কেউ ১৫০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে তাঁদের পছন্দের পশু কোরবানি করেছেন।

উল্লেখ্য অষ্ট্রিয়া প্রবাসী সিংহভাগ বাংলাদেশি ভিয়েনায় বাস করেন। রাজধানীর বাইরে অন্যান্য শহরেও ব্যাপক উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ঈদ উদযাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।



মন্তব্য