kalerkantho


নিউ ইয়র্কে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৮ মে, ২০১৮ ০১:১১



নিউ ইয়র্কে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি

ছবি: কালের কণ্ঠ

নিউ ইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ‘তারেক রহমান স্বদেশ প্রতাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ’। স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি যে সাজার রায় দেওয়া হয়েছে তাতে খালেদা জিয়া ন্যায় বিচার পাননি। মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েও বেআইনিভাবে খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামিদের সাজা দেওয়া হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনের যুক্তরাষ্ট্রস্থ তারেক রহমান স্বদেশ প্রতাবর্তন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ৯ বছর ৪ মাস যাবত দেশে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার কিভাবে দু:শাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল-‘বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে এবং বিএনপিকে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার জন্য রাজপথে পর্যন্ত নামতে দেয়া হচ্ছে না। তারা বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল অঙ্গকে সরকারের তাবেদার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য এবং জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য তারা সরকারের আজ্ঞাবহ আদালতকে ব্যবহার করছে। তথাকথিত সাজানো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে এবং গত তিন মাস যাবৎ তিনি কারান্তরালে কাটাচ্ছেন। দেশ বঞ্চিত হচ্ছে তার নেতৃত্ব থেকে।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিক্ষেপ করার পেছনে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় আসীন এ আওয়ামী শাসক চক্রকে দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহল ‘অবৈধ’ সরকার হিসেবেই গণ্য করে আসছে। কিন্তু সেদিকে তাদের ভ্রক্ষেপ নেই। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তারা ক্ষমতার উৎস জনগণের উপর নয় দলীয় অস্ত্রধারী ক্যাডার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উপর নির্ভর করছে। ক্ষমতা অব্যাহতভাবে কুক্ষিগত করে রাখার লক্ষ্যে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ ও জনপ্রিয় দল বিএনপিকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাইরে রাখতে তারা সকল অপকৌশল প্রয়োগ করতে শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি আন্দোলনে রয়েছে এবং দেশনেত্রী খালেদার জিয়ার মুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশে ও প্রবাসে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী শত প্রতিকূলতার মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দেয়ার দাবির মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতি, বিএনপির প্রতি এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা তা প্রকাশ করে চলেছেন। তাকে যে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং জনগণ তা গ্রহণ করেনি তাও প্রমাণিত হয়েছে। তারা আরো প্রমাণ করছেন যে, বেগম জিয়াই বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েছে। বিএনপি বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। 

দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলে গেছেন সকলকে ধৈর্য ধরতে, শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে। আমাদের সকল কর্মসূচি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার জন্য এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। বিএনপি মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং দেশনেত্রীকে ছাড়া দেশে কোনো অর্থবহ নির্বাচন হবে না। আমরা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চাই, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই, যারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণের আশা-আকাংখার বাস্তবায়ন ঘটাবে।

পারভেজ সাজ্জাদ বলেন, দেশে ও বিদেশে দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে আরো স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, করাগারে বন্দি বেগম খালেদা জিয়ার এবং বিএনপির জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্ত খালেদা জিয়ার চেয়ে বন্দি খালেদা জিয়া আরো বেশি শক্তিশালী। অন্যায়ভাবে তাকে দেয়া এই কারাদন্ড স্বৈরাচারী নিষ্ঠুর আওয়ামী সরকার পতনের প্রথম ধাক্কা। এই সাজার কারণে সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে। সরকার খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকেও গণবিক্ষোভ থেকে বাঁচতে পারবে না। 

সমগ্র দেশবাসী তার মুক্তির দাবিতে ফুঁসে উঠায় সরকার দিশেহারা হয়ে উঠেছে এবং তার মুক্তির আন্দোলনকে উপেক্ষা করে দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে। প্রতিদিনই আমরা বিএনপির নেতাকর্মীসহ শত শত লোককে গ্রেপ্তার করার খবর পাচ্ছি। এভাবে গণগ্রেপ্তার করে দেশের তিন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা যাবে না। জনগণই বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে। অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তার সুযোগ্য নেতৃত্বে গণতন্ত্র মুক্ত হবে এবং গণতন্ত্র ও গণমানুষের স্বাধীনতা ফিরে আসবে।

তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের গতি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাবে৷ শাসক দল আওয়ামী লীগ এখনই বিএনপির জনপ্রিয়তা দেখে হতাশ হয়ে পড়েছে। ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের দুই বছর সহ টানা ১১ বছর চার মাস ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর শত অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েও বিএনপিকে নি:শেষ করতে পারেনি সরকার। এ জন্য তারা মরণ কামড় দিতে শুরু করেছে। বিএনপি ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে জনগণের চিত্তে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। 

এবারও বিএনপি সতর্কতা বজায় রেখেই আন্দোলনে ভূমিকা রাখছে, যাতে সরকার আমাদের আন্দোলনকে বেআইনি বা অনিয়মতান্ত্রিক বলে চিহ্নিত করতে না পারে। সরকার বিএনপিকে কোণঠাসা করতে চাইলেও তারা নিজেরাই বুঝতে পারছে যে জনগণের ওপর তাদের কোনো প্রভাব নেই। বিএনপির পরিপক্ক রাজনীতি প্রতিবাদের ক্ষেত্রে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। কারাগারে যাওয়ার আগে বেগম জিয়া দলকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা অনুসরণ করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা এবং এতে জনসমর্থনও বেড়ে চলেছে তাদের প্রতি।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে দেশের মতো আমরা প্রবাসেও সক্রিয় এবং ঐক্যবদ্ধ। সরকারের ফাঁদে পা না দিয়ে আমরা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে এ আন্দোলন চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। দলীয় চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে আমরা রাজপথের আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুস সবুর, জাকির এইচ হাওলাদার, এবাদ চৌধুরী, খলকু রহমান, মার্শাল মুরাদ ও মতিউর রহমান লিটু প্রমুখ।



মন্তব্য