kalerkantho


ব্রিটেনে জালিয়াতি করে বৈধতা: বাংলাদেশিসহ দুই পাকিস্তানি অভিযুক্ত

জুয়েল রাজ (লন্ডন থেকে)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:০০



ব্রিটেনে জালিয়াতি করে বৈধতা: বাংলাদেশিসহ দুই পাকিস্তানি অভিযুক্ত

শামসু ইকবাল ও তার তিন সহযোগী

ব্রিটেন হোম অফিসের এক কর্মকর্তা ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে ৬ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত অবৈধ অভিবাসীদের দেশটিতে বৈধভাবে থাকার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় শামসু ইকবাল নামের এক হোম অফিস কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি অন্তত ৪৩৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা প্রদানে সহযোগিতা করেছেন।এই অভিযোগে অপর এক বাংলাদেশিসহ দুই পাকিস্তানি অভিযুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

বুধবার এই দুর্নীতির সাথে অভিযুক্ত চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আগামী সাপ্তাহে শুনানী হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল হতে পারে তাদের।

হোম অফিস জানিয়েছে, ৪৩৭ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধভাবে থাকার সুযোগ প্রদান করায় ব্রিটিশ করদাতাদের প্রায় ৫৬ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইল বলছে, এই চক্র দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৬.১৮ মিলিয়ন পাউন্ড পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও দুবাইয়ে পাচার করেছে। সেখানে তাদের শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই চক্রের দলনেতা শামসু ইকবালকে গ্রেপ্তার করার পর তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ মিলিয়নের বেশি পাউন্ড পাওয়া যায়। তিনি হোম অফিসে কাজ করার সুবাদে বার্ষিক ২৩ হাজার পাউন্ড বেতন পেতেন। ইকবাল এবং তার তিন সহযোগী অবৈধ অভিবাসীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৪ হাজার পাউন্ড করে নিয়ে তাদের বৈধ করতেন। ইকবালের অপর তিন সহযোগি হলেন-শেখ মুহাম্মদ উসমান, মোহাম্মদ কাওছার আফতাব হোসেন এবং মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী। শেখ উসমান ও কাওছার আফতাব হোসেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত। ইব্রাহিম আলী বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত সলিসিটার। তিনি ১২ বছর বয়সে ব্রিটেনে এসেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তার জন্য ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে। 

হোম অফিসের এক কর্মকর্তা মেইল অনলাইনকে জানিয়েছেন, এই চক্রকে ধরতে 'এন্টি করাপসন ইউনিট'-র তিন বছরের বেশি সময় লেগেছে। ঠিক কতজনকে বৈধতা দেয়া হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, এই প্রতারণা অনেক বছর ধরে চলছে। এ কারণে হোম অফিস বিব্রত। 



মন্তব্য