kalerkantho


জাতিসংঘে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

অটিজম আক্রান্তদের সকল সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে : সায়মা ওয়াজেদ

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৬ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৫২



অটিজম আক্রান্তদের সকল সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে : সায়মা ওয়াজেদ

ছবি: কালের কণ্ঠ

অটিজম আক্রান্তদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সুযোগ দিতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলের শুভেচ্ছা দূত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, অটিজম আক্রান্তদের সফল, ক্ষমতায়িত ও কর্মক্ষম ব্যক্তিতে পরিণত করতে আমাদের সমন্বিত ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে হবে। সকলেরই সমাজে সমানভাবে এবং সম্মানের সাথে বসবাস করার অধিকার রয়েছে। অটিজম আক্রান্ত মানুষেরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তাঁর প্রতিষ্ঠান সূচনা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকার, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও এনজিওদের সাথে সমন্বিতভাবে অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিসঅর্ডারসহ অন্যান্য ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের কল্যাণে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে মর্মেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে সকালে দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সায়মা হোসেন জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ আয়োজিত ‘অটিজম আক্রান্ত নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। ইভেন্টে প্যানেলিস্ট হিসাবে আলোচনায় তিনি অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের যে সকল সামাজিক ও পারিবারিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।

সায়মা হোসেন বলেন, অটিজমের শিকার নারীদের বিভিন্ন বৈষম্য ও তাঁদের প্রতি গতানুগতিক সামাজিক ও পারিবারিক ধারণার কথা, তাদের নাজুক পরিস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যসহ আশে-পাশের মানুষের দ্বারা নিগ্রহ ও নির্যাতনের বিষয়গুলো। তিনি বলেন, অটিজম আক্রান্ত নারী ও মেয়েরা নানবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে নিজেদের একান্ত চাওয়া পাওয়ার কথাও ঠিকমতো বোঝাতে পারেন না। এসকল নারীদের বিবাহ ও দাম্পত্য জীবনসহ প্রাত্যহিক জীবন-যাপন বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যবহারিক শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি তারা যাতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহনের মাধ্যমে তাদের অন্তর্নিহিত শক্তি ও সম্ভাবনার প্রকাশ ঘটাতে পারে সে বিষয়টির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সায়মা  ওয়াজেদ আরো বলেন, অটিজম আক্রান্তদের সমাজে জায়গা করে দিতে হবে যাতে তারা তাদের অবদান রাখতে পারে, অন্যথায় সমাজে বড় ধরণের বিভেদ তৈরি হবে। এক প্রশ্নের জবাবে সায়মা হোসেন বলেন, কনভেনশন অন দ্য রাইট অব পারসন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটি-এর সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকার অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এরফলে এক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দূত হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন আরও জানান বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার আক্রান্ত ব্যাক্তিবর্গের কল্যাণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কার্যালয়ের সহযোগিতায় আঞ্চলিক সমন্বিত কাঠামো গঠন করা হয়েছে যা সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সাথে একযোগে কাজ করে। ইভেন্টটির অন্যান্য প্যানেলিস্ট ছিলেন অটিজম উইমেন নেটওয়ার্কের চেয়ারপারসন মরেনিকি গিওয়া- ওনাইয়ু, অটিজম কনসালট্যান্ট অ্যামি গ্রাভিনো এবং জাতিসংঘের কমিটি অন দ্যা রাইট অব পারসন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটি-এর মেম্বার প্রফেসর জোনাস রুজকুস। মডারেটর ছিলেন জাতিসংঘের এনজিও সম্পর্ক বিষয়ক অফিসের প্রধান জেফ্রি ব্রিজ।

দুপুরে দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ ও কাতার মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মিজ্ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। অটিজম নিয়ে কাজ করছে এমন সংস্থাসমূহ এ প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন সদস্য দেশ, জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনিসেফ ও বিভিন্ন এনজিও স্টল স্থাপন করে। সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের প্রতিষ্ঠান ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ এই প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। বিকালে অটিজম স্পিকস্-এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও একটি সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন সায়মা ওয়াজেন হোসেন।


মন্তব্য