kalerkantho


জাতিসংঘে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বোঝা ভাগ করার আহ্বান

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৮ ০১:১৮



জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বোঝা ভাগ করার আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বোঝা ভাগ করে নেবার জন্য জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘কমিশন অন দ্যা স্যাস্টাস অব উইমেন’র চলতি ৬২তম অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত ইভেন্টটের নাম ছিল 'দায়ভাগ: জলবায়ু সৃষ্ট বাস্তুচ্যুতিতে গ্রামীণ নারী'।

প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উক্তি উল্লেখ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতের কোনো সমস্যা নয় এটি আমাদের জীবদ্দশায়ই ঘটছে এবং তা আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। কাজেই এ বিষয়ে আজই ব্যবস্থা নিতে হবে। সকলকে নিতে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এর সংবেদনশীলতার বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি, পদক্ষেপ এবং সার্বিক প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ‘আশ্রয়ণ’ ও ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ এর মতো প্রকল্পসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতিতে খাপ খেয়ে চলা এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সরকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকায় নিরাপদ পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও নিরাপদ পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যে আমার মন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নারী ও শিশুদের জন্য প্রকল্প বাস্তাবায়ন করছে।

‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’ পুরস্কার বিজয়ী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা বিষয়ক প্রবক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার এক্ষেত্রে আইনগত বিষয়াদি হালনাগাদ করা এবং প্রয়োজনীয় নতুন আইন তৈরিএ কাজ করে যাচ্ছে।

ইভেন্টটির প্যানেলিস্ট, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইউএন উইমেন এর নির্বাহী পরিচালক মিজ ফুমজিলে ম্যালাম্বে-নগোচুকা তাঁর সাম্প্রতিক বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের উদাহরণ টেনে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা  প্রদানে বাংলাদেশ সরকার ও এর জনগণ যে স্বত:স্ফুর্ততা ও আন্তরিকতা দেখিয়েছেন তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের নারীদের সহিষ্ণুতার ও সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। 

এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে মর্মে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ উল্লেখ করেন। সকল প্যানেলিস্ট বাংলাদেশের ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের প্রশংসা করেন। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নারীদের ধৈর্য্য ও সক্ষমতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তাঁরা।

অন্যান্যদের মাঝে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার নিউইয়র্কের লিয়াজোঁ অফিসের পরিচালক মিজ কারলা মুকাভি এবং মাইগ্রেশন এর থিমেটিক বিশেষজ্ঞ মিজ মারিয়াম তরাওরে চাজালনোয়েল ইভেন্টটির মডারেটর ছিলেন এনজিও কমিটি অন মাইগ্রেশন এর প্রতিনিধি মিজ তেরেসা বুম্যানস্টেইন, সংসদ সদস্য কাজী রোজীসহ চলতি সিএসডব্লিউ অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ ডেলিগেশন এর সদস্যগণ সাইড ইভেন্টটিতে যোগ দেন। এছাড়া অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের কর্মকর্তা এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিগণ ইভেন্টটিতে অংশগ্রহণ করেন।


মন্তব্য