kalerkantho


বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান পেল মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কার্যাদেশ

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০৫:৩৫



বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান পেল মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কার্যাদেশ

ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত সেই মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে নিউ ইয়র্কের বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠান। ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তড়িঘড়ি করে নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট গ্রুপ। এ কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে এরই মধ্যে বিতর্ক উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে। ইতিপূর্বে সরকারি তহবিল আত্মসাৎসহ একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে দেয়াল তোলার প্রথম কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এসডব্লিউএফ’কে। মাত্র একজন কর্মীর এই প্রতিষ্ঠানটির নামেই গত নভেম্বরে দেয়াল নির্মাণে ১১ মিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালেক্সিকোতে ৩০ ফুট উঁচু ও ৩০২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেয়াল বানানোর কথা প্রতিষ্ঠানটির।

এসডব্লিউএফের প্রকৃত মালিক নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট গ্রুপ। প্রশ্ন উঠেছে কোস্টাল কেন নিজের নামে ওই কার্যাদেশ না নিয়ে এসডব্লিউএফের নামে কাজটি নিয়েছে। সরকারি নথিতেও কোস্টালকে এসডব্লিউএফের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওমাহাতে নিবন্ধিত এসডব্লিউএফ কোস্টালের প্রতিষ্ঠান হিসেবে। আর নেবারাস্কা ডিপার্টমেন্ট অব লেবারে নিবন্ধিত। বৈধভাবে ব্যবসা করার জন্য ওই দুটি নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।

দেয়াল নির্মাণের কাজটি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসডব্লিউএফ। প্রতিষ্ঠানটিতে মাত্র একজন কর্মী রয়েছে। এটি মূলত নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট গ্রুপের একটি বেনামি প্রতিষ্ঠান।

কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে এর আগে পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ আছে। ভুয়া বিল দিয়ে সরকারি তহবিল নেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন অখ্যাত আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে সীমান্তে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেয়াল তোলার কাজ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

একটি ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোস্টালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। কোস্টালের সঙ্গে কাজ করেও চুক্তি অনুযায়ী টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এনভায়রো অয়ার্ক্স নামের ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী থমাস এ্যান্ডার্সন বলেছেন, তিনি অবাক হবেন না যদি কোস্টাল তার আগের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য গোপন করতে এই কাজ করে থাকে।

ক্যালেক্সিকোতে দেয়াল নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর ফোর্থ ওর্থের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর। কিভাবে এসডব্লিউএফ কার্যাদেশ পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলো, তা জনতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এপি। তবে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হয়নি সেনাবাহিনীর ওই ইউনিট।
 
এনভায়রো ওয়ার্কসকে দিয়ে কোস্টাল সীসা অপসারণের কাজ করিয়ে নিলেও পাওনা পরিশোধ করেনি। এছাড়া লভ্যাংশ ভাগাভাগির প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা-ও রক্ষা করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এনভায়রো ওয়ার্কসকে চার লাখ ডলার পাওনা অর্থ এবং ১৭ লাখ ডলারের লভ্যাংশ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য কোস্টালের বিরুদ্ধে আইন প্রক্রিয়া চলেছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রথমে এনভায়রো ওয়ার্কসের সঙ্গে চুক্তি করলেও হঠাৎ তারা অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায় এবং এনভায়রো ওয়ার্কসকে সব কর্মী ছাঁটাই করে দিতে বলে। এনভায়রো ওয়ার্কস তা করা মাত্রই কোস্টাল সেই কর্মীদের নিজের প্রতিষ্ঠানের আখ্যা দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে থাকে। মাঝখান থেকে বিপদে পড়ে এনভায়রো ওয়ার্কস। ২০১৫ সালে আদালতের বাইরে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করতে বাধ্য হয় কোস্টাল।

২০১৪ সালে কোস্টালের বিরুদ্ধে আবার মামলা করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেবার তারা আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএফ মেরিনা সিস্টেমসের এক লাখ ৭৫ হাজার ডলারের পাওনা আটকে রেখেছিল। এসএফ মেরিনা সিস্টেমস কোস্টালের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের জন্য একটি জেটি নির্মাণ করে দিয়েছিল।

ওই ঘটনার এক বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেরিয়র ডিপার্টমেন্টের নিরীক্ষায় কোস্টালের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল দিয়ে ২০ লাখ ডলার আদায়ের বিষয়টি ধরা পড়ে। কোস্টাল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফিস অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ সার্ভিসের’ কাছ থেকে ওই অর্থ নিয়েছিল খরচের কথা বলে। যদিও ওইসব খাতে খরচের কোনও প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি। পরে কোস্টালকে দুই লাখ ডলার ফেরত দেয়ার জন্য পাঁচ বছরের সময় বেঁধে দেয় ইন্টেরিয়র ডিপার্টমেন্ট। ওই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি।

পাওনা পরিশোধে বারবার তাগাদা দিলে মেরিনাকে একটি চেকের ফটোকপি পাঠায় কোস্টাল। শর্ত ছিল মেরিনা আগে লিখিত দেবে, তাদের পাওনা পরিশোধ হয়েছে। পরে তাদের আসল চেক দেওয়া হবে। মেরিনা শর্ত অনুযায়ী কাগজে স্বাক্ষর করে। কিন্তু কোস্টাল আর অর্থ পরিশোধ করেনি। ২০১৫ সালে এই মামলাটিও আদালতের বাইরে সমঝোতা করতে বাধ্য হয় কোস্টাল।


মন্তব্য