kalerkantho


খানার নামে ফানা, এবার করেন মানা

খানার নামে অযথা অপচয় রোধে সচেতনতার আহবান

এম আবদুল মন্নান, আমিরাত প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:২৩



খানার নামে অযথা অপচয় রোধে সচেতনতার আহবান

ছবি: কালের কণ্ঠ

বিয়ে কিংবা জন্মদিন, জেয়াফত কিংবা মেজবান, বউ ভাত কিংবা জামাই ভাতে দেশে কিংবা বিদেশে সব জায়গায় চলছে অধিক আইটেমের খানা আয়োজন করে অযথা অপচয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এখানেও প্রবাসীদের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রযোজনের তুলনায় অধিক খানার আয়োজন করে অযথা অর্থের অপচয় করে থাকেন অনেকেই। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রবাসীদের আতিথেয়তা প্রবণতা বেশী বলে তারাই এ অপচয়ের শিকার বেশি হন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আট লক্ষাধিক প্রবাসীদের অধিকাংশ প্রবাসীরাই হচ্ছেন বৃহত্তর চট্রগ্রাম অঞ্চলের। চট্রগ্রামের অঞ্চলের লোকেরা অতিথি পরায়ন হন একটু বেশি। দেশের মত তাঁরা এখানেও আয়োজন করে থাকেন নানা সামাজিক অনুষ্ঠানাদি। তাঁদের বিয়ে, জম্মদিন, জেয়াফত, পিকনিক, মিলাদ ও মেজবানে খাবারের পরিবেশনা অনেকটা প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়ে থাকে। যেখানে যেকোন লোক বা ব্যক্তি দুই বা তিন তরকারি দিয়ে তাদের খাবার শেষ করতে পারেন সেখানে তাঁরা আরো অতিরিক্ত ৫/৬ পদের খানা বেশি করেন। ফলে প্রতিজনের খানায় অতিরিক্ত খাবার গুলো নষ্ট হয়ে যায়। উচ্ছিস্ট খানাগুলো ফেলে দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। এতে খানার অপচয়ের পাশাপাশি অর্থেরও অপচয় হয়।

চট্টগ্রামের নাসির উদ্দিন তালুকদার, মোহাম্মদ জামশেদ, ফজলুল করিম চৌধুরী, হাজী ওসমান আলী, সেলিম আনসারী, ওসমান তালুকদার, দিদার তালুকদারসহ প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ ধরনের আয়োজনকে নিছক অর্থের অপচয় বলে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রামের মাওলানা নুরুর আবছার তৈয়বী, মাওলানা আলী রেজা ও মাওলানা ওসমান তালুকদারের মতে, বিয়ে, জন্মদিন মেজবান, দাওয়াতে ১৫-২০ আইটেমের অতিরিক্ত খানাগুলো অতিরিক্ত লোকের জন্য আয়োজন অর্থের যেমন অপচয় তেমনি ইসলামী শরীয়ত মোতাবেকও এ সমস্ত অপচয় করা মানা। তারপরও ধর্মপ্রিয় চট্টগ্রামবাসী ও চট্টগ্রামপ্রবাসীরা আতিথেয়তার নামে এ সমস্ত অপচয়টা করে যাচ্ছেন অহরহ। বিশেষ করে বিয়ে শাদীতে যা হচ্ছে তা নিতান্তই অপচয়। বিয়ের দিন, বিয়ের আগের দিন আর বিয়ের পরের দিনে খানার অপচয়টা উল্লেখযোগ্য। এ অপচয়ের সংস্কৃতিটা থেকে উত্তরনের জন্য সবাইকে সচেতন হবার আহবান জানান এ সমস্ত প্রবাসীরা।

চট্টগ্রামের এ সমস্ত সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত খাবারের আয়োজনগুলো নিছক অপচয়। মানুষের চাহিদার অতিরিক্ত আয়োজনটা একটা আর্থিক ভোজা। উচ্চ মুল্যের মাছ, মাংস, মুরগী, ডিমসহ নানা জাতের তেল ও চর্বিযুক্ত খানাগুলো প্রযোজনের অতিরিক্ত খাবার ফলে অপচয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ ব্যাধিরও সৃষ্টি হয়। আবার অনেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ ধরনের অতিরিক্ত খাবার আয়োজনে ধার-কর্জে করেও করে থাকেন। ফলে অপচয়ের পাশাপাশি রোগব্যধিতে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকে। ফলে শারীরিক আর মানসিক অশান্তিতে পড়তে হয় অনেককে।

আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীরা বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রবাসীদের প্রত্যাশা এ সমস্ত অপচয় রোধে দেশে ও বিদেশে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি দেশে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। তাঁদের মতে, খানার নামে ফানা, এবার করতে হবে মানা।


মন্তব্য