kalerkantho


রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহবান

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৫:০১



রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহবান

পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ক এগিয়ে না এলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায়-দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। অচিরেই এ সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ প্রদানের আহ্বান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা প্রদান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও এর টেকসই সমাধানের ওপর ‘রোহিঙ্গা হিউম্যানিটারিয়ান ক্রাইসিস: বাংলাদেশ রেসপন্স’ শীর্ষক একটি বক্তব্য প্রদান করেন। রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় প্রদানের ফলে বাংলাদেশ যে নিরাপত্তা, আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তা সবিস্তারে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব। কোনো বিশেষ মহল যাতে রোহিঙ্গাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে না পারে সেদিকে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি এ সঙ্কটের সমাধানে সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে উল্লিখিত ৫ দফা সুপারিশের পুনরুল্লেখ করেন।

শহীদুল হক বলেন, এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, বতর্মানে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাংলাদেশ চায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিজ ভূমিতে নিরাপদে, নিরাপত্তার সঙ্গে এবং পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। নিজভূমিতে প্রত্যাবর্তন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা এবং এই সমস্যার টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের উপর অব্যাহত চাপ প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।

প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এবং এ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে উপস্থিত রাষ্ট্রদূতদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। কারণ এ সমস্যা তাদেরই সৃষ্টি এবং মিয়ানমারই রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি। অনুষ্ঠানটিতে ভারত, রাশিয়া, চীন, নেদারল্যান্ড, পেরু, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ওমান, সিঙ্গাপুর, ভ্যাটিক্যান, মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়াসহ প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। একইদিন বিকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন : এ টুল ফর গ্লোবাল ডেভোলপমেন্ট’ বিষয়ক এক প্যানেল আলোচনায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি (পিজিএ) মিরোস্লাভ ল্যাজাক এর সাথে বৈঠক করেছেন তিনি। বৈঠকে সাধারণ পরিষদের সভাপতি রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই সঙ্কটের টেকসই সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোককের সঙ্গেও বৈঠক পররাষ্ট্র সচিব। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তিনি জাতিসংঘসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপর জোর দেন। মার্ক লোকক এই সঙ্কটের সমাধানে জাতিসংঘ সংস্থাসমূহের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল সহযোগীতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রে ডি ফেল্টম্যানের সঙ্গে নিউইয়র্কে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব। মিয়ানমারসহ আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ফেল্টম্যান এ বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বৈঠকসমূহে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন।



মন্তব্য