kalerkantho


অনন্য সুন্দর স্থাপত্যের নিদর্শন শেখ জায়েদ গ্রান্ড মসজিদ

এম আবদুল মন্নান, আমিরাত প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০১:৫৯



অনন্য সুন্দর স্থাপত্যের নিদর্শন শেখ জায়েদ গ্রান্ড মসজিদ

ছবি: কালের কণ্ঠ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্ববৃহৎ এবং পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম এবং সুন্দরতম মসজিদ শেক জায়েদ গ্রান্ড মসজিদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনক শেখ জায়েদ বিন আল নাহিয়ানের নাম অনুসারে এ মসজিদটির নাম করন করা হয় শেখ জায়েদ গ্রান্ড মসজিদ। প্রতিদিন শত শত বাংলাদেশী প্রবাসীসহ দেশ বিদেশের হাজার হাজার পযর্টক এ মসজিদটি দেখতে আর নামাজ পড়তে ভীড় জমান।

আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর মাকতা ব্রিজ সংলগ্ন এয়ারপোর্ট রোড ও মোচ্চাফ্ফা রোডের মাঝখানে ১০৭ মিটার উঁচু চার মিনার বিশিষ্ট এই মসজিদটি ১২ হেক্টর বা ৩০ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কার্পেট (৫৬২৭ বর্গমিটার) এবং সর্ববৃহৎ ঝারবাতি (১০ মিটার ব্যাস এবং ১৫ মিটার উচু) বিশিষ্ট এই মসজিদের আঙ্গিনা ১৭০০০ বর্গমিটারের মার্বেল মোজাইকও পৃথিবীর সর্ববৃহৎ চওড়া মার্বেল মোজাইক বলে স্বীকৃত।

ছোট বড় ৭ আকারের ৮২টি গম্বুজ বিশিষ্ট শ্বেত মার্বেলে ২০০৭ সালে (যা ১৯৯৬ সালে নির্মাণ শুরু করা হয় কিন্তু মধ্যখানে কয়েক বছর নির্মাণ কাজ স্হগিত রাখা হয়) ২ বিলিয়ন দিরহামে বা ৪৫ বিলিয়ন টাকা খরচে নির্মিত এ মসজিদের মুসল্লি ধারন ক্ষমতা ৪২ হাজার। আশপাশের খোলা এরিয়াসহ এ মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লির নামাজের জায়গা আছে। এ মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন পৃথিবীর নানা দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে আসেন। আমাদের দেশ থেকেও যাঁরা আমিরাতে আসেন তারা মসজিদটি না দেখে বা নামাজ না পড়ে ফিরে যান না।

মসজিদের ভেতর এবং বাহির যেমন সুন্দর কারুকাজ করা মার্বেল দিয়ে তৈরি তেমনি মেঝেতে আছে হাতে তৈরি করা পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ সোনালী কার্পেট। মসজিদের তিন পাশে আছে স্বচ্ছ পানির কৃত্রিম লেক। মসজিদের পশ্চিম পাশ ছাড়া বাকী তিন পাশে আছে সবুজের বেস্টনি ঘেরা হাজার হাজার গাড়ী পার্কি।  যাতে মুসল্লিরা আর পর্যটকরা তাদের গাড়ি পার্কিং করতে পারেন। মসজিদের পূর্বে আছে খোলা আঙিনা আর নিচে আন্ডার গ্রাউন্ড লেভেলে আছে সুদৃশ্য আধুনিক লিফট বিশিষ্ট বাথরুম ও ওজুখানা।

রমজানে তারাবির নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য যেমন ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ মুসল্লিরা এ মসজিদে আসেন। তেমনি এ মসজিদের অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য আমাদের দেশীয় শত শত প্রবাসীসহ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার পর্যটকরাও প্রতিদিন এখানে আসেন। এই মসজিদ দেখতে আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও আসেন স্থানীয় আরবী ও প্রবাসীরা।
 
জুম'আ আর ঈদের নামাজে মানুষের উপচেপড়া ভিড় আর রমজানের গণইফতার পার্টির জমায়েত না দেখলে বুঝাই যায় না কত মানুষ এখানে নামাজ পড়তে, ইফতার করতে ও দেখতে আসেন?

নারীদের জন্য আছে নামাজের আলাদা জায়গা। মসজিদ আঙিনায় অন্যান্য ধর্মাবলীর নারীরা প্রবেশে বাধা থাকলেও বোরকা পড়ে মসজিদের আঙিনাসহ ভেতরে মসজিদের অপরূপ কারুকাজ ও সৌন্দর্য্য দেখতে যাওয়াতে আপত্তি নেই। এ মসজিদের পাশেই আছে শেখ জায়েদ বিন আল নাহিয়ানের মাজার। যা দেখতেও পর্যটকরা ভিড় করেন।

পবিত্র মাহে রমজানের গণইফতার পার্টিতে যোগ দিতে ও তারাবির নামাজ আদায় করতে আমিরাতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রান মুসল্লিরা ছুটে আসেন। প্রতিবছর রমজান মাসে পহেলা রমজান থেকে ত্রিশে রমজান পর্যন্ত মাসব্যাপী এখানে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতারে প্রতিদিন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিসহ নানা দেশের ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজারের বেশি মুসলমান শরীক হয়। ইফতারের এ বিশাল আয়োজন ইউএই প্রেসিডেন্টের ফান্ড থেকে করা হয়। আবুধাবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইফতার পার্টিতে সহজে আসা যাওয়ার জন্য ফ্রি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের মন্তব্য, এই মসজিদ পৃথিবীর অন্যতম সেরা এক দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য। তাই তারা বার বার এখানে ফিরে আসার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেন।



মন্তব্য