kalerkantho


প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

বোস্টন প্রবাসী মীর ফজলুল করিম কখনোই বিএনপিতে ছিলেন না

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৪:৫৯



বোস্টন প্রবাসী মীর ফজলুল করিম কখনোই বিএনপিতে ছিলেন না

ছবি: কালের কণ্ঠ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোষ্টন প্রবাসী মীর ফজলুল করিম কখনোই নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির কমিটির সাধারণ সদস্য কিংবা ভোটার ছিলেন না। রাজনৈতিক এ দলটির কোনো উপদেষ্টা পদেও ছিলেন না তিনি। গত সোমবার ‘খালেদা জিয়ার সাজা হলে বোস্টন থেকেও আন্দোলন করবে বিএনপি’ শিরোনামে গত ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ কালের কন্ঠ'র পরবাস পাতায়-এ প্রকাশিত খবরে তাঁকে উপদেষ্টা বলে উল্লেখ করায় তিনি এক প্রতিবাদলিপিতে এ কথা জানান।

প্রতিবাদ লিপিতে তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে আমাকে নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল। কারন আমি কখনোই নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির উপদেষ্টা ছিলাম না। এমনকি আমি কখনো এই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোনোপ্রকার কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে আমি মোটেই অবহিত নই ও জড়িত নই।

তিনি বলেন, আমি একজন মার্জিত ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি বৈজ্ঞানিক তথা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির কর্মী। বোস্টনবাসী সকলের সঙ্গেই (যে কোনো মতাদর্শের ঊর্ধ্বে) আমার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। প্রবাসে বাংলাদেশের যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করলে আমি সময় পেলে আয়োজকদের সম্মানে সেই অনুষ্ঠানে ধর্মীয়, জাতীয়তা, বৈজ্ঞানিক, কারিগরি, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক নির্বিশেষে যোগদান করার চেষ্টা করি।

গত ২৬ জানুয়ারি বোষ্টন প্রবাসী ও বিএনপি নেতা সোহরাব এইচ খান এবং আবুল বাশার শহীদ জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বোস্টনের রিঞ্জ এভিনুতে বাচ্চাদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক ও আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য ফোনে আমাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি প্রথমে যেতে অপারগতা জানাই। বয়সে ছোট প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে আমি তাদের সবসময় স্নেহের চোখে দেখি, তাই তাদের বিনম্র অনুরোধ তথা বাচ্চাদের গান বাজনা, ম্যাজিক শো এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের কথায় আবেগ প্রবণ হয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য অতি সরল মনে সম্মতি জানাই। কথা ছিল বাচ্চাদের সঙ্গে আমি সময় কাটাবো এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের জীবনী নিয়ে তাদের কিছু কথা বলব। অনুষ্ঠানে যেয়ে দেখি বড়দের চাইতে বাচ্চারাই বেশি। বাচ্চাদের দেখে আমার ভালোই লাগছিল।

কিন্তু বেশ ক’জন বক্তার রাজনৈতিক ভাষণে আমি মর্মাহত। এক পর্যায়ে কোনো এক বক্তা বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কথা বলে যা ওইদিনকার জন্মদিন অনুষ্ঠানে সন্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আমার সঙ্গে কথা ছিল যে তারা কোনো প্রকার রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করবে না। তারা তাদের কথা রাখেনি বিধায় আমি অসন্তষ্টি প্রকাশ করেছি। আমার মোটেই ধারণা ছিলনা যে তারা সংগঠনের নির্বাচনে পরাজিত একটি অংশ এবংশহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানটি অন্য উদ্দেশে ব্যবহার করছেন। এ ধরনের বিতর্কিত অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য আমি নিজেই মর্মাহত বোধ করছি।

আমি নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির বিভাজনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত বেশ কয়েক জনের কাছে অবগত হই যে কিছুদিন আগে নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির নির্বাচনে এই অনুষ্ঠানে অনেকেই পরাজিত হয়েছিল, সেটাও আমার জানা ছিল না। কাজের ব্যস্ততায় আমি কমুনিটির অনেক সংবাদ রাখি না। জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানটি তাদের কার্যকরী পরিষদ গঠন করার বিষয়টি আমাকে পূর্বে বলা হয় নাই। তা ছাড়া জন্মদিন অনুষ্ঠানে কিছু বক্তাদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। আমার লজ্জা করছিল যে আমি এইরূপ একটা অপ্রাসঙ্গিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আমি এই অনুষ্ঠানে যেয়ে মোটেই স্বচ্ছন্দ্যবোধ করি নাই।

অনুষ্ঠান শেষের দিকে আমাকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করা হয়, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমানের জীবনী নিয়ে বাচ্চাদের দুটি কথা বলি এবং তাদের অবগত করি যে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদেশক্রমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠ করেন’। আমি মনে করি জাতীয় ঐক্যের জন্য প্রবাসে বসবাসকারী পরবর্তী প্রজন্মের এটা জানা আবশ্যক। আমি আরো বলি বাংলাদেশের মানুষের ভেতর ঐক্য ফিরিয়ে আনার জন্য স্বাধীনাতা সাথে জড়িত সকলকে সন্মান করতে হবে আর সকলকেই মূল্যায়ন করতে হবে। সুস্থ সামাজিক ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য যাহা খুব প্রয়োজন।


মন্তব্য