kalerkantho


নিউ ইয়র্কের অগ্নিকাণ্ডে হতাহত হয়নি কোন বাংলাদেশি

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:২৪



নিউ ইয়র্কের অগ্নিকাণ্ডে হতাহত হয়নি কোন বাংলাদেশি

ছবি : কালের কণ্ঠ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের তালিকায় কোন বাংলাদেশি নেই। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগে ১২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এটি গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড বলে দাবি করেছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও।

ব্রঙ্কসে হাজার হাজার বাংলাদেশি বসবাস করলেও অগ্নিকাণ্ডের সেই ভবনে কোন বাংলাদেশি বসবাস ছিল না বলে স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন। ব্রঙ্কসে বাস করেন এমন বাংলা সংবাদপত্রের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও একই কথা বলেন। এছাড়া হতাহতের তালিকায়ও বাংলাদেশির কোন নাম নেই বলে জানা গেছে।

নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান জানান, বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে সাধারণত মানুষ কনস্যুলেট অফিসে আগে খবর দেন। কিন্তু ব্রঙ্কসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোন বাংলাদেশির হতাহতের কোন খবর তিনি এখনো শোনেন নি।

ফোর্ডহাম ইউনিভার্সিটি এবং ব্রঙ্কস জু এর কাছে প্রসপেক্ট এভিনিউতে ৫ তলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবনটিতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। তারপরেই তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে। শহরের দমকল বিভাগের একটি টুইটে বলা হয়, ১৬০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী আগুন নেভানোর কাজে নামেন। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কিভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও এই আগুনের ভয়াবহতাকে ‘অবর্ণনীয় বিয়োগান্তক’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেয়র বলেন, এটি অনেক বছরের মধ্যে আগুন লেগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হওয়া ঘটনাগুলোর একটি।

টুইটারেও তিনি একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। টুইটারে ব্লাসিও লিখেছেন, আজ রাতে ব্রঙ্কসে আমরা যা দেখেছি তা অন্তত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম কোনও ভয়াবহ বিয়োগান্তক ঘটনা। এটি অবর্ণনীয়। পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আগুনের লেলিহান শিখা থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হওয়ায় দমকলকর্মীদের প্রশংসা করেছেন ব্লাসিও।

দমকল বিভাগের কমিশনার ড্যানিয়েল নিগ্রো প্রাণহানির সংখ্যা বিবেচনা করে এই আগুনের ভয়াবহতাকে ‘ঐতিহাসিক মাত্রা’র বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেসকল মানুষ প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং যারা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি।’

 



মন্তব্য