kalerkantho


বোস্টনে বিএনপির সভায় ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি

জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে যেতে হবে

সাবেদ সাথী, বোস্টন থেকে ফিরে   

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৫:১৭



জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে যেতে হবে

ছবি: কালের কণ্ঠ

জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নিতে হবে। দেশের বর্তমান অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে না যাবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা দলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। নির্বাচন বর্জন করে তা ঠেকাতে না পারলে এর দায়-দায়িত্ব কে নেবেন। দেশের মানুষের কাছে বিএনপি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল কিনা সেটা যাচাই করার জন্য বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতেই হবে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের পার্শ্ববর্তী নর্থ রিডিং শহরের একটি চার্চের মিলনায়তনে নিউ ইংল্যান্ড বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের  আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সাবেক সাংসদ ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এসব কথা বলেন।
 
নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির সভাপতি সৈয়দ বদরে আলম সাইফুলের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাফু্ল আলম টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় ঢাকা সাভার এলাকার বিএনপির সাবেক সাংসদ দেওয়ান সালাউদ্দিন আরো বলেন, বিএনপিকে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ বসে আছে, সেই সুযোগ তাদেরকে দিতে হবে। ভোট বর্জন করে তা ঠেকাতে না পারলে তখন কি হবে। চিরস্থায়ীভাবে নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্যে আওয়ামী লীগ চেষ্টা চালাবেই। আওয়ামী লীগ সরকারের ধারণা দেশকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিলে কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের কথা বললে মানুষ গণতন্ত্রের কথা ভুলে যাবে। কিন্ত বহু কষ্টে অর্জিত বাংলার মানুষের সেই গণতন্ত্রকে বিএনপি আবার ফিরিয়ে আনবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ সন্তুষ্ট নন। তারা বিকল্প পথ খুঁজছেন। মানুষ আবার বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই আওয়ামী লীগকে পছন্দ করতেন না। এ জন্য তিনি বাধ্য হয়েই বাকশাল নামে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম দিয়েছিলেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই এরশাদ বলেছিলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ১ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে। ফলাফলে দেখা গেল ৯৮ হাজার ভোট বেশি পেয়ে তাঁর প্রার্থী জয়ী হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়েছে রংপুর সিটি নির্বাচন একটি সাজানো ও পরিকল্পিত নির্বাচন। এতে সরকার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, আমরা ইচ্ছে করলেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়ী করতে পারতাম। সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়লাভ করেছে।

গত ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বোস্টনে নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সাইফুল-টিটু পরিষদ জয়লাভ করায় তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথি ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, প্রবাস রাজনীতিতে বোষ্টন হতে পারে গণতন্ত্র চর্চার মাইল ফলক।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দলে একবার একটি কমিটি হলে সেটা টেনে হিচঁড়ে ৮/১০ বছর ধরে চালানো হয়। কিন্তু বোস্টনে বিএনপি ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন করে একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এ প্রক্রিয়াই হল প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা। বোস্টনের পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে একই পন্থায় নির্বাচনর মাধ্যমে কমিটি করে প্রবাসের সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করে বেগম জিয়া ও তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি ও প্রধান বক্তার বক্তব্যে নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি কাজী নুরুজ্জামান ৪৬ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৭১ সালের একটি ঘটনার স্মৃতিচারন করে বলেন, ওই সময় কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঢাকার রাজারবাগে আড্ডা দিতাম। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সবসময়ই খুবই উদগ্রিব থাকতাম। ২৭ মার্চে একজন এনজিও কর্মি এসে আমাদের আড্ডায় যোগ দেন। ভদ্রলোক এসেই বলেন, একটি ভালো খবর আছে। ওই সময় তাঁর হাতে একটি রেডিও ছিল। তিনি নব ঘুরাতে ঘুরাতে হঠাৎ কালুর ঘাট নামের একটি রেডিও স্টেশন পেলেন। ওই স্টেশন থেকে বারবার শোনা যাচ্ছে, আমি জিয়া বলছি। আমরা দেশ স্বাধীন করার জন্য সংগ্রাম শুরু করেছি। দেশের সেনাবাহিনীসহ সকলকে তিনি নির্দেশ দিলেন পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। তারপরও আওয়ামী লীগ নির্লজ্জের মতো বলে বেড়ায় জিয়াউর রহমানের আগে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রামের অন্য কেউ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। কোন রেডিওতে তা প্রচারিত হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। কেউ যদি লিভিংরুম কিংবা বেডরুমে বসে কোনো ঘোষণা দেন, সেটা কি স্বাধীনতার ঘোষণা হবে?

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি দলের উপদেষ্টা কাওসারুল হক, মনিরুল হাসান, দেওয়ান মনির উদ্দিন ও কাজী জাহিদুল হাসান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরান তেলাওয়াতের পর জাতীয় ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতাও পালন করেন উপস্থিত দর্শকরা।



মন্তব্য