kalerkantho


নিউ ইয়র্কে বরফ বৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্বীকৃতির শোভাযাত্রা!

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:৪৯



নিউ ইয়র্কে বরফ বৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্বীকৃতির শোভাযাত্রা!

নিউ ইয়র্কে বরফ বৃষ্টিতেই অনুষ্ঠিত হলো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বীকৃতির আনন্দ শোভাযাত্রা। গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয় অ্যাস্টোরিয়ার এথেন্স পার্কে এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এ আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করেন।

বরফের বৃষ্টির মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখরিত এই আনন্দ শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ মিশন ও কনস্যুলেট এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাসহ প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, এনডিসি।

জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণকে পটভূমিতে রেখে তার উপর লাল-সবুজের উড্ডীন জাতীয় পতাকা অঙ্কিত ব্যানার, জাতীয় পতাকা, ফেস্টুন, বেলুনসহ নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দ এবং মিশন ও কনস্যুলেট এর কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যখন পার্ক এলাকা প্রদক্ষিণ করেন তখন সেখানে তৈরি হয় ভিন্ন রকম একটি আবহ। শোভাযাত্রার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া পথচারি ও যানবাহনের যাত্রীগণ, নিরাপত্তাকর্মী অনেকেই থমকে দাঁড়ায়। তারা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং কনসাল জেনারেল শামীম আহসানসহ উপস্থিত কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এ উপলক্ষ্যে প্রদত্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণীর বিভিন্ন অংশ পালাক্রমে পড়ে শোনান। রাষ্ট্রদূত এ সময় বলেন 'জাতির পিতার ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল। যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ইউনেস্কো থেকে নেওয়া হয়েছে, তা এ রকম আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারি'। আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, 'জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণের এই স্বীকৃতি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই ভাষণ আর বাংলাদেশের ভূখন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সারা পৃথিবীর মানুষের অনুপ্রেরণা দানকারী একটি দলিলে পরিণত হয়েছে যা মানুষকে জাগ্রত রাখবে তাদের দাবী আদায়ের ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছতে'। 

এ সময় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক শ্লোগানে মুখরিত হয় এস্টোরিয়ার এথেন্স পার্ক। ৭ মার্চের ভাষণ ১৯৭১ এর দিনগুলোতে মুক্তিকামী মানুষদের কতটা প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল তা উপস্থিত প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দের মধ্যে ফুটে ওঠে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতার দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে। 

অপর দিকে, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্বীকৃতির সরকারি এ শোভাযাত্রা নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দরা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে কমপক্ষে দু’সপ্তাহের আবহাওয়ার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন এই দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়ার দিনটিকে বেছে নিয়েছেন তা কারও কাছেই পরিস্কার নয়। ঐদিন বরফ বৃষ্টি না হলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বীকৃতির আনন্দ শোভাযাত্রায প্রবাসীদের উপস্থিতি আরও তিনগুন বেড়ে হতো বলে তাদের ধারণা।



মন্তব্য