kalerkantho


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সভা

মানব পাচারের বৈশ্বিক অভিশাপ প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২৬



মানব পাচারের বৈশ্বিক অভিশাপ প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

মানব পাচারের বৈশ্বিক অভিশাপ প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার  নিরাপত্তা পরিষদে ‘ট্রাফিকিং ইন পার্সন ইন কনফ্লিক্ট সিচুয়েশন: ফোর্স লেবার স্লাভেরি অ্যান্ড আদার সিমিলার প্রাক্টিস’ ‘বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের একটি উন্মুক্ত বিতর্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এ কথা উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির ফলেই বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে এই বৈশ্বিক অভিশাপ প্রতিরোধে ব্যাপক আইনগত, নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরেছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নে ২০১৫-২০১৭ মেয়াদে জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্ম পরিকল্পনার আওতায় জেলা, উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে নিয়মিতভাবে এ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ ও পারস্পরিক সমন্বয় চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের সামর্থ্য আরও বৃদ্ধি করতে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, কার্যকর তথ্য প্রচারণা কৌশল, বিচার প্রক্রিয়া ও মানব পাচারের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি’। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইউএন  কনভেনসন এগেইনেষ্ট ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইমস’-এর সদস্য। মানব পাচারের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ সকল পক্ষের সাথেও বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে সার্ক ও বিমসটেকের আওতায় মানবপাচার প্রতিরোধ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ বৃদ্ধির উপরও জোর দিয়েছি’।

সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মানব পাচার প্রতিরোধে স্থায়ী প্রতিনিধি এ সভায় পাঁচটি পরামর্শ তুলে ধরেন। এগুলো হল: ক) মানব পাচার সংক্রান্ত বিষয় পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য জাতিসংঘ একটি উচ্চ পর্যায়ের ফোকাল পয়েন্ট তৈরি করা, খ) সংঘাতময় পরিস্থিতিসহ যেকোন পরিস্থিতিতে মানব পাচার এবং এ সংশ্লিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গকে জাতিসংঘ কাউন্টার ট্রাফিকিং এজেন্ডার পুরোভাগে স্থান দেওয়া, গ) UNTOC এর আওতায় জাতীয় পর্যায়ে আইনগত পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, ঘ) মানব পাচার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনগত বিষয়াদি ও বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান এবং ঙ) মানব পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের মূল কারণ খুঁজে বের করা।

মানব পাচার, দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রমবৃত্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ-সমন্বিত যে কোন পদক্ষেপকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সকল সদস্য রাষ্ট্রের সাথে একযোগ কাজ করে যাবে মর্মে রাষ্ট্রদূত আবারও প্রতিশ্রুতি দেন।


মন্তব্য