kalerkantho


মধ্যপ্রাচ্যে দেশীয় পণ্যসামগ্রীর বড় বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত

এম. আবদুল মন্নান, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ২০:৪৫



মধ্যপ্রাচ্যে দেশীয় পণ্যসামগ্রীর বড় বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত

দেশে আমরা স্বদেশ প্রেম ও স্বদেশি পণ্য সামগ্রীর ব্যাপারে কিছুটা হলে ও কমবেশি উদাসীন থাকি। কিন্ত প্রবাসে স্বদেশ প্রেম ও দেশীয় পণ্য সামগ্রীর প্রতি প্রতিটি প্রবাসীর অধীর আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

আর  দেশীয় পণ্য সামগ্রীর প্রতি প্রবাসীদের ব্যাপক চাহিদার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি পণ্য সামগ্রীর একটি উজ্জ্বল  সম্ভাবনাময় বাজার হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পণ্যের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যমান সমস্যা দূর করাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে আমিরাত হতে পারে বাংলাদেশি পণ্য আমদানী কারক দেশগুলির মধ্যে একটি অন্যতম দেশ। বর্তমানে সংযু্ক্ত আরব আামিরাত বসবাসকারী প্রায়  ১০ লাখের বেশী বাংলাদেশি সর্বদা ব্যাকুল থাকেন স্বদেশের পণ্য সামগ্রী ক্রয় তথা ব্যবহারের জন্য। প্রবাসীদের এ চাহিদা পূরণে যে দু’চারটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত আরব আমিরাতে মালামাল আমদানি করছে তারা মূলত  প্রবাসী বংলাদেশিদের চাহিদার একটা ক্ষুদ্রতম অংশই পুরণ করতে পারছে।

হাতে গোনা যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি পণ্য আমদানি করছে তারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছে মতো নির্দিষ্ট এলাকার দোকান ও সুপার মার্কেটে সরবরাহ করে  থাকে এবং পণ্যের দাম নির্ধারণ করছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছে থাকা সত্বেও প্রবাসীদের ক্রয় সীমার বাইরে বা নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে নিজ দেশের পণ্য। ফলে বাধ্য হয়েই প্রবাসীরা ক্রয় করছে ভীনদেশ তথা ভারত, চীন ও পাকিস্তানি পণ্য। আর বাংলাদেশ হারাচ্ছে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলাদেশি পণ্য সামগ্রীর মধ্যে ব্যবহার্য্য পণ্য যেমন  জামা –কাপড় শাড়ি, জুতা স্যান্ডেল, পাটের ব্যাগ, খাদ্র দ্রব্য যেমন শাক সবজি, ফল মূল, মুড়ি বিস্কুট, মরিচ মসল্লা, তেল, চাপাতা, হিমায়িত মাছ-মাংস ও শুটকি, ঘর সাজানোর  মাটি-কঁ।

চ ও সিরামিকের তৈরী বিভিন্ন জিনিষপত্র, ইলেকট্রিক ও পাইপফিটিংসের জিনিসপত্র উল্লেখযোগ্য।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পণ্য  আমদানি -রপ্তানি ব্যবসার এ ক্ষেত্রটি সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও। তেমনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাও সম্যক অবগত নন বাংলাদেশি পণ্য সম্পর্কে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী যোগান অপ্রতুল এবং সে কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি পণ্য মূল্যেরও তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।   উলেখ্য যে দুবাই  আমিরাতের  বাণিজ্যিক রাজধানী ও ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র হলেও দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে তেমন কোনও জোরালো ভূমিকাও লক্ষ্য করা যায় না। এমন কি আবুধাবি দূতাবাসেরও এ ব্যাপারে তেমন কোনও উদ্যোগ চোখে লাগার মতো নেই।
নেই  সরকারিভাবে বাংলাদেশি পণ্য সামগ্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি করার কোনও সুনিদিষ্ট নীতিমালা। যে সমস্ত বাংলাদেশি পন্য সামগ্রী  এখানে আসছে বা প্রবাসীরা পাচ্ছ তা ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত উদ্যোগে বা বেসরকারি উদ্যোগে আসছে। বাংলাদেশি পণ্য সামগ্রী রপ্তানিতে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ মেলা, সেমিনার, বাণিজ্যিক দলের সফরের মতো কার্যক্রম বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত ।

সংযুক্ত আারব আমিরাতে বাঙালি/বাংলাদেশি অধ্যুষিত মার্কেট গুলোতে কতগুলো বাংলাদেশি পণ্যের অন্যান্য দেশের পণ্যের চেয়ে সস্তা ও উত্তম । আবার কতগুলো পণ্য বাংলাদেশ থেকে আমদানীকৃত পণ্যের  সাথে স্থানীয় ভাবে উৎপদিত ও পাশ্ববর্তী দেশ থেকে আমদানীকৃত পণ্যে মূল্যের মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য। আবার একই পণ্য বাংলাদেশের বাজারের সাথে আরব আমিরাতের মার্কেটে ব্যাপক পার্থক্য। বাংলাদেশি এ সব মার্কেট গুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের বিপুল সমাহার লক্ষনীয়। শাক-সব্জি, আম ,কাঠাল, হিমায়িত মাছ, চাল, তেল, মুড়ি, গুড়, চানাচুর, সেমাই, বিস্কুট, সাবান, জুস, জামা কাপড়, টুপি-লুংগি, মরিচ মসল্লা কি নেই এসব মার্কেটে। কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে দাম ও মানের বিষয়টিতে। প্রতিদিন মার্কেট গুলোতে প্রচুর সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রেতাদের ভীড় থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এ সব পণ্য সামগ্রী তাদের হাতে সুলভে তুলে দেয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় বলে অনেক প্রবাসী ব্যবসায়ীরা জানায়। কারণ হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে আসা পণ্যগুলোর উচ্চমূল্য।

আবার আমিরাতের প্রতিটি এলাকায় নামকরা সব দোকান, সুপার মার্কেট ও হাইফার মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য সামগ্রী পাওয়া যায় না। ফলে অনেক প্রবাসীর নিতান্তই ইচ্ছে থাকা সত্তেও তাঁরা নিজ দেশের পণ্যগুলো কিনতে পারছে না । তবে আশার কথা যে, ইদানীং বাংলাদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি পণ্য সামগ্রী আরব আমিরাতের  প্রতিটি এলাকায়  কিছুটা  হলে ও সরবরাহ করছে  বা সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে তাদের মধ্যে প্রাণ গ্রুপ ও ওয়েল ফুড গ্রুপ উল্লেখযোগ্য। যা অনেক প্রবাসী তাদের আকাঙ্ক্ষার সামান্যতম অংশ হলেও পূরণ করতে সম্মত হচ্ছে। যদি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করে এবং সরকারি –বেসরকারি উদ্যোগে দেশীয় পণ্য সামগ্রী আমিরাতে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি পণ্যের  অন্যতম বাজারে পরিণত হবে ।


মন্তব্য